চট্টগ্রাম বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

সর্বশেষ:

৬ জানুয়ারি, ২০২৩ | ২:৩৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

নতুন চাল বাজারে, বস্তাপ্রতি দাম কমেছে ২৫০ টাকা

গত ডিসেম্বর থেকে বাজারে আসতে শুরু করেছে আমন ধান ও নতুন চাল। আমনের এই ভরা মৌসুমের সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়েও চাল আমদানি বেড়েছে। বাজারে নতুন আসা এবং আমদানি বাড়ায় দেশে চালের মজুত বাড়ানোর কারণে কিছুটা কমেছে চালের দাম। ৫০ কেজি ওজনের প্রতি বস্তায় দাম কমেছে আড়াইশ’ টাকা পর্যন্ত।

পাহাড়তলী বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এসএম নিজাম উদ্দিন পূর্বকোণকে বলেন, ‘চলতি মৌসুমে আমনের ভালো ফলন হয়েছে। গত মাস (ডিসেম্বর) থেকে বাজারে নতুন চাল এসেছে। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারিভাবেও প্রচুর চাল আমদানি করা হয়েছে। দেশীয় মজুদ বাড়ানোর কারণে চালের দাম বস্তাপ্রতি দুই থেকে আড়াইশ টাকা কমেছে।’

 

খাদ্য বিভাগ জানায়, দেশে এখন চালের সংকট নেই। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য পরিস্থিতির বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবারের হিসাব বলছে, সরকারিভাবে খাদ্যগুদামে ১৮ লাখ ২৭ হাজার ৮৭ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। এরমধ্যে চালের মজুত ১৪ লাখ ৬০ হাজার ৭২২ টন। গমের মজুত তিন লাখ ৬৫ হাজার ৫৯৩ টন। ধানের মজুত ১১৬২ টন।

করোনা মহামারীর পর থেকে দেশে চালের বাজারে অস্থিরতা চলে আসছে। চালের শুল্ক কমানো এবং সরকারি-বেসরকারিভাবে চাল আমদানি উদ্যোগের পরও বাজার স্থিতিশীল করতে পারেনি সরকার।

পাহাড়তলী বণিক সমিতির সহ-সভাপতি মো. জাফর আলম বলেন, ‘বাজারে নতুন চাল আসা এবং প্রচুর পরিমাণে চাল আমদানি হওয়ায় বাজারে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে দেশীয় এবং আমদানি করা চালের দাম ক্রমান্বয়ে কিছুটা কমতির দিকে রয়েছে।’

চালের পাইকারি মোকাম পাহাড়তলী ও চাক্তাই বাজার ঘুরে দেখা যায়, দেশীয় আতপ চাল বস্তাপ্রতি ২২শ টাকা থেকে কমে ১৯৮০ বা দুই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইরি সিদ্ধ ২৩শ টাকা থেকে ২১শ বা ২১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গুটিসিদ্ধ ২৪শ টাকা থেকে কমে ২২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। স্বর্ণা সিদ্ধ ২৫শ টাকা থেকে কমে ২২৫০ ও ২৩শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নূরজাহান সিদ্ধ বস্তাপ্রতি ১৫০-২০০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ২২শ, ২২৫০ ও ২৩শ টাকায়। এছাড়াও চিনিগুঁড়া, জিরাশাইল, নাজিরশাইল, মিটিকেট চালের দামে বড় ধরনের হেরফের হয়নি।

চাল ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বড় মিলার, শিল্প গ্রুপ ও মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ীরা চালের মৌসুমে বাজার থেকে অতিরিক্ত ধান মজুত করে রাখে। আমন, বোরো ও আউশ-প্রতি মৌসুমেই এই ধরনের কারসাজি করে আসছে কর্পোরেট গ্রুপ, বড় মিলার ও ব্যবসায়ীরা। ফড়িয়া ও মধ্যস্বত্ব ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে ধান কেনে এসব গ্রুপ। ৫-৬ মাসের ধান এক মৌসুমেই সংগ্রহ করে রাখা হয়।

পাহাড়তলী বণিক সমিতির সহ-সভাপতি আলহাজ জাফর আলম বলেন, ‘প্রতি মৌসুমে কৃষকদের ঠকিয়ে মধ্যস্বত্ত্বভোগীরা ধান কিনে মজুত করে রাখেন। ভরা মৌসুমে দাম কমিয়ে কৃষকদের কাছ থেকে ধান-চাল হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীসময়ে কারসাজি করে চালের বাজার অস্থির করে তোলে।’

 

পূর্বকোণ/এএস

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট