চট্টগ্রাম সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

২৯ ডিসেম্বর, ২০২২ | ১২:২১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রভাবশালীদের স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়ে খাল উদ্ধার করতে হবে

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, খালের জায়গা দখলকারী যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, স্থাপনা ভেঙে খালের জায়গা উদ্ধার করতে হবে। মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী আমাদের ৭২টি খাল ছিল, এখন মাত্র ৩৬টি খাল রয়েছে। বাকি খালগুলো দখল হয়ে গেছে। দখল হওয়া খালগুলো উদ্ধারের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

 

গতকাল “চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার মাস্টারপ্ল্যান (২০২০-২০৪১) প্রণয়ন” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ওয়ার্ড ভিত্তিক মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) কাউন্সিলরবৃন্দের সাথে অংশীজন সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এসব কথা বলেন। নগরীর আন্দরকিল্লা পুরাতন নগর ভবনের কে বি আব্দুস ছত্তার মিলনায়তনে অংশীজন সভায় চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শহীদুল আলমের সভাপতিত্বে ও প্রকৌশলী আশিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এম জহিরুল আলম দোভাষ।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র আরো বলেন, চট্টগ্রাম নগরীকে বাণিজ্যিক নগরী এবং পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিকল্পনা নিতে হবে। চট্টগ্রাম শহরকে আমরা নিজেরাই নষ্ট করছি। পাহাড় কেটে আবাসন ও হাউজিং নির্মাণ করছি। উন্নত দেশে পাহাড়েও ঘরবাড়ি হয় কিন্তু সেখানে পাহাড় নষ্ট করে না। ৯৫ সালের মাস্টারপ্ল্যান আমরা কতটুকু বাস্তবায়ন করতে পেরেছি? আবার মাস্টারপ্ল্যান হলেই যে পরিকল্পিত শহর গড়ে উঠবে এটা আমি বিশ্বাস করি না।

 

সিডিএ’র প্ল্যান অনুমোদনে চসিকের সংশ্লিষ্টতা থাকার উপর গুরুত্ব দিয়ে চসিক মেয়র রেজাউল করিম বলেন, সিডিএ’র যে কোনো প্ল্যান অনুমোদনে চসিকের সংশ্লিষ্টতা থাকার উপর গুরুত্ব দিতে হবে। তাহলেই অপরিকল্পিত নগরায়ন সৃষ্টি হবে না।

 

তবে শুধু পরিকল্পনা গ্রহণ করলে হবে না, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সকলকে আন্তরিক হতে হবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে খালের রিটেনিং ওয়াল করতে গিয়ে পানি চলাচলে যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে যার ফলশ্রুতিতে শুষ্ক মৌসুমেও বাকলিয়া, চান্দগাঁও এলাকায় ঘরবাড়ির উঠোন ও রাস্তাঘাট ময়লা পানিতে সয়লাব হয়ে যাচ্ছে তার প্রতি লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানান মেয়র।

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এম জহিরুল আলম দোভাষ বলেন, আগে যে মাস্টারপ্ল্যাগুলো হয়েছে, সেগুলো ঘরে বসে তৈরি করা হয়েছে। মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করতে গেলে ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের মতামত গ্রহণ অপরিহার্য। এবারের মাস্টারপ্ল্যানে শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, মসজিদের ইমাম, শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণি পেশার মানুষকে যুক্ত করা হচ্ছে। প্রত্যেক ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক অংশীজন সভা করা হবে। এ সভায় প্রত্যেক শ্রেণি পেশার মানুষের মতামত গ্রহণ করা হবে।

 

সভাপতির বক্তব্যে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শহীদুল আলম বলেন, মাস্টারপ্ল্যান পরিকল্পনায় হকার পুনর্বাসন, যানজট নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত বিষয়গুলো সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সকল সংস্থার সমন্বয় না হলে পরিকল্পিত উন্নয়ন কোনভাবেই সম্ভব নয়।

 

অংশীজন সভায় আরো বক্তব্য রাখেন প্যানেল মেয়র আফরোজা কালাম, কাউন্সিলর মোবারক আলী, আবুল হাসনাত মোহাম্মদ বেলাল, হাসান মুরাদ বিপ্লব, চসিক প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, মেয়রের একান্ত সচিব মো. আবুল হাশেম, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী আবু ঈসা আনছারী ও প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের টিম লিডার ড. আহসানুল কবির প্রমুখ। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে সভার আয়োজন করে।

 

পূর্বকোণ/আর

 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট