চট্টগ্রাম শনিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৩

সর্বশেষ:

২৫ ডিসেম্বর, ২০২২ | ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ষোলশহরে জলাবদ্ধতা প্রকল্পের জায়গার ২০ দোকান উচ্ছেদ

জলাবদ্ধতা প্রকল্পের কাজ করতে গিয়ে নগরীর ষোলশহর ভূমি অফিস সংলগ্ন এলাকা থেকে প্রায় ২০টি দোকান উচ্ছেদ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন বিগ্রেড। এসব দোকানের কারণে গত এক বছরের বেশি সময় ধরে এই এলাকায় কাজ করতে পারছেন না বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

 

চশমা খাল সংলগ্ন এলাকার এইসব দোকান বিভিন্ন জনের কাছে লিজ দিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় দোকানদাররা সেখান থেকে সরছেন না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে প্রকল্পের কাজ আটকে ছিল। ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে চসিকের পক্ষ থেকে এখনো কোন আশ্বাস দেয়া হয়নি বলে জানান ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদাররা।

 

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন বিগ্রেডের একটি টিম উচ্ছেদের জন্য গেলে দোকানদাররা শনিবার পর্যন্ত সময় চান। এরপর গতকাল শনিবার সকালে গিয়ে এসব দোকান উচ্ছেদ করেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। তবে এ কাজে দোকানদাররা সহযোগিতা করেন বলে জানান প্রকল্প পরিচালক।

 

ভুক্তভোগী জিহান ও নাহার এন্টারপ্রাইজের মালিক শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন আমলে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে এলে আমরা মেয়র বরাবর চিঠি দিই। তখন দোকানদারদের ক্ষতিগ্রস্ত না করে প্রকল্প কীভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব তা তিনি চিঠিতে সিডিএকে জানান। এরপর মেয়র সিটি কর্পোরেশন এবং সিডিএকে একটি যৌথ সার্ভে করার পরামর্শ দেন। কিন্তু এরমধ্যে আর সার্ভে করা হয়নি। গত ১৮ তারিখ হঠাৎ করেই আমরা জানতে পারি সিডিএ এখানে উচ্ছেদ করবে। আমরা তা তাৎক্ষণিক বর্তমান মেয়রকে তা জানাই। মেয়রও পরামর্শ দিয়েছেন সার্ভে করার জন্য। এরমধ্যে গত বৃহস্পতিবার সিডিএ থেকে লোকজন এসে আমাদের দোকান থেকে মালামাল সরানোর নির্দেশ দেন এবং গতকাল সকালে এসে ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কোন কিছু না জানিয়েই উচ্ছেদ অভিযান চালায়।

 

জানতে চাইলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন বিগ্রেড প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহ আলী বলেন, চশমা খালের কাজ সম্পূর্ণ শেষ না হওয়ায় দুই নম্বর গেট, মুরাদপুরসহ আশপাশের কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। দুই নম্বর গেট থেকে ষোলশহর ভূমি অফিস পর্যন্ত খাল প্রশস্ত করা হলেও এই অংশ প্রায় ২০টি দোকানের জন্য কাজ করতে পারছি না। এ ব্যাপারে আমরা সিডিএকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছি। আমাদের চিঠির প্রেক্ষিতে সিডিএ চসিককে জানালে গত এক বছরেও তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে গত শুষ্ক মৌসুমেও আমরা এই অংশে কাজ করতে পারিনি। এই বছরের শুষ্ক মৌসুমেও যদি কাজ করতে না পারি, তাহলে আগামী বছরও বর্ষায় দুর্ভোগ পোহাতে হবে।

 

তিনি আরো বলেন, দোকান সরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে প্রথম দিকে দোকানদাররা আপত্তি জানালেও পরে তারা আমাদের সহযোগিতা করেছে।

 

পূর্বকোণ/আর

 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট