চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

২৯ ডিসেম্বর, ২০২২ | ১২:২৭ অপরাহ্ণ

ইমরান বিন ছবুর

অত্যাধুনিক গণশৌচাগার হচ্ছে পতেঙ্গা সৈকতে

অবশেষে নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে অত্যাধুনিক গণশৌচাগার (পাবলিক টয়লেট) নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। পতেঙ্গার মূল পয়েন্টের বাঁধের পূর্বপাশে গণশৌচাগার নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে প্রায় এক কাঠা জায়গা নির্বাচনও করা হয়েছে। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে বিনোদনের জন্য আসা পর্যটকদের ভোগান্তি দূর হচ্ছে অবশেষে। বেসরকারি সংস্থা ওয়াটার এইডের আর্থিক সহযোগিতায় কমলাপুর রেল স্টেশনের আদলে এই অত্যাধুনিক শৌচাগারটি নির্মিত হবে। যার রক্ষাণা-বেক্ষণ করবে দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ডিএসকে)। সিডিএ’র উদ্যোগে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতকে নতুন করে সাজানোর পর পর্যটকদের কাছে বিনোদনের অন্যতম মাধ্যমে রূপ নিয়েছে পতেঙ্গা।

 

 

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য মতে, বিশেষ দিন বা জাতীয় দিবসে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে দেড় লাখ লোকের সমাগম হয়। এছাড়া, শুক্রবার এক লাখের বেশি এবং দৈনিক ১০ হাজার মত লোকের সমাগম হয় পতেঙ্গা বিচে। প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকায় সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে। যেখানে ছুটির দিনে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হলেও সিডিএ বা সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে পর্যটকদের জন্য কোন গণশৌচাগার নির্মাণ করা হয়নি।

 

 

বিচের আশপাশের কয়েকটি মার্কেটে ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে শৌচাগার নির্মাণ করা হলেও এসব শৌচাগার স্বাস্থ্যসম্মত না হওয়ায় পর্যটকরা সেখানে যেতে চান না। অন্যদিকে, বিচ এলাকায় স্বাস্থ্যসম্মত কোন শৌচাগার না হওয়ায় অনেক পর্যটক অনিচ্ছা সত্তে¡ও যেতে বাধ্য হন। সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শাম্স বলেন, পতেঙ্গা বিচ এলাকায় পর্যটকদের জন্য একটি অত্যাধুনিক শৌচাগার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সিডিএ। ওয়াটার এইডের আর্থিক সহায়তায় প্রায় এক কাঠা জায়গার উপর এই শৌচাগার নির্মাণ করা হবে। সিডিএ’র বোর্ড সভায় যার অনুমোদন করা হয়েছে। ওয়াটার এইড সম্প্রতি গণশৌচাগারের একটি ডিজাইন আমাদের দিয়েছে। চেয়ারম্যান মহোদয় সম্মতি দিলে শীঘ্রই আমরা এমওইউ স্বাক্ষর করবো এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।

 

 

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, কমলাপুরের আদলে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হবে পতেঙ্গা বিচ সংলগ্ন এই গণশৌচাগার। দ্বিতল বিশিষ্ট এই গণ শৌচাগারে পুরুষের জন্য ৫টি টয়লেট, নারীদের জন্য ৩টি টয়লেট, নারীদের জন্য হাইজিন কর্নার, ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার, বার্থিংয়ের ব্যবস্থা, লকারসহ অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকবে। এছাড়াও, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ ওয়াশরুমে যাওয়ার জন্য হুইল চেয়ার থাকবে। অন্যদিকে, পর্যটকদের বিনোদনের জন্য ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি উন্নতমানের রেস্টুরেস্ট নির্মাণ করা হবে।

 

 

সিডিএ’র বোর্ড সদস্য ও নগর পরিকল্পাবিদ স্থপতি আশিক ইমরান বলেন, পতেঙ্গা বিচের মত একটি জায়গায় সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে কোন মান সম্মত গণশৌচাগার নির্মাণ করা হয়নি, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। ছুটির দিনে যেখানে লক্ষাধিক পর্যটন আসে। কিন্তু তাদের ওয়াশরুমে যাওয়ার সুযোগ নেই, চেঞ্জিং রুম নাই।

 

 

তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিন পরে হলেও সিডিএ যে এখানে গণশৌচাগার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে এটা সত্যি ভালো সংবাদ। অবশেষে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের দুর্ভোগ দূর হবে। সিডিএ এবং সিটি কর্পোরেশন ইচ্ছে করলে এই বিচকে আরো অনেক সুন্দর করতে পারে।

 

 

দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক আরেফাতুল জান্নাত বলেন, ওয়াটার এইডের সহযোগিতায় এবং দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে পতেঙ্গা বিচ এলাকায় একটি অত্যাধুনিক গণশৌচাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমরা সিডিএকে শৌচাগার ডিজাইনের একটি ড্রাফট দিয়েছি। এই ডিজাইনে সিডিএ সম্মতি দিলে কিছুদিনের মধ্যে আমরা এমওইউ করবো।

 

 

জানতে চাইলে পতেঙ্গা বিচের দোকান মালিক সমিতি সভাপতি মো. ওয়াহিদুল আলম মাস্টার বলেন, দৈনিক ১০ থেকে ১২ হাজার মানুষ পতেঙ্গা বিচে আসে। তবে শুক্রবার এক লাখের বেশি দর্শনার্থী আসেন। এছাড়া, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস বা বিশেষ দিবসগুলোতে পর্যটকদের সংখ্যা দাঁড়ায় দেড় লাখের উপর।

 

 

তিনি আরো বলেন, এত বিপুল পরিমাণ পর্যটকদের জন্য সিডিএ বা সিটি কর্পোরেশন কোন গণশৌচাগার তৈরি করেনি। বিচের তিনটি মার্কেটে ২৫টির মত শৌচাগার রয়েছে। এসব শৌচাগার মানসম্মত না হওয়ায় অনেকেই সেখানে যেতে চান না।

 

 

উল্লেখ্য, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ২০০৫ সাল থেকে পতেঙ্গা হতে ফৌজদারহাট পর্যন্ত বেড়িবাঁধ কাম আউটার রিং রোড নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করে। ২০০৭ সালে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে চুক্তি করে। দুই বার সংশোধনের পর বর্তমানে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪২৬ কোটি ১৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। এই প্রকল্পের আওতায় পতেঙ্গায় সাগরপাড়ে ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নির্মাণ করা হয়েছে পর্যটনকেন্দ্র।

 

পূর্বকোণ/আর

 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট