চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

৮ জানুয়ারি, ২০২৩ | ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ

ইমরান বিন ছবুর

সিডিএ’র নতুন আবাসন প্রকল্প বায়েজিদ হাউজিং

প্রায় এক যুগ পর নতুন আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। নগরীর বায়েজিদ লুপ রোড সংলগ্ন এলাকায় ১৩ একর জায়গায় এই আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। যেখানে ব্যয় হবে প্রায় ২৮০ কোটি টাকা। ‘বায়েজিদ হাউজিং’ নামের এই আবাসন প্রকল্পে থাকবে শতাধিক আবাসিক প্লট এবং ১৫টি বাণিজ্যিক প্লট। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রতি কাঠা আবাসন প্লটের দাম পড়তে পারে প্রায় ৪০ লাখ টাকা এবং বাণিজ্যিক প্লটের প্রতি কাঠার দাম হবে প্রায় এক কোটি টাকা।

 

গত বছর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে প্রকল্পটির ডিটেইল প্রজেক্ট প্ল্যান (ডিপিপি) পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পের কয়েকটি সংশোধনী দিয়েছে মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের কোন পাহাড় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কিনা তা তদন্ত করতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব উন্নয়নকে প্রধান করে একটি কমিটিও গঠন করে মন্ত্রণালয়। প্রকল্প সংশোধন করে আগামী এক মাসের মধ্যে প্রকল্পের সংশোধিত ডিটেইল প্রজেক্ট প্ল্যান (ডিপিপি) গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে জানান প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। সিডিএ সূত্র জানায়, নগরীর আবাসন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ১২টি আবাসিক প্রকল্পে প্রায় ৬ হাজার ৬৬০টি প্লট বরাদ্দ দিয়েছে। ২০০৮ সালে অনন্যা আবাসিক নামের সর্বশেষ আবাসন প্রকল্প গ্রহণ করে সিডিএ।

 

এছাড়া, ২০০৮ সালে এছাড়া নগরীর কাজীর দেউড়ি এলাকায় একটি এপার্টমেন্ট ভবন নির্মাণ করেছে যেখানে ৬৪টি ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সিডিএ ঢাকা ট্রাংক রোড হতে বায়েজিদ বোস্তামি রোড পর্যন্ত সংযোগ সড়ক (লুপ রোড) সংলগ্ন ১৩ একর জমির উপর ‘বায়েজিদ হাউজিং প্রকল্পের উন্নয়ন লুপ রোড সংলগ্ন’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে। উক্ত প্রকল্পের আওতায় তিন, চার ও পাঁচ কাঠার আবাসিক প্লট থাকবে। আবাসিক প্রকল্পের পাশাপাশি প্রকল্পে থাকবে ১৫টি বাণিজ্যিক প্লট। এছাড়াও এ প্রকল্পে সবুজ বেষ্টনি, কৃত্রিম হ্রদ, খেলার মাঠ ইত্যাদি।

 

জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক কাজী কাদের নেওয়াজ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সিডিএ’র কোন আবাসন প্রকল্প না থাকায় চেয়ারম্যানের দিক নির্দেশনায় বায়েজিদে একটি আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে সিডিএ। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রথমে ২০ একর জায়গা নির্ধারণ করা হলেও ১৩ একর জায়গার উপর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। বাকি ৭ একর জায়গা বর্তমানে সমতল হলেও খতিয়ানে এসব জায়গা পাহাড় হিসেবে চিহ্নিত থাকায় মন্ত্রণালয়ের আপত্তি রয়েছে।

 

তিনি আরো বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবকে প্রধান করে একটি কমিটিও গঠন করেছে মন্ত্রণালয়। কমিটির সদস্যরা সম্প্রতি প্রকল্প বাস্তবায়নের জায়গা পরিদর্শন করেছেন। তারাও নির্দেশনা দিয়েছেন খতিয়ানে পাহাড় থাকা জায়গা বাদ দিয়ে বাকি জায়গায় প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে। আগামী এক মাসের মধ্যে প্রকল্পের সংশোধিত ডিটেইল প্রজেক্ট প্ল্যান (ডিপিপি) গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। যেখানে আবাসিকে কাঠার দাম পড়বে প্রায় ৪০ লাখ এবং বাণিজ্যিক প্লটের প্রতি কাঠার দাম হবে প্রায় এক কোটি টাকা।

 

সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শাম্স বলেন, প্রায় ১৩ বছর ধরে সিডিএ’র কোন আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়নি। আমাদের মাস্টারপ্ল্যানে নির্দেশনা রয়েছে, প্রতিবছর ৫০ হেক্টর জায়গায় প্ল্যান এরিয়া করার জন্য। আবাসিক এলাকাকে মূলত প্ল্যান এরিয়া বলা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে যদি কোন প্ল্যান এরিয়া বাস্তবায়ন করা না হয়, পুরো শহর অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠবে।

 

তিনি আরো বলেন, নগরীর বায়েজিদ লুপ রোড সংলগ্ন এলাকায় ১৩ একর জায়গায় ‘বায়েজিদ হাউজিং’ নামের একটি আবাসন প্রকল্প বাস্তয়ানের উদ্দেশ্যে কাজ করছি। গত বছর প্রকল্পের ডিপিপি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। মন্ত্রণালয় কিছু সংশোধনী দিলে আমরা তা সংশোধন করে আগামী এক মাসের মধ্যে প্রকল্পের ডিপিপি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠাবো।

 

প্রকল্পের জায়গায় সিডিএ’র নিজস্ব তিন একর জায়গা রয়েছে জানিয়ে প্রধান প্রকৌশলী আরো বলেন, ওই জায়গার অধিকাংশ জমি খাস। এছাড়াও সিডিএ তিন একর এবং কিছু ব্যক্তিগত জায়গা রয়েছে। যেগুলো জেলা প্রশাসন (ডিসি) অফিসের মাধ্যমে অধিগ্রহণ করতে হবে। প্রকল্পের অনুমোদন পেলেই ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ডিসি’র কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে।

 

পূর্বকোণ/আর

 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট