চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩

সর্বশেষ:

৩ ডিসেম্বর, ২০২২ | ১১:০২ পূর্বাহ্ণ

সারোয়ার আহমদ

কথা বলার জায়গা হারাল বন্দর ব্যবহারকারীরা

বন্দরের কার্যক্রমে নানা সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের লক্ষ্যে ২০১০ সালে গঠন করা হয়েছিল চট্টগ্রাম বন্দর উপদেষ্টা কমিটি। লক্ষ্য ছিল- চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে সম্পর্কিত সরকারি প্রতিষ্ঠান, বন্দর ব্যবহারকারী ও বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের মধ্যে সমন্বয় সাধন। ফলে গতি পাবে বন্দরের কার্যক্রম।

 

২০১০ সালের পর প্রতি বছর চারটি করে সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ১১ বছরে হয়েছে মাত্র ১৪টি সভা। সর্বশেষ ২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বর ১৪তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর আর হয়নি। ভবিষ্যতেও আর হবে না। কারণ নতুন আইন ‘বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২২’ এ বন্দর উপদেষ্টা কমিটির বিষয়ে কোন বিধান রাখা হয়নি। ফলে বন্দর সম্পর্কিত সমস্যার কথা জানানোর সুযোগ বন্ধ হয়ে গেল বলে বন্তব্য করেছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। বিভিন্ন মহলের দাবির মুখে ২০১০ সালে গঠন করা হয় বন্দর উপদেষ্টা কমিটি।নৌপরিবহনমন্ত্রীকে প্রধান করে বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন পক্ষ এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের বিধান রয়েছিল।

 

২০১০ সালের ১০ অক্টোবর কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি বছর চারটি করে ১১ বছরে মোট ৪৫টি সভা হওয়ার কথা থাকলেও হয়েছে মাত্র ১৪টি। কোনো বছরে একটি বা কোনো বছর দুইটি করে সভা হয়েছে। আবার কোনো বছর একটি সভাও হয়নি- এমন নজিরও রয়েছে।

 

বন্দর উপদেষ্টা কমিটি বিধানে না রাখা প্রসঙ্গে চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম পূর্বকোণকে বলেন, বন্দর উপদেষ্টা কমিটির এক একটি সভায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতো। অনেক সিদ্ধান্ত আসতো। ব্যবসায়ীদের দাবি জানানোর ও আলোচনা করার একটা ভাল সুযোগ ছিল। সেই আলোচনার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেল। আমাদের দাবি প্রয়োজনে আলোচনার জন্য বন্দর উপদেষ্টা কমিটির মতো অন্য একটি নামে কমিটি করে আলোচনার ও সমস্যার কথা জানানোর একটি সুযোগ থাকা খুবই জরুরি।

 

একই প্রসঙ্গে শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ পূর্বকোণকে বলেন, বন্দর উপদেষ্টা কমিটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটি ছিল। এতে বন্দরই লাভবান হতো। কারণ বন্দরের কোন কাজে কি পরিবর্তন আনা প্রয়োজন সে সব ওঠে আসতো। আর বন্দরের সকল স্টেকহোল্ডার সবার সম্মুখে তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরতে পারতো। এমনকি আলোচনায় অনেক দ্রুত ও ফলপ্রসু সমাধানও আসতো। তবে সেটি বন্ধ হয়ে যাওয়া দুঃখজনক।

 

এদিকে, বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোওয়ার্ডার্স এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি খায়রুল আলম সুজন পূর্বকোণকে বলেন, বন্দর উপদেষ্টা কমিটি একটি গুরুত্ব বহন করতো তাতে কারো কোন সন্দেহ নেই। এখন বন্দর একটি মাসিক সভা করে। যেটিও তিন মাসে অন্তত একটি হয়। এই মিটিংয়ে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বা মন্ত্রণালয়ের সচিব থাকেন না। মাসিক সভায় বিভিন্ন প্রস্তাবনা আসে। এরমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পর্যায়ের একজনকে ভার্চুয়ালি যুক্ত রাখা হয়। সভায় মাসিক সভাকে তিন মাসে একবার করারও প্রস্তাব এসেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

 

উপদেষ্টা কমিটির বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু পূর্বকোণকে বলেন, উপদেষ্টা কমিটির আদলে এখন মাসিক সভা হয়। যদিও বন্দর উপদেষ্টা কমিটির সভাটি বেশি ফলপ্রসু ছিল। অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে ৬০ জনের কমিটি করে সভা করা হতো। এখনের মাসিক সভায় প্রায় সময় বিভিন্ন দপ্তরের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের ব্যক্তিরা আসেন না। প্রতিনিধিরা আসেন। হয়তো ব্যস্ততার কারণে আসতে পারেন না। যার কারণে সভায় যাদের উদ্দেশ্যে কথা বলা হয় তারাই স্বশরীরে এসে জানতে পারেন না। যেটি বন্দর উপদেষ্টা কমিটির ক্ষেত্রে অনেক কার্যকরী ছিল।

 

উপদেষ্টা কমিটি বাতিল হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক পূর্বকোণকে বলেন, গত এপ্রিলের দিকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন ২০২২ পাস হয়। সেটিতে বন্দর উপদেষ্টা কমিটি’র বিষয়ে কোন বিধান রাখা হয়নি। তাই সর্বশেষ ১৪ তম সভার পর আর উপদেষ্টা কমিটির প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি।

 

উল্লেখ্য, সর্বশেষ বন্দর উপদেষ্টা কমিটিতে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীকে সভাপতি ও বন্দর চেয়ারম্যানকে সদস্য সচিব করে ৬০ সদস্যের কমিটি করা হয়েছিল। যেখানে বাকি ৫৮ জন সদস্যের মধ্যে ছিল চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সংরক্ষিত আসনের দুই মহিলা সংসদ সদস্য, চট্টগ্রাম সিটি মেয়র, সরকারি বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বন্দর ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিগণ।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট