চট্টগ্রাম শনিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৩

সর্বশেষ:

৪ ডিসেম্বর, ২০২২ | ১২:২০ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

`টানেলের জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই, কালুরঘাট সেতুর বাস্তবায়ন চাই’

কালুরঘাট সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির স্থায়ী পরিষদের সভাপতি জসিম উদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ‘নেপথ্য ষড়যন্ত্রের’ কারণে চট্টগ্রামের কাক্সিক্ষত কিছু উন্নয়ন প্রকল্প আলোর মুখ দেখছে না। তারই একটি দেদীপ্যমান দৃষ্টান্ত- কর্ণফুলী নদীর উপর কালুরঘাট সেতু এখনও বাস্তবায়ন না হওয়া।

 

গতকাল শনিবার সকালে পূর্বকোণ সেন্টারে আয়োজিত বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির স্থায়ী পরিষদের সভায় জসিম উদ্দিন চৌধুরী এসব কথা বলেন। বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির মহাসচিব এইচএম মুজিবুল হক শাকুরের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কার্যনির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ডা. শেখ শফিউল আজম, স্থায়ী পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এসএম নুরুল হক, স্থায়ী পরিষদের সদস্য নুরুল আলম প্রমুখ।

 

সভায় জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন বলেন ‘চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব আমার কাঁধে, চট্টগ্রামের জন্য আমার মন কাঁদে’- তখন আমরা চট্টগ্রামবাসী আশান্বিত হই। প্রধানমন্ত্রী কর্ণফুলী নদীর তলদেশে দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণের মতো সাহসী কাজ করেছেন। চট্টগ্রামের উন্নয়নে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন। এসব কিছু চট্টগ্রামের মানুষের প্রতি তার অকুণ্ঠ ভালবাসার বহিপ্রকাশ। তিনি বলেন, টাকার জন্য কালুরঘাট সেতুর মতো জনগুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প বাস্তবায়নে সময়ক্ষেপণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী সাহসী এবং দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশের টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণ করে আমাদের সেই বিশ্বাসকে আরও পোক্ত করেছেন। ৪ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম আসছেন। আশা করি চট্টগ্রামের কোটি মানুষের প্রাণের দাবি কালুরঘাট সেতুর নির্মাণকাজ শুরু নিয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেবেন।

 

জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতায় চট্টগ্রাম নগরীর দীর্ঘদিনের অভিশাপ- জলাবদ্ধতা নিরসনে একাধিক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কিন্তু অতি জনগুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নেও ধীরগতি এবং দীর্ঘসূত্রতা ভর করেছে। ব্যয় ও মেয়াদ বাড়লেও কাজ কখন শেষ হবে, তা নিয়ে অন্ধকারে আছে নগরবাসী। আমরা চাই, সঠিক মান বজায় রেখে প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হোক। মানুষ দ্রুত সুফল পাক। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির হৃৎপি- চট্টগ্রাম বন্দর। এই বন্দরের প্রাণ কর্ণফুলী নদী। অথচ সেই নদীরই এখন নাভিশ্বাস উঠেছে। প্রতিনিয়ত ভরাট, দখল ও দূষণের কবলে পড়ে এটি এখন মরতে বসেছে। পরিণত হয়েছে শিল্প কারখানা-বাণিজ্য ও আবাসিক বর্জ্যরে ভাগাড়ে। নাব্যতা রক্ষায় ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের কথা শোনা গেলেও কর্ণফুলী নদীর দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন কিংবা সুফল দেখা যাচ্ছে না। কর্ণফুলী নদীকে রক্ষা করতে হবে।

 

জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, পরিকল্পিত নগরায়নের কথা নগরবাসী শুনতে শুনতে হয়রান। পরিকল্পিত আবাসন প্রকল্পও গড়ে উঠছে না। অথচ দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর হিসেবে চট্টগ্রাম নগরীকে বাসযোগ্য ও বিশ্বমানের শহরে পরিণত করা সময়ের দাবি। চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী বলা হয়। কিন্তু এই নগরীতে শিশুদের জন্য খেলার পর্যাপ্ত মাঠ ও পাবলিক স্টেডিয়াম নেই। চট্টগ্রামে দুটি বড় স্টেডিয়াম নির্মাণ আমাদের প্রাণের দাবি।

 

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যসেবার কী বেহাল দশা- বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস তা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। ১৯৫৯ সালে প্রতিষ্ঠা হওয়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালই এখনও বৃহত্তর চট্টগ্রামের প্রায় চার কোটি মানুষের নির্ভরতার প্রতীক। স্বাধীনতার ৫২ বছর পার হলেও আরেকটি বড় সরকারি হাসপাতাল চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠা হয়নি। এটি বড় পরিতাপের। আশা করি প্রধানমন্ত্রী এদিকে সুদৃষ্টি দেবেন।

 

জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমরা চাই নগরীর পতেঙ্গা-বন্দরে ১টি, অক্সিজেন-বহদ্দারহাটে ১টি, বায়জিদ লিংক রোড-ফৌজদার হাট এলাকায় ১টি, উত্তর জেলায় ১টি ও দক্ষিণ জেলায় ১টি করে ৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণ করা হোক। এর পাশাপাশি বর্তমান সরকারি, বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত আইসিইউ বেড বৃদ্ধি করা এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার দাবি জানাচ্ছি। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ স্থাপনের দাবি দীর্ঘদিনের। এতে মামলাজট যেমন কমবে, তেমনি বিচারের জন্য চট্টগ্রামের মানুষকে আর দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হবে না। সরকারের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ স্থাপনের প্রতিশ্রুতি থাকলেও তার বাস্তবায়ন হয়নি। এ নিয়ে চট্টগ্রামের মানুষের মনে আক্ষেপ রয়েছে। পাশাপাশি ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলাকে আলাদা জেলা করার দাবি জানাচ্ছি।

 

জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এক দশক পর প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামবাসীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে আসছেন। তার আগমনকে ঘিরে চট্টগ্রামের মানুষের মনে আশার সঞ্চার হয়েছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি- কালুরঘাট সেতু, জলাবদ্ধতা নিরসন, কর্ণফুলী নদী রক্ষা, নতুন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণসহ চট্টগ্রামবাসীর প্রাণের দাবি নিয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেবেন। চট্টগ্রামের মানুষের প্রতি ফের তার অকুণ্ঠ ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটাবেন।

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট