চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

৯ জানুয়ারি, ২০২৩ | ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ

নাজিম মুহাম্মদ

৮ বছর পার, অঞ্জলী রানী হত্যার রহস্য অন্ধকারেই

আট বছরেও কোন কুলকিনারা হয়নি অঞ্জলী রানী দেবী হত্যার। অঞ্জলী চট্টগ্রাম নার্সিং কলেজের শিক্ষিকা ছিলেন। ২০১৫ সালের ১০ জানুয়ারি সকালে তাকে প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। হত্যায় অংশ নিয়েছিল চার যুবক। আগামীকাল অঞ্জলী হত্যার আট বছর এক সপ্তাহ পূর্ণ হবে। শিক্ষিকা অঞ্জলী রানী দেবী হত্যাকাণ্ডের আট বছর অতিবাহিত হচ্ছে। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ড কারা ঘটিয়েছে তা এখনো অজানায় রয়ে গেছে।

 

২০১৫ সালের ১০ জানুয়ারি সকালে নগরীর পাঁচলাইশ থানার তেলিপট্টি লেইন এলাকায় চট্টগ্রাম নার্সিং কলেজের শিক্ষিকা অঞ্জলী রানী দেবীকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। হত্যাকাণ্ডের দিন বিকালে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন তার স্বামী ডা. রাজেন্দ্র চৌধুরী। থানা, গোয়েন্দা পুলিশ ঘুরে বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

 

হত্যাকাণ্ডের ছয় মাস পর পটিয়ার এক মাদ্রাসা কর্মকর্তাকে আটক করে এই মামলায় হেফাজতে নিয়েছিল পুলিশ। অঞ্জলী হত্যাকাণ্ডে জড়িত এমন সন্দেহে এ পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন, জেএমবি নেতা এরশাদ হোসেন, শফিকুল ইসলাম, মোসাবিরুল আলম এহতেশামুল হক ভোলা. মো. আবু সাঈদ ও মো.রেজা। তবে এখনও হত্যাকাণ্ডের কারণ জানতে পারেনি পুলিশ।

 

তবে ‘পরিকল্পিত’ এই হত্যাকাণ্ডটি পেশাদার খুনিদের হাতেই হয়েছিল বলে শুরু থেকেই ধারণা করছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা বদল হয়েছে দশবার। সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে আছেন পিবিআই’র পরিদর্শক (মেট্রো) মোজাম্মেল হক। পিবিআই’ও এ হত্যার কোন রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। পুলিশ সদর দপ্তরের আদেশে একমাস আগে মামলাটির তদন্তভার দেয়া হয়েছে ঢাকার এন্টি টেরোরিজম ইউনিটকে।

 

হত্যাকাণ্ডে চারজন অংশ নিয়েছিল বলে প্রথম থেকেই নিশ্চিত হয়েছিল পুলিশ। তাদের কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। এদিকে আট বছরেও মামলার কোনো কুলকিনারা না হওয়ায় তদন্ত নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী রাজেন্দ্র চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘শুধু হচ্ছে হবে বলা হচ্ছে। কিন্তু আট বছর ধরে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এমনকি হত্যাকাণ্ডের পরপর আমাকে যে টেলিফোনে হুমকি দেয়া হয়েছিল সেটা নিয়েও একটি মামলা করেছিলাম। সে মামলাটির বিষয়েও কিছু করতে পারেনি পুলিশ।’

 

রাজেন্দ্র বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হলে ওরা আমাকে ডাকে। গিয়ে দেখা করে আসি। অঞ্জলীর দুই মেয়ে এখন সরকারি চিকিৎসক।

 

নগরীর বাসা ছেড়ে চলে গেছেন তিনি নিজেও। তিনি এখন মেহেরপুরে থাকেন। সেখানে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করছেন। দুই মেয়ের একজন সিলেটে, একজন দিনাজপুরে কর্মরত রয়েছেন। ওনাদের মা যখন মারা যায় তখন দুই মেয়ে ইন্টার্নি করছিলেন। কিন্তু মেয়েদের সাফল্য দেখে যেতে পারেনি’।

 

রাজেন্দ্র আরো বলেন, জীবনের পড়ন্ত বেলায় একাকী থাকতে হয়। অনলাইনে খাবার এনে খেতে হয়। জীবনের কঠিন সময় পার করতে হচ্ছে।।

 

তিনি বলেন, আমার ৬৮ বছর বয়স হয়েছে। শারীরিকভাবে অসুস্থ। আগে মাস তিনেক পরপর চট্টগ্রাম গেলেও এখন অনলাইনে পেনশন নিতে পারায় সুবিধা হয়েছে। পেনশনের কারণে বছরে দুই বার আসতে হয়।

 

পূর্বকোণ/আরএ

 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট