চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩

সর্বশেষ:

২৯ নভেম্বর, ২০২২ | ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ

নাজিম মুহাম্মদ

আলামত না পাওয়ায় খুলছে না জট

পাঁচ বছরের শিশু আলিনা ইসলাম আয়াত হত্যার রহস্যের জট খোলেনি। জুতো জোড়া পাওয়া গেলেও এখনো মিলেনি আয়াতের দেহের খণ্ডিত অংশ, পরনের জামা কিংবা হিজাব। ব্যাগ ভর্তি শিশুটির দেহের খণ্ডিত অংশ নিয়ে যে পথে সাগর পথে নিয়ে যাবার কথা বলা হচ্ছে সে পথের একাধিক ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরায়ও (সিসি ক্যামেরা) আবিরের যাবার দৃশ্য মেলেনি। এ অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ আলামতের খোঁজ পেতে দুই দিনের রিমান্ডের পর তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার আবিরকে গতকাল রবিবার ফের সাতদিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে বিজ্ঞ আদালত। কড়া নিরাপত্তায় হেলমেট ও বুলেট প্রুফ জ্যাকটে পরিয়ে আদালতে হাজির করা হয় আবরিকে। এমনকি আদালতের হাজতখানায় থাকা অবস্থায় তার উপর কড়া নজরদারি রাখা হয়।

 

আয়াত হত্যায় অভিযুক্ত থাকার অপরাধে আবির আলিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আবিরকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পিবিআই জানিয়েছে, মুক্তিপণ আদায় করতে আয়াতকে অপহরণ করার পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার সাতঘণ্টা পর শিশুটির মৃতদেহ ছয় টুকরো করে আলাদা পলিথিনের ব্যাগে ভরা হয়েছে। এরপর সাগরে ফেলে দেয়া হয়েছে। তবে দেহের খণ্ডিত অংশ, পরনের কাপড় ও হিজাব না পাওয়া পর্যন্ত সন্তুষ্ট হতে পারছে না নিহত আয়াতের বাবা সোহেল রানা।

 

তিনি জানান, বলা হচ্ছে আমার মেয়েটিকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার পর ছয় টুকরো করা হয়েছে। কিন্তু দেহের খণ্ডিত অংশ কিংবা কাপড়-চোপড় কিছুই পাওয়া যায়নি। আমার ধারণা এ ঘটনার সাথে আরো কেউ জড়িত রয়েছে।

 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক (মেট্রো) মনোজ কুমার দে জানান, আদালতের নির্দেশে প্রথমবার দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছিলাম। জিজ্ঞাসাবাদে আবির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। আরও তথ্যের জন্য তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেছিলাম। আদালত সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। আমরা তাকে হেফাজতে নিয়েছি।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তা জানান, শিশুটির দেহের খণ্ডিত অংশ, পরনের জামাসহ আনুষাঙ্গিক আলামত পাওয়া না গেলে অপরাধী প্রমাণ করতে একটু জটিল হবে। তবে ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা আলামতের সাথে গ্রেপ্তার আসামির ডিএনএ নমুনা মিললে বিষয়টি অনেকটা সহজ হবে। এসব না মিললে শুধুমাত্র স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির উপর ভিত্তি করে হত্যাকারী প্রমাণ করা কঠিন হয়ে যাবে। উক্ত কর্মকর্তার মতে বিষয়টি আরো পরিপূর্ণ তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট আলামত উদ্ধারের পর জনসমক্ষে আনলে ভাল হত।

 

জানতে চাইলে আইনজীবী জিয়া হাবীব আহসান জানান, গ্রেপ্তার আবিরের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, অপহরণের পর শিশুটিকে খুন করা হয়েছে। দেহের খণ্ডিত অংশ, কাপড় কিংবা আনুষাঙ্গিক আলামত না পেলেও ঘটনাস্থলের পারিপার্শ্বিক পরিবেশ ও সাক্ষীর উপর তদন্তের বিশ্বস্ততা নির্ভর করবে। আলামত না পেলেও রক্তমাখা যেসব আলামত পাওয়ার কথা বলা হচ্ছে এর সাথে অভিযুক্ত ব্যক্তির ডিএনএ মিললে হত্যায় অভিযুক্ত থাকার বিষয়টি প্রমাণ করা সহজ হবে।

 

আইনজীবী জিয়া হাবীব বলেন, আসামি আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেও অপরাধ প্রমাণ করা যায়। এক্ষেত্রে অনেক সময় জবানবন্দি পরবর্তী পুলিশ চাপ দিয়ে জবানবন্দিতে বাধ্য করেছে এমনটি জানিয়ে আসামিকে জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করতেও দেখা যায়। তদন্তকালে আইনের ফাঁক-ফোকরগুলোর দিকে নজর থাকা জরুরি। সবকিছু নির্ভর করে তদন্ত কর্মকর্তার উপর।

 

উল্লেখ্য গত ১৫ নভেম্বর বিকেল সোয়া তিনটায় পাঁচ বছরের শিশু আলিনা ইসলাম আয়াত নিউমুরিং নয়ারহাটের বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। ২৫ নভেম্বর প্রতিবেশী আবিদ নামে এক যুবককে গ্রেপ্তারের পর পিবিআই জানিয়েছে তিনি আয়াতকে হত্যা করে দেহ ছয় টুকরো করে সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছে।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট