চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

১০ ডিসেম্বর, ২০২২ | ১২:২০ অপরাহ্ণ

ইমরান বিন ছবুর

মাধ্যমিকের বই এসেছে ১৫% প্রাথমিকের আসেনি একটিও

আর ২২ দিন পরই আসবে নতুন বছর। নতুন বছর মানেই নতুন শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে নতুন বই। বছরের প্রথমদিন বই উৎসবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে এসব বই তুলে দেয়া হয়। করোনার কারণে গত দুই বছর বই উৎসব না হলেও বছরের প্রথমদিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে গেছে বই। তবে নতুন বছরের মাত্র ২২ দিন বাকি থাকলেও এখনো পর্যন্ত প্রাথমিকের একটি বইও আসেনি চট্টগ্রামে। অন্যদিকে, মাধ্যমিকের বই এসেছে মাত্র ১৫ শতাংশের মত।

 

ফলে এবছর ২০২৩ শিক্ষাবর্ষে বই উৎসব নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কাক্সিক্ষত বই না আসলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বই পৌঁছে যাবে এবং যথাসময়ে বই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করছেন শিক্ষা কর্মকর্তারা। চট্টগ্রামের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামে প্রাথমিকের সাড়ে ৮৭ লাখ বইয়ের চাহিদার বিপরীতে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত একটি বইও আসেনি।

 

অন্যদিকে, মাধ্যমিকের ১ কোটি ৫৭ লাখ ৮৯ হাজার বইয়ের চাহিদার বিপরীতে বই এসেছে ২৩ লাখ ১৫ হাজার। যা চাহিদার মাত্র ১৫ শতাংশের মত। তবে বিগত বছরের এই সময়ে চার ভাগের প্রায় তিনভাগ বই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছে যেত। তাই এখনো পর্যান্ত বই না আসায় শিক্ষার্থীরা যথাসময়ে বই পাবে কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। মিলগুলোতে পর্যাপ্ত কাগজ না থাকা, কালির দাম বৃদ্ধি পাওয়া, কাগজ তৈরির মণ্ড (পাল্প) আমদানি করতে না পারাসহ বিভিন্ন কারণে এখনো বই ছাপা হয়নি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব কারণে মানসম্মত বই ছাপা এবং নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

চট্টগ্রাম জেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য মতে, চট্টগ্রামের মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১২ লাখ ৪৩ হাজার ৪৮১ জন। এসব শিক্ষার্থীর বিপরীতে বইয়ের চাহিদা ১ কোটি ৫৭ লাখ ৮৯ হাজার ৯০৩টি।

 

এ পর্যন্ত মাধ্যমিকের প্রাপ্ত বইয়ের সংখ্যা ১৪ লাখ ৩৮ হাজার ৬৩৫টি। মাদ্রাসায় প্রাপ্ত বইয়ের সংখ্যা ৮ লাখ ৭৭ হাজার ১৫৬টি। সর্বমোট প্রাপ্ত বইয়ের সংখ্যা ২৩ লাখ ১৫ হাজার ৭৯১টি। অবশিষ্ট বইয়ের সংখ্যা ১ কোটি ৩৪ লাখ ৭৪ হাজার ১১২টি।

 

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসার মো. ফরিদুল আলম হোসাইনী বলেন, ১ কোটি ৫৭ লাখ ৮৯ হাজার ৯০৩টি চাহিদার বিপরীতে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২৩ লাখ ১৫ হাজার ৭৯১টি বই আমাদের কাছে এসেছে। আমরা আশা করছি বাকি বইগুলো নির্ধারিত সময়ে এসে পৌঁছাবে।

 

চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য মতে, চট্টগ্রামের ৪ হাজার ৩৫৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিকে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ লাখ ৮২ হাজার। এসব শিক্ষার্থীর বিপরীতে বইয়ের চাহিদা হচ্ছে সাড়ে ৪৭ লাখ। চাহিদার বিপরীতে এখনো পর্যন্ত একটি বইও আসেনি।

 

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন কারণে এখনো পর্যন্ত কোন বই আমাদের কাছে এসে পৌঁছায়নি। এবছর আমাদের প্রায় সাড়ে ৪৭ লাখ বইয়ের চাহিদা রয়েছে। দুই দিন আগেও যদি আমাদের কাছে বই চলে আসে, তা আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দিতে পারবো। আর শিক্ষার্থীরা বছরের প্রথমদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বই নিয়ে ফিরতে পারবে।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট