চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

সর্বশেষ:

২১ ডিসেম্বর, ২০২২ | ২:২৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামে চতুর্থ ডোজের টিকাদানে সাড়া নেই

সারাদেশের মতো চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে করোনা চতুর্থ ডোজের টিকাদান কার্যক্রম। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে নগরী ও উপজেলায় টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। তবে অন্যান্য সময়ের মতো চতুর্থ ডোজের টিকা গ্রহণের ক্ষেত্রে কোন সাড়াই মেলেনি এবার।

 

এদিকে, চতুর্থ ডোজের টিকাদানের প্রথম দিনে চট্টগ্রামের ১০ উপজেলায় টিকা নিয়েছেন মাত্র ১০২ জন। তাও আবার পাঁচ উপজেলাতে একজনও টিকা গ্রহণ করেননি। নগরেও তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি দ্বিতীয় বুস্টারের টিকাদানে। সবমিলিয়ে এক হাজারও ছাড়িয়ে যায়নি চতুর্থ ডোজের টিকাদানের সংখ্যা। টিকাদানের এমন অবস্থার কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রচারণার অভাব এবং করোনার সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকায় মানুষের টিকার প্রতি আগ্রহ কমেছে।

 

জানা যায়, চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলা ও নগরীর ১১টি নিয়মিত কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম চলে। এরমধ্যে উপজেলার লোহাগাড়ায় সর্বোচ্চ ৩০ জনকে টিকাপ্রদান করা হলেও ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, কর্ণফুলী, পটিয়া ও মিরসরাই উপজেলায় একজনও টিকা গ্রহণ করেননি। বাকি উপজেলার মধ্যে আনোয়ারায় ৭ জন, বাঁশখালীতে ৮ জন, বোয়ালখালীতে ১২ জন, চন্দনাইশে ৬ জন, রাঙ্গুনিয়ায় ১২ জন, রাউজানে ১০ জন, স›দ্বীপে ১২ জন, সাতকানিয়ায় ১ জন, সীতাকুণ্ডে মাত্র ৪ জন টিকা গ্রহণ করেন।

 

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, ‘আগে যেভাবে গণটিকা দেওয়া হয়েছিল, এবার সেভাবে দেওয়া হচ্ছে না। আর এজন্যই অন্য সময়ের চেয়ে মানুষের উপস্থিতিও কম। তছাড়া প্রথম দিন হওয়ায় হয়তো সাড়া কম। এবার এসএমএস পাঠানো বা মাইকিং করা হয়নি। কয়েক দিন পর হয়তো টিকাগ্রহীতার সংখ্যা বাড়বে। তবে আমাদের কাছে পর্যাপ্ত সংখ্যক টিকা মজুদ আছে।’

 

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সাবেক সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘আগে মানুষের মনে ভয় ছিল। কিন্তু এখন আর সেটি নেই। যার কারণে টিকার প্রতিও আগ্রহ কমে গেছে। গুরুত্ব দিচ্ছে না। তবে এ নিয়ে হেলাফেলা করা উচিত নয়। সামনে করোনার মহামারি আসবে না, তার কোন গ্যারান্টি নেই। তাই আগে থেকেই সচেতনতার বিকল্প নেই।’

 

 

টিকাদানে বিলম্ব ‘ক্ষোভ ঝাড়লেন’ মেয়রও

ঘড়ির কাঁটা তখন সাড়ে এগারোটা। করোনার চতুর্থ ডোজের টিকার জন্য অপেক্ষায় ৭০ বছরের বৃদ্ধা রেখা ভট্টাচার্য্য। কিন্তু তখন টিকাদান কার্যক্রম শুরুই হয়নি। সকাল দশটা থেকে টিকা পাওয়ার জন্য অপেক্ষায় ছিলেন গোলাম রসুল নামে ষাটোর্ধ্ব আরেক বৃদ্ধ। তিনি সাড়ে ১১টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও গ্রহণ করতে পারেননি চতুর্থ ডোজের টিকা।

 

শুধু এ দু’জনের ক্ষেত্রেই নয়, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত জেনারেল হাসপাতালে (মেমন-২) গতকাল মঙ্গলবার করোনার চতুর্থ ডোজের টিকাদানে বিলম্বের ঘটনা ঘটে। যার কারণ, সিটি মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী টিকাদান কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরই দেয়া হবে সাধারণ মানুষের টিকা। আর এ কারণেই সাধারণ মানুষকে অপেক্ষা করতে হয় নির্ধারিত সময়ে এসেও ৩ ঘন্টা পর্যন্ত।

 

যদিও সাধারণ মানুষকে অপেক্ষা রেখে টিকাদানে বিলম্ব করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খোদ মেয়র নিজেই। বলেছেন, উদ্বোধনের জন্য সাধারণ মানুষকে অপেক্ষা করানোর বিষয়ে কোন নির্দেশনাই দেয়া হয়নি। বরং ব্যবস্থাপনায় হয়তো কোন অসংগতি ছিল। তবে এটি কোনভাবেই উচিত হয়নি বলেও জানান মেয়র।

 

জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রামসহ সারাদেশেই করোনার চতুর্থ ডোজের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে কার্যক্রম শুরু হয় টিকাদানের নিয়মিত কেন্দ্রগুলোতে। নগরীর চসিকের জেনারেল হাসপাতালে সকাল ৯টায় টিকাদান কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আনুষ্ঠানিকতা করা হয় সাড়ে ১১টার পর। সিটি মেয়র সংক্ষিপ্ত আলোচনার পর টিকাদান কার্যক্রম শুরু হতে হতে ঘড়ির কাঁটা তখন প্রায় ১২টা পার হয়ে যায়। মেয়রের টিকাদানের পরপরই সাধারণ মানুষকে টিকা দেয়া হয় এদিন। তবে উদ্বোধনের পর সুশৃঙ্খলভাবে চলে টিকা কার্যক্রম। যাতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন সাধারণ মানুষ।

 

টিকাদান দেরিতে শুরু হওয়া কিংবা টিকা প্রদানে কোন নিষেধ ছিল কি না এমন প্রশ্ন করলে সাংবাদিকদের মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘সেরকম কোন নির্দেশনা আমাদের ছিল না। থাকারও কোন প্রশ্নই আসে না। হয়তো সিস্টেমের বাইরে গেলে হয়তো কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হতে পারে। এছাড়া কিছুই না। তবে এটি কোনভাবেই উচিত হয়নি।’

 

পূর্বকোণ/আর

 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট