চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

৭ ডিসেম্বর, ২০২২ | ৯:২৩ অপরাহ্ণ

নাজিম মুহাম্মদ

টুকরো করার আগে আয়াত হত্যার কথা জানতো হাসিব

পাঁচ বছরের শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণের পর হত্যা করার কথা বন্ধু হাসিবকে দেড়মাস আগে বলেছিল আবির। নিখোঁজের পর যখন স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করছিল তখন আয়াতকে হত্যা করার কথা হাসিবকে জানিয়েছিল আবির। বলেছিল, আকমল আলি রোডের পকেট গেটের বাসায় আয়াতের মৃতদেহ আছে। তখনো শিশু আয়াতের দেহ কেটে টুকরো করেনি। সবকিছু জানা সত্ত্বেও কিশোর হাসিব কারো কাছে আয়াত হত্যার বিষয়টি জানায়নি। গত মঙ্গলবার দুপুরে নয়াহাট এলাকা থেকে হাসিবকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

 

গ্রেপ্তারের পর জবানবন্দীতে কিশোর হাসিব জানায়, নয়াহাট এলাকায় ছোটবেলা থেকে একসাথেই বড় হয়েছে। আবিরকে সে ভদ্র হিসাবে দেখেছে। কখনো পান সিগারেটও খেতে দেখেনি। তাই দেড় মাস আগে আয়াতকে অপহরণ করার কথা বললেও তা বিশ্বাস করেনি। আর আয়াত হত্যার কথা জানার পর ভয়ে কাউকে কিছু বলেনি। আয়াতকে মেরে ফেলার ঘটনা বলে দিলে টুকরো করার আগে হয়তো মৃতদেহটি পাওয়া যেত।

 

পিবিআই’র (মেট্রো) পুলিশ সুপার নাঈমা সুলতানা জানান, আয়াতকে অপহরণ করার বিষয়টি দেড়মাসে আগে হাসিবকে বলেছিল আবির। অপহরণের পর হত্যার বিষয়টিও বলেছিল। কিন্তু হাসিব কাউকে বলেনি। তথ্য গোপন করার অপরাধে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী তাকে আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশু হিসাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গতকাল বুধবার আদালতে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে হাসিব।

 

হাসিব জানিয়েছে, তার বয়স ১৭ বছর। বয়স নির্ধারণের জন্য মেডিকেলে পরীক্ষা করানো হয়েছে। মেডিকেল থেকে প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান এসপি নাঈমা সুলতানা।

 

হাসিব গতকাল বুধবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানায়, তার বাড়ি বরিশালে। তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা নয়াহাট সাইফুল কলোনিতে। গত বছর তার বাবা এবং কয়েকমাস আগে তার মা মারা যাবার পর নয়াহাট সাইফুল কলোনিতে ব্যাচেলর বাসায় থাকে। নিহত আয়াতদের বাড়ির পাশেই হাসিব ভাই ভাই হোটেলে চাকরি করে। আয়াতদের বিল্ডিংয়ে মা-বাবার সাথে থাকত আবির। আনুমানিক ছয় মাস আগে থেকেই তার মা আকমল আলি রোডের পকেট গেট এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। তবে তার বাবা আয়াতদের বিল্ডিংয়ে ভাড়ায় থাকেন।

 

হাসিব জানায়, চলতি বছরের অক্টোবর মাসের শুরুতে একদিন নেভি গেটের নালার দেয়ালে আবিরসহ বসেছিল। তখন আবির তাকে জানায়, মঞ্জু বিল্ডিংয়ের মঞ্জুর নাতি আয়াতকে অপহরণ করে মেরে ফেলবে। তারপর আয়াতের দাদার কাছ থেকে মুুক্তিপণ দাবি করবে। তাকেও সাথে থাকার জন্য বলে। কিন্ত সে রাজি হয়নি। বিষয়টি কাউকে জানায়ওনি। হাসিব জানায়, হত্যার কথা শুনে ভয়ে কাউকে কিছু বলেনি সে। তার ধারনা, বললে তাকেও সন্দেহ করবে।

 

পূর্বকোণ/আর

 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট