চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩

সর্বশেষ:

২৯ নভেম্বর, ২০২২ | ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

চট্টগ্রামে সাড়ে ৫ লাখ লোকের নিবন্ধন

ভোটার তালিকা হালনাগাদে চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি ভোটার হয়েছেন বাঁশখালীতে। ১৫ শতাংশের বেশি মানুষ নিবন্ধন করেছেন। এরপরে রয়েছে আনোয়ারা, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশ উপজেলা। দক্ষিণ চট্টগ্রামের এসব উপজেলায় ১১-১২ শতাংশ লোক ভোটার তালিকা হালনাগাদে নিবন্ধিত হয়েছেন। অথচ এ অঞ্চলে রোহিঙ্গা নাগরিকদের কারণে লাল তালিকাভুক্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। অপরদিকে, নগরীর পাঁচলাইশ এলাকায় নিবন্ধিত লোকের সংখ্যা বেশি হলেও কোতোয়ালী ও ডবলমুরিং থানা এলাকায় নিবন্ধনের হার ৫ শতাংশ। নির্বাচন কমিশন নিবন্ধনের পরিকল্পনা করেছে সাড়ে ৭ শতাংশ।

 

নির্বাচন কমিশনের তথ্য মতে, চট্টগ্রাম জেলা ও নগরীতে হালনাগাদ কর্মসূচিতে ৫ লাখ ৪২ হাজার ৭৪৪ জন নিবন্ধন করেছেন। এরমধ্যে ১৮ বছর বয়সী ভোটার অন্তর্ভুক্ত ছাড়াও ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী নাগরিকদেরও তথ্য সংগ্রহ করেছে নির্বাচন কমিশন। ১৮ বছর পূর্ণ হলেই ভোটার হিসেবে গণ্য হবেন তারা। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. কামরুল আলম পূর্বকোণকে বলেন, আগামী বছরের ২ জানুয়ারি হালনাগাদের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হবে। খসড়া তালিকার ভুল-ত্রুটি ও অসঙ্গতি সংশোধনের পর ২ মার্চ ভোটার দিবসে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হবে।

 

তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ে কাজ শেষ হয়েছে। এরপর তথ্য যাচাই-বাছাই করে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হবে। কমিশন সেই তথ্য-উপাত্ত পুনরায় যাচাই করে নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে অপলোড করবে।

 

হালনাগাদে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে তারা অটোমেটিক ভোটার হয়ে যাবেন। আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন তারা। চট্টগ্রাম জেলা ও নগরী মিলে বর্তমানে ভোটার সংখ্যা ৫৯ লাখ ৮৯ হাজার ২৩৫ জন। চলতি বছরের ২০ মে সারাদেশের সঙ্গে চট্টগ্রামে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচি শুরু হয়। গত ১৯ নভেম্বর তথ্য সংগ্রহ ও নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হয়।

 

নির্বাচন কমিশন থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, স›দ্বীপ উপজেলা নিবন্ধন করেছেন ২১ হাজার ৭২৪ জন। সীতাকুণ্ডে নিবন্ধন করেছেন ২৫ হাজার ৯৬৯ জন, কর্ণফুলীতে ১১ হাজার ৮১৬ জন, আনোয়ারায় ২৫ হাজার ৮৪০ জন, পটিয়ায় ৩০ হাজার ৭৩০ জন, লোহাগাড়ায় ২৪ হাজার ৫৭৪ জন, রাউজানে ২২ হাজার ২৪২ জন, মিরসরাইয়ে ৩৫ হাজার ২২ জন, হাটহাজারীতে ৩০ হাজার ৯৯০ জন, বোয়ালখালীতে ১৮ হাজার ৬৭৩ জন, রাঙ্গুনিয়ায় ৩০ হাজার ৭৩৭ জন, চন্দনাইশে ২০ হাজার ৯৩১ জন, সাতকানিয়ায় ৩৭ হাজার ৩৯৫ জন, ফটিকছড়িতে ৪৫ হাজার ৭৮২ জন, বাঁশখালীতে ৫০ হাজার ২৫৬ জন নিবন্ধন করেছেন।

 

নগরীর কোতোয়ালীতে নিবন্ধন করেছেন ১৩ হাজার ৮২৩ জন, পাহাড়তলীতে ১৬ হাজার ২২৪ জন, ডবলমুরিংয়ে ২২ হাজার ৮৯১ জন, চান্দগাঁওয়ে ১৮ হাজার ৯৭১ জন, বন্দরে ১৬ হাজার ৪৭৩ জন, পাঁচলাইশে ২১ হাজার ৬৭৭ জন।

 

ইসির নিবন্ধিত তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ১৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ নাগরিক নিবন্ধন করেছে বাঁশখালীতে। এরপর রয়েছে সাতকানিয়ায় ১২ দশমিক ৩৯ শতাংশ, আনোয়ারায় ১২ দশমিক ২৫ শতাংশ, চন্দনাইশে ১১ দশমিক ৯৫, রাঙ্গুনিয়ায় ১১ দশমিক ৮২, লোহাগাড়ায় ১১ দশমিক ৫২ ও নগরীর পাঁচলাইশে ১১ দশমিক ৯৪ শতাংশ। সবচেয়ে কম সংখ্যক লোক নিবন্ধন করেছেন নগরীর কোতোয়ালী ও ডবলমুরিংয়ে। কোতোয়ালীতে ৫ দশমিক ৫২, ডবলমুরিংয়ে ৫ দশমিক ৫১ ও পাহাড়তলীতে ৬ দশমিক ১০ শতাংশ।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট