চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

৪ জানুয়ারি, ২০২৩ | ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

ভোজ্যতেল-রবিশস্যের আবাদ বাড়ানোর বড় পরিকল্পনা

কৃষিতে বৈশ্বিক বৈরী পরিস্থিতির কারণে কৃষির উপর বেশি জোর দিচ্ছে সরকার। ধান, সবজি ও অন্যান্য ফসল উৎপাদনে বড় প্রণোদনা দিয়ে চাষাবাদ বাড়ানোর বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ধানের পর এবার তেলজাতীয় ফসল ও রবিশস্য আবাদ বাড়াতে সরকার সাত হাজার ৬৫০ জন কৃষককে প্রণোদনা দিচ্ছে।

 

কৃষি বিভাগ জানায়, ভোজ্যতেলের আমদানিনির্ভরতা কমাতে দেশে তেলজাতীয় ফসলের আবাদ বাড়ানোর বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে কৃষি অধিদপ্তর। এ লক্ষ্যে তিল, সূর্যমুখী ও চিনাবাদামের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা বাড়াতে তিন বছর মেয়াদি বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান পূর্বকোণকে বলেন, ‘রবিশস্য ও তেলজাতীয় ফসলের আবাদ বাড়ানোর জন্য ৭,৬৫০ জন কৃষককে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সংসদ সদস্য, উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় গণ্যমান্যদের সহায়তায় বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। এরফলে এবার তেল জাতীয় ফসলের আবাদ তিনগুণ বেড়েছে।’ ভোজ্যতেলের আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে দেশে কাঁচামালের উৎপাদন বাড়ানোর তিন বছরের বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

কৃষি বিভাগ জানায়, গম, ভুট্টা, সরিষা, সূর্যমুখী, চিনাবাদাম, খেশারি, মুগসহ রবিশস্য বাড়ানোর বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বিশেষ করে ভোজ্যতেল জাতীয় ফসল উৎপাদন বাড়ানোর বড় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরিষার আবাদ আর খরচ দুটোই কম হওয়ায় সরকার এ পরিকল্পনা নিয়েছে। নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনের ফলে শস্যটির ফলনও আগের চেয়ে বেড়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সরিষার উৎপাদন বাড়িয়ে দেশে ভোজ্যতেলের আমদানিনির্ভরতা এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

 

কৃষি বিভাগ জানায়, ২০১৪-২০১৫ মৌসুমে চট্টগ্রামে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৩৫১ হেক্টর জমি। ২০২২-২০২৩ সালে বিশেষ পরিকল্পনায় সরিষার আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ২৪শ হেক্টরে। একই সঙ্গে তেলজাতীয় ফসল তিল, সূর্যমুখী ও চিনাবাদামের আবাদ এবং উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়।

 

তিলের আবাদ ধরা হয় ৪৫ হেক্টর, সূর্যমুখীর আবাদ ১০৮ হেক্টর এবং চিনাবাদামের লক্ষ্য ধরা হয় ১৬৫২ হেক্টর জমিতে। এছাড়াও মুগ ৪০১৫ হেক্টর, খেশারি ২৫৯০ হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্য ধরা হয়। কৃষিবিদ আখতারুজ্জামান বলেন, আগামী তিন বছরে দেশে উৎপাদন ১২ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশে উন্নীত করার জন্য এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

 

পূর্বকোণ/আর

 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট