চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

৬ ডিসেম্বর, ২০২২ | ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ

নাজিম মুহাম্মদ

ছয় হাজার বন্দীর জন্য মাত্র দুইজন চিকিৎসক

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দীর ধারণ ক্ষমতা ১৮৫৩ জন। অথচ প্রতিদিন বন্দী থাকে ছয় হাজারেরও বেশি। কারাগারের চিকিৎসা ব্যবস্থা খুবই নাজুক। ছয় সহস্রাধিক বন্দীর চিকিৎসা সেবায় রয়েছেন দুইজন সহকারী সার্জন, একজন মহিলা ডিপ্লোমা নার্স ও একজন ফার্মাসিস্ট। রোগ নির্ণয়ে বহু অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি থাকলেও বাক্সবন্দীতেই তা নষ্ট হয়ে গেছে। দশ বছরের বেশি সময় পার হলেও খোলা ও ব্যবহার হয়নি এসব যন্ত্রপাতি। দুই-একটি মেশিন চালু থাকলেও নেই টেকনিশিয়ান।

 

চট্টগ্রাম কারাগার হাসপাতালের চিকিৎসক শামীম রেজা বলেন, ২০১১ সাল থেকেই যন্ত্রগুলো পড়ে আছে। এসব যন্ত্রপাতি এখন ব্যবহার উপযোগী নেই। তাই নতুন করে যন্ত্রপাতি কিনতে হবে।

 

কারাগার সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার হাসপাতালে দুইজন সহকারী সার্জন, একজন মহিলা ডিপ্লোমা নার্স ও একজন ফার্মসিস্ট রয়েছেন। একজন প্যাথলজিস্ট, একজন মহিলা সহকারি সার্জন, একজন ল্যাবরেটরি টেকনেশিয়ান, একজন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট এবং একজন ফার্মাসিস্টের পদ শূন্য রয়েছে।

 

কারাচিকিৎসক শামীম রেজা বলেন, চট্টগ্রাম কারাগারে একটি ইসিজি মেশিন ও একটি নেবুলাইজার মেশিন সচল রয়েছে। তবে টেকনিশিয়ান না থাকায় তাও ব্যবহার করা হয় না। তিনি বলেন, প্রায় দুই হাজার বন্দীর ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন চট্টগ্রাম কারাগারের জন্যে ১০০ শয্যার হাসাপাতালটি তৈরি করা হয়। কিন্তু এ কারাগারে গড়ে ছয় হাজারের বেশি বন্দী থাকে। দু’জন চিকিৎসকের পক্ষে বিপুল পরিমাণ বন্দীকে চিকিৎসা দেয়া অনেক কঠিন। প্রতিদিন আউটডোরে ২৫০ থেকে ৩০০ রোগী দেখতে হয়। রাতের বেলায় ওয়ার্ডে হঠাৎ অসুস্থবোধ করেন এরকম রোগীর সংখ্যাও গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ জন। বিভাগীয় কারাগার হওয়ার কারণে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি কারাগারে অসুস্থ হওয়া রোগীদেরকেও চট্টগ্রাম কারা হাসপাতালে পাঠানো হয়।

 

২০১০ সালে ১০০ শয্যার চট্টগ্রাম কারগাার হাসপাতাল তৈরি করা হয়। এরপর প্রায় কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানো হয়। পড়ে আছে এনালাইজার মেশিন, অটোক্লেভ মেশিনসহ নানা যন্ত্রপাতি। এরমধ্যে বাক্সবন্দী অবস্থায় এসব যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে গেছে। এসব যন্ত্রের যন্ত্রাংশও পাওয়া যাচ্ছে না বাজারে। এখন আবার নতুন করে যন্ত্রপাতি কিনতে হবে। বর্তমানে ব্যবহারের মধ্যে শুধু ইসিজি মেশিন ছাড়া আর কিছুই নেই। বন্দীদের নিয়মিত চেকআপের কোনো যন্ত্রপাতিও নেই।

 

নিয়ম অনুযায়ী একজন মনোরোগ চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও চট্টগ্রাম কারাগারে তা নেই। অথচ কারাবন্দীদের নিয়মিত কাউন্সেলিং এবং বিশেষায়িত চিকিৎসা দরকার। নেই প্রতিবন্ধীদের জন্যে কোনো চিকিৎসক। এখানে নারীবন্দী থাকলেও নেই গাইনি বিশেষজ্ঞ। এ অবস্থায় অসুস্থ বন্দীদের স্থানীয় বা বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হচ্ছে।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট