চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩

সর্বশেষ:

২ ডিসেম্বর, ২০২২ | ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ

সারোয়ার আহমদ

আগামী জুনের মধ্যে ৬টি নতুন স্ক্যানার বসবে চট্টগ্রাম বন্দরে

চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইানার স্ক্যানার সংকট দীর্ঘদিনের। তবে বহু কাঠখড় পুড়িয়ে অবশেষে আগামী জুনের মধ্যে নতুন ৬টি কনটেইনার স্ক্যানার পেতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর। ফলে আমদানির পাশাপাশি রপ্তানি পণ্যের কনটেইনার স্ক্যান করার নিশ্চায়তা তৈরি হলো।

 

নতুন ৬টি কনটেইনার স্ক্যানারের মধ্যে ৪টি বসাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বাকি দুটি স্ক্যানার বসাবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এনবিআর ৩২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে কিনবে ৬টি কনটেইনার স্ক্যানার। যার ৪টিই বসবে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন গেটে। আর বাকি দুটির মধ্যে একটি বেনাপোল কাস্টমসে এবং অন্যটি সাতক্ষীরার ভোমরা বন্দরে। অন্যদিকে ৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি কনটেইনার স্ক্যানার কিনছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

 

টেন্ডার থেকে কার্যাদেশে এনবিআরের ব্যয় ২০ মাস : ৬টি অত্যাধুনিক কনটেইনার স্ক্যানার কিনতে ২০২১ সারের ৩১ মার্চ দরপত্র আহ্বান করে এনবিআর। কিন্তু বিভিন্ন গ্যাঁড়াকলে পড়ে ৪ বার পিছিয়েছিল টেন্ডারের তারিখ। করোনাকালীন সময় ও দরদাতাদের অনুরোধে ওই টেন্ডার প্রক্রিয়া ৪ বার পেছায় (২৪ জুন, ১৫ জুলাই, ৩ আগস্ট ও ২৫ আগস্ট) এনবিআর। পরে সেটি আবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত বিভাগ ‘সেসন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট’ হয়ে উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। শেষ বার দরপত্র ক্রয় করেছিল করেছিল ২৭টি প্রতিষ্ঠান এবং দরপত্র জমা দেয় মাত্র ৩টি প্রতিষ্ঠান।

 

গত বছরের ২৫ আগস্টের টেন্ডার শেষে ওই তিন প্রতিষ্ঠানের দরপত্র পাঠানো হয় মূল্যায়ন কমিটির কাছে। কিন্তু তাদের মধ্যেও যোগ্য প্রতিষ্ঠান পাওয়া নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে এনবিআর। এরই প্রেক্ষিতে এস্ট্রোফিজিক্স ইনকর্পোরেশন নামের এক দরদাতা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত বিভাগ এক অভিযোগ দাখিল করে।

 

তবে এনবিআরের বিপক্ষে ওই অভিযোগ বাতিল করে সিপিটিইউ। পরে ওই দরদাতা আশ্রয় নেয় উচ্চ আদালতের। সেখানেও রায় এনবিআরের পক্ষে যায় এবং কনটেইনার স্ক্যানার ক্রয়ের কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয়। এরই প্রেক্ষিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (কাস্টমস অডিট, মর্ডানাইজেশন এন্ড ইন্টারন্যাশনাল টেন্ডার) ড. আবদুল মান্নান শিকদার চলতি বছরের ২৬ মে পুনরায় একই দরপত্র আহ্বান করেন। যা গত ২৩ নভেম্বর সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রীসভা কমিটির বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়। এসব প্রক্রিয়াতে ব্যয় হলো ২০ মাস।

 

যে কারণে বন্দর কিনছে কনটেইনার স্ক্যানার : যদিও কনটেইনার স্ক্যানার ক্রয়, রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে তবুও এবারই প্রথম চট্টগ্রাম বন্দর নিজ উদ্যোগে দুটি কনটেইনার স্ক্যানার কিনছে। মূলত বন্দরের নিরাপত্তা জোরদারে ইন্টারন্যাশনাল শিপ এন্ড পোর্ট ফ্যাসিলিটি সিকিউরিটি (আইএসপিএস) কোর্ডের আওতায় এ দুটি স্ক্যানার কিনতে যাচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ইউএস কোস্টগার্ডের কড়াকড়ির কারণেই এ দুটি স্ক্যানার কিনতে বাধ্য হচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। অন্যথায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের বন্দরগুলোর সাথে তুলনায় পিছিয়ে যাবে এই বন্দর।

 

বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চে দুটি স্ক্যানার কেনার প্রক্রিয়া শুরু করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ দুটি স্ক্যানার কেনার জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ৮৯ কোটি টাকা। সে অনুযায়ী একটি প্রকল্প তৈরি করে অনুমোদনের জন্য ৩ নভেম্বর মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে তারা। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে স্ক্যানারগুলো কেনার পরিকল্পনা রয়েছে বন্দরের।

 

কেমন হবে নতুন স্ক্যানারগুলো : নতুন ৬টি স্ক্যানার হবে আধুনিক প্রযুক্তির। এসব স্ক্যানার এক্স-রে বা গামা-রশ্মি ইমেজিং প্রক্রিয়ায় কনটেইনার খোলা ছাড়াই এর ভেতরের রঙ্গিন ছবি তুলতে পারবে। এসব মেশিনে স্ক্যানার ছাড়াও কনটেইনারের ওজন পরিমাপ, রেডিও পোর্টাল মনিটর এবং ইমেজিং সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত থাকবে। নতুন স্ক্যানারগুলো ‘বোথ ওয়ে’ স্ক্যান ডিরেকশনে স্ক্যানিং করতে সক্ষম। অর্থাৎ আমদানি ও রপ্তানি উভয় কনটেইনার স্ক্যানিং করা যাবে এই মেশিনগুলো দিয়ে।

 

উল্লেখ্য, সরকার ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের বাজেটের ‘অর্থ আইন-২০১৯’ এ বোঝাই পণ্য কনটেইনার বাধ্যতামূলক বৈদ্যুতিক স্ক্যানিংয়ের আওতায় আনার বিধান চালু করে। বিধান অনুযায়ী, সরকারি আদেশে অব্যাহতি ব্যতিরেকে কোনও চালানকে বৈদ্যুতিক স্ক্যান ছাড়া কোনও শুল্ক বন্দর বা শুল্ক স্টেশনে থেকে ছাড়ানো যাবে না। বৈদ্যুতিক স্ক্যানিং সিস্টেমের অভাবে শারীরিক পরীক্ষা করে চালান খালাসের বিধানও রাখা হয়েছে। অপ্রতুল স্ক্যানার মেশিনের কারণে এখনো সারা দেশের কাস্টম হাউসগুলো আমদানি করা চালানের ১০-১৫ শতাংশ কায়িকভাবে পরীক্ষা করে।

 

প্রসঙ্গত, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের ১২টি গেটে স্ক্যানার আছে ৭টি। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) ১ নম্বর গেট এবং নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ৩ নম্বর গেটে আছে ‘এফএস ৬০০০’ সিরিজের অত্যাধুনিক ফিক্সড কনটেইনার স্ক্যানার। চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ২, ৪ ও ৫ নম্বর গেটে আছে একটি করে ‘এফএস ৩০০০’ মডেলের ফিক্সড কনটেইনার স্ক্যানার।

 

এছাড়া সিসিটি ২ ও জিসিবি ২ নম্বর গেটে রয়েছে একটি করে মোবাইল স্ক্যানার। তবে পুরোনো কয়েকটি স্ক্যানার মাঝে মাঝে বন্ধ হয়ে গিয়ে স্ক্যানিং কাজে ব্যঘাত ঘটায়।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট