চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

৯ জানুয়ারি, ২০২৩ | ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ

ইফতেখারুল ইসলাম

গরু বিক্রি করে খরচ মেটাচ্ছে খামারিরা

একসময় খামারে শতাধিক গরু ছিল। এখন প্রতিদিন দুধ বিক্রির সাথে প্রতিমাসে গরুও বিক্রি করি। নতুবা শ্রমিকের বেতন এবং গো-খাদ্যের দোকানের অর্থ পরিশোধ করা যায় না। আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন হাটহাজারীর শিকারপুর এলাকার প্রবীণ দুগ্ধ খামারি মাওলানা মোহাম্মদ ওমর ফারুক। তিনি বলেন, তার খামারে গরুর সংখ্যা কমতে কমতে এখন ৩৫টিতে ঠেকেছে। এভাবে চলতে থাকলে খামার বিলীন হতে আর বেশিদিন লাগবে না।

 

এর কারণ জানতে চাইলে ওমর ফারুক বলেন, মাসে তিনি দুইবার গো-খাদ্য কিনেন। গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর তিনি যে খাবার কিনেছিলেন ৫২ হাজার ৯০০ টাকায়। গত ২৭ ডিসেম্বর তা কিনতে হয়েছে ৮৬ হাজার ২০০ টাকায়। অথচ এই সময়ের মধ্যে তার খামারে গরুর সংখ্যা কমেছে। বর্তমানে তার খামারে দুধের উৎপাদন খরচ ৮০ টাকার উপরে পড়ছে উল্লেখ করে বলেন, অথচ তিনি দুধের পাইকারি দর পান লিটার ৬৫ টাকা।

 

খামারিদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, ২০১৯ সালে আটা কুঁড়োর কেজি ছিল ১৪ টাকা। যা বর্তমানে কিনতে হচ্ছে ৩৪ টাকায়। এই সময়ে গমের ভূষির দাম কেজি ২১ টাকা থেকে হয়েছে ৫৭ টাকা। সয়াবিনের খৈলের দাম ৩৪ টাকা থেকে বেড়ে কেজি ৭৩ টাকা হয়েছে। মসুর ভূষি কেজি ১০.৭৫ টাকা থেকে বেড়ে ৩৮ টাকা হয়েছে। যে কারণে খামারিরা টিকতে পারছে না।

 

পতেঙ্গা এলাকার বৃহৎ দুগ্ধ খামার মোল্লা ডেইরির সত্ত্বাধিকারী মো. হানিফ পূর্বকোণকে জানান, গত ২৯ আগস্ট পাতা ভূষি কিনেছিলেন কেজি ৩৮ টাকা। গত ২ জানুয়ারি একই পণ্য কিনেছেন কেজি প্রায় ৫৪ টাকায়। অর্থাৎ চার মাসের ব্যবধানে কেজিতে দাম বেড়েছে প্রায় ১৬ টাকা। এভাবে প্রতিটি আইটেমের দাম বেড়েছে। বছরের ব্যবধানে কোন কোন আইটেমের দাম দ্বিগুন হয়েছে।

 

তিনি জানান, বছর দুয়েক আগেও তার খামারে ৬ শতাধিক গরু ছিল। এখন ৩’শতে ঠেকেছে। দুধের উৎপাদন ব্যয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেহেতু তিনি একসাথে বেশি খাদ্য কিনেন তাই তুলনামূলকভাবে তার কিছুটা সাশ্রয় হয়। বর্তমানে প্রতি লিটার দুধ উৎপাদনে তার খরচ হচ্ছে ৬৩ টাকার উপরে। তবে তিনি মিষ্টির দোকানে দুধ বিক্রি করেন লিটার ৬২ টাকা। তাই প্রতিনিয়ত গরু বিক্রি করতে হচ্ছে।

 

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, খামারিরা অন্য পেশাজীবীদের ন্যায় সুসংগঠিত নয় বলেই সরকার এই খাতকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না। অথচ সরকারের খামারিবান্ধব নীতির কারণেই দেশের আনাচে-কানাচে দুগ্ধ খামার গড়ে উঠেছে। এখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ নানা অজুহাতে গো-খাদ্যের দাম এতবেশি বেড়েছে যে কারণে খামারিরা টিকতে পারছে না। এ বিষয়ে তিনি সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

 

গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে খামারিরা বিপাকে পড়ার কথা স্বীকার করে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. দেলোয়ার হোসেন পূর্বকোণকে জানান, আমাদের দেশে গো-খাদ্যের উপকরণসমূহ আমদানি নির্ভর। করোনা মহামারীর পর ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে দাম কিছুটা বেড়েছে।

পূর্বকোণ/আরএ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট