চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩

সর্বশেষ:

২৯ নভেম্বর, ২০২২ | ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সেই রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন

মেডিকেল সার্টিফিকেটের ধরন বুঝে টাকা নেওয়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের সেই সহকারী রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল সোমবার চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামীম আহসান এ সংক্রান্ত বিষয়ে কমিটি গঠন করেন। হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। তাদের আগামী সাত কর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়। কমিটির বাকি দুই সদস্য হলেন : অর্থোসার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মুজাহেরুল ইসলাম ও হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আব্দুল মন্নান।

 

এর আগে গতকাল সোমবার (২৮ নভেম্বর) দৈনিক পূর্বকোণে ‘ধরন দেখে টাকা নেন রেজিস্ট্রার’ শিরোনামে চমেক হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. ইয়াসিন আরাফাতের মেডিকেল সার্টিফিকেট বাণিজ্য সংক্রান্ত অনুসন্ধান প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে এদিন তদন্ত কমিটি গঠন করে আলোচ্য বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়।

 

তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামীম আহসান। তিনি বলেন, ‘মেডিকেল সার্টিফিকেট সংক্রান্ত বিষয়টি নজরে আসায় তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

 

উল্লেখ্য, চমেক হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটি ওয়ার্ডের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মো. ইয়াছিন আরাফাতের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে মামলা সংক্রান্ত মেডিকেল সার্টিফিকেটকে ‘সত্যকে মিথ্যা’ ও ‘মিথ্যাকে সত্য’ বানানোর অভিযোগ পাওয়া যায়। ‘বিকাশ’ এবং ‘নগদের’ মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অর্থগ্রহণ করেন প্রমাণ মেলে এ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। আর এ কাজে ব্যবহার করেন নিজের স্ত্রীর নম্বরও। এ সংক্রান্ত অডিও-ভিডিওসহ বেশকিছু তথ্য-প্রমাণ এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

 

একটি ভিডিওতে ডা. ইয়াসিনকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনার উকিল যেভাবে চাইবে আমি সেভাবে সার্টিফিকেট দেব। উকিল যদি বলে এটেম্পট টু মার্ডার, তাহলে এক রকম সার্টিফিকেট, আর মার্ডার বললে আরেক রকম। এখন ২ হাজার টাকা দিতে হবে। তবে উকিল যদি স্পেশাল কিছু চায় সেক্ষেত্রে টাকা আরও লাগবে।

 

আমাকে যদি মিথ্যা কথা বলাতে হয়, সেক্ষেত্রে টাকাতো লাগবেই। উনি (উকিল) যদি বলে ৩২৬ ধারার জন্য, তাহলে এক রকম। যদি বলে ৩২৫ ধারার জন্য, তাহলে আরেক রকম। উকিল কী ধরনের সার্টিফিকেট চায়, সেটির উপর নির্ভর হবে। এখন আপনাকে ২ হাজার টাকা খরচ করতেই হবে। আদারওয়াইজ যতো এসআই-ই আসুক বা অন্য কেউ আসুক কোনো কাজ হবে না।’

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট