চট্টগ্রাম সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৮ আগস্ট, ২০১৯ | ২:৩১ এএম

ইমাম হোসাইন রাজু

ডেঙ্গু কর্নারে স্থান সংকুলান হচ্ছে না রোগীর

হ চলতি মাসে বৃদ্ধি ৪ গুণ
হ নতুন করে শনাক্ত ২৬

 

গেল মাসে ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ১৩০ জন রোগী। কিন্তু চলতি মাসে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯৪ জনে। গেল ১৭ দিনেই বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় চারগুণ । তথ্য অনুসারে ঈদের দিন থেকে গতকাল শনিবার পর্যন্ত বৃহত্তর চট্টগ্রামের সরকারি এ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছিল ১৪২ জন। যা চলতি মাসে ভর্তি হওয়াদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক। আর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১২০ জন রোগী। সব মিলিয়ে বর্তমানে ১২৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। যা অতিতের রেকর্ড ভেঙেছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে সুখের খবর হলো- এসবের মধ্যেই মোট আক্রান্তের ৭৫ শতাংশ রোগী চমেক হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরে গেছেন।
এসবের মধ্যেই গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে চট্টগ্রাম জেলা ও নগরীতে আরও ২৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। যার মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ২০ জন রোগী। বাকি ছয়জনের মধ্যে বেসরকারি মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ জন, ইউএসটিসি হাসপাতালে ৩ জন, ম্যাক্স হাসপাতালে ১ জন এবং আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। সরেজমিনে চমেক হাসপাতালের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত ডেঙ্গু কর্নারে গিয়ে দেখা যায়, শতাধিক শয্যার এ ওয়ার্ডে কানায় কানায় পূর্ণ ডেঙ্গু রোগী। ভেতরে জায়গা না থাকায় ওয়ার্ডের বাইরের বারান্দায়ও রাখা হয়েছে রোগীদের। তবে তাদের সেবা নিশ্চিতে চিকিৎসকদের টিম সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন। মশারির ভেতরে রেখেই তাদের চিকিৎসা দিতেও দেখা গেছে। চিকিৎসক ও নার্সরা নিয়মিত রোগীদের খোঁজ-খবর রাখছেন বলেও জানিয়েছেন রোগীর স্বাজনরা। তবে ওয়ার্ডে শর্য্যার চেয়ে রোগীর সংখ্যা বেশি হলেও সেবায় সন্তুষ্ট স্বজনরা।
শুধু চমেক হাসপাতালেই নয়, একই অবস্থা জেলার বিভিন্ন সরকারি ও নগরীর বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও। সেখানেও গেল মাসের তুলনায় চলতি মাসে রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক হারে বেড়েছে। চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গেল মাসে নগরীর বেসরকারি হাসপাতালে মোট চিকিৎসাধীন রোগী ছিল মাত্র ৯৩ জন। তবে গত ১৭ দিনে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪৭ জনে।
এদিকে, অতিতের তুলনায় রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ হিসেবে চিকিৎসকরা দেখছেন ঈদ ও বৃষ্টিকে। স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে রাজধানী ঢাকাতে। ঈদে অনেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী নিজ গ্রাম বা আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ায় এ সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। তবে যেভাবে আশংকা করা হয়েছে তার চেয়ে এখন পর্যন্ত কিছুটা কম বলেও জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আব্দুস সাত্তার পূর্বকোণকে বলেন, ‘ঈদের আগে যেভাবে ধারণা করা হয়েছিল তা শুরু হয়ে গেছে। কিছুটা কম হলেও তুলনামূলক ভাবে বেড়েছে। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে বৃষ্টি। থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়াটাও ডেঙ্গু আক্রান্তের আরেকটি কারণ। কেননা বৃষ্টির পানি বিভিন্ন স্থানে জমে থেকে এডিস মশা উৎপাদন হয়। যদি তীব্র রৌদ হয়, তাহলে ধীরে ধীরে তা কমে আসবে’।
অন্যদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থা অবনিত দুই রোগী আগের চেয়ে কিছুটা উন্নতি হয়েছে উল্লেখ করে ডা. আব্দুস সাত্তার আরও বলেন, ‘আগের দিন দুই রোগীর অবস্থা অবনতি হওয়ায় তাদের আইসিউতে ভর্তি করানো হয়। তবে বর্তমানে তাদের অবস্থা কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। তাদের সেবা নিশ্চিতে সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে’।
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও বরাবরের মতো এ নিয়ে কাউকে আতংকিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী পূর্বকোণকে বলেন, ‘এই সময়ে এডিস মশা জন্ম। তাই প্রত্যেকেই নিজ অবস্থান থেকে নিজ আঙ্গিনায় নিয়মিত পরিষ্কার রাখলে, এডিস নির্মূল হবে। তাহলেই ডেঙ্গু হবে না। তাছাড়া ঢাকার মতো এখনো চট্টগ্রামে মহামারি ধারণ করেনি। তাই এ নিয়ে আতংকিত হওয়ার কিছুই নেই’।

The Post Viewed By: 250 People

সম্পর্কিত পোস্ট