চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩

সর্বশেষ:

২৮ নভেম্বর, ২০২২ | ২:০০ অপরাহ্ণ

নাজিম মুহাম্মদ

ট্যুরিস্ট পুলিশের ১ একর জমি নিয়ে জটিলতা ‘কাটছেই না’

নগরীর বাকলিয়া এলাকায় কর্ণফুলী নদীর তীরে জোনাল অফিসের ভবন নির্মাণ করতে ১ একর খাস জমি বন্দোবস্ত নেয় ট্যুরিস্ট পুলিশ। ৩৩ কোটি টাকা দিয়ে এই জমি বন্দোবস্ত নিলেও এখন সেখানে ভবন নির্মাণ করতে পারছে না তারা। এর কারণ- ট্যুরিস্ট পুলিশকে জেলা প্রশাসনের বন্দোবস্ত দেওয়া জমিটি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) ‘কর্ণফুলী নদীর তীর বরাবর কালুরঘাট সেতু হতে চাক্তাই খাল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ’ প্রকল্পের মধ্যে পড়েছে।

 

ট্যুরিস্ট পুলিশ বলছে- সিডিএ’র অনাপত্তি ছাড়পত্র নিয়েই জেলা প্রশাসন থেকে জমি বন্দোবস্ত নিয়েছে তারা। তাদের নামে খতিয়ানও হয়ে গেছে। বন্দোবস্ত নেওয়া জমিটি প্রকল্পের মধ্যে পড়লে সিডিএ’র তখনই বলা উচিত ছিলো। তবে সিডিএ’র দাবি-ওই জমির বিষয়ে তারা অনাপত্তি ছাড়পত্র দেয়নি। ট্যুরিস্ট পুলিশ যে ওই জমি বন্দোবস্ত নিচ্ছে সেটাও তারা জানতো না। কাজ করতে গিয়েই জমিতে ট্যুরিস্ট পুলিশের সাইনবোর্ড দেখে তারা।  কর্ণফুলী নদীর তীর বরাবর কালুরঘাট সেতু হতে চাক্তাই খাল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের মধ্যে পড়া ১ একর জমি নিয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও সিডিএ’র ‘ঠেলাঠেলির’ কারণে ওই অংশে প্রকল্পের কাজ আটকে আছে। নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। দুই সংস্থার এই দ্বন্দ্ব গড়িয়েছে মন্ত্রণালয় পর্যন্ত। এখন ট্যুরিস্ট পুলিশকে অন্য কোথাও সমপরিমাণ জমি কিনে দিয়ে সিডিএকে বিষয়টি সমাধান করতে বলেছে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।  ২০২১ এর সেপ্টেম্বরে সিডিএ চেয়ারম্যানকে চিঠি দেয় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, ‘কর্ণফুলী নদীর তীর বরাবর কালুরঘাট সেতু হতে চাক্তাই খাল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ’ প্রকল্পটি জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। সুবিধাজনক স্থানে জমি নির্বাচন করে প্রচলিত বিধিবিধান অনুসরণ করে নির্বাচিত জমিটি ট্যুরিস্ট পুলিশের সাথে ‘এওয়াজ বদলের’ অনুমতি নির্দেশক্রমে প্রদান করা হল।’  তবে ১ বছর পার হলেও ট্যুরিস্ট পুলিশকে বিকল্প জমি দিতে পারেনি সিডিএ।

 

মাস্টার প্ল্যান ও প্রকল্পে থাকা সড়কের জমি কেনার আগে ট্যুরিস্ট পুলিশকে সিডিএর অনাপত্তি ছাড়পত্র দেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক ও সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী রাজীব দাশ জানান, ট্যুরিস্ট পুলিশকে জমি দিতে আমরা কোনো ছাড়পত্র দিইনি। প্রকল্পের কাজ করতে গিয়ে সেখানে ট্যুরিস্ট পুলিশের সাইনবোর্ড দেখি। প্রকল্পের জমি ট্যুরিস্ট পুলিশের নামে বন্দোবস্ত দিয়েছে জেলা প্রশাসন। তারা কীভাবে দিয়েছে জানি না।

 

ট্যুরিস্ট পুলিশের সঙ্গে জমি এওয়াজ বদলের বিষয়ে জানতে চাইলে রাজীব দাশ জানান, সিডিএ সমপরিমাণ জমি ট্যুরিস্ট পুলিশকে বিধি মোতাবেক হস্তান্তর করবে। ইতিমধ্যে আমরা একটি জমি দেখেছি। জমির দলিল, কাগজ যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। আইনজীবীর মতামত নিয়ে মালিকানা স্বত্ব ঠিক থাকলে সিডিএ জমি কেনার সিদ্ধান্ত নেবে। এরপর আইন মেনে ট্যুরিস্ট পুলিশের সঙ্গে জমি এওয়াজ বদল করা হবে। সিডিএ থেকে অনাপত্তি ছাড়পত্র নিয়েই জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে জমি বন্দোবস্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্যুরিস্ট পুলিশের চট্টগ্রাম জোনের পুলিশ সুপার আপেল মাহমুদ। তিনি জানান, নিজস্ব ভবন করতে সিডিএর অনাপত্তি ছাড়পত্র নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে ২০১৯ সালে বাকলিয়ায় ১ একর জমি বন্দোবস্ত নিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। এখন সে জমি প্রকল্পের মধ্যে পড়ায় সিডিএর সঙ্গে এওয়াজ বদলের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 

তিনি বলেন, সিডিএ আমাদের জানিয়েছে- তারা আমাদের সমপরিমাণ জমি কিনে দেবে। কিন্তু তারা অহেতুক কালক্ষেপণ করছে। এতে গুরুত্বপুর্ণ এ প্রকল্পের ব্যয় যেমন বাড়ছে তেমনি আমরা যথাসময়ে ভবন তৈরির কাজ শুরু করতে পারছি না। ভাড়া বাসায় কাজ করতে হচ্ছে ট্যুরিস্ট পুলিশকে।

 

২০১৭ সালে একনেকে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পের মধ্যে পড়া জমি ট্যুরিস্ট পুলিশকে ২০১৯ সালে বন্দোবস্ত দেওয়ার বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নাজমুল আহসান বলেন, ট্যুরিস্ট পুলিশকে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই।

গত বৃহস্পতিবার প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে- বাকলিয়া সৎসঙ্গ বিহারের বিপরীতে কর্ণফুলী নদী তীরের ওই জমিতে ট্যুরিস্ট পুলিশের সাইনবোর্ড টাঙানো। ট্যুরিস্ট পুলিশের জমি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় সাড়ে ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটির ওই এলাকায় কাজ বন্ধ রয়েছে। এতে পুরো কাজে স্থবিরতা নেমে  এসেছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়া নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ২৩শ কোটি টাকার এই প্রকল্পে অগ্রগতি ৬০ শতাংশ।

 

প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্পেক্ট্রার প্রকল্প ব্যবস্থাপক অসীম কুমার হালদার জানান, ট্যুরিস্ট পুলিশের এক একর জমিতে কাজ করতে গেলে বাধা দেয় তারা। এই কারণে  দ্ধুসঢ়;ইপাশে নির্মাণ কাজ চললেও মাঝখানে প্রায় ১০০ মিটারের বেশি জমিতে কাজ বন্ধ রয়েছে। ধারাবাহিকভাবে কাজ করতে পারলে সময় যেমন কম লাগতো তেমনি খরচও বাঁচতো। ট্যুরিস্ট পুলিশের জমির বিষয়টি দ্রুত সমাধান হলে কাজটি শেষ করতে সময় কম লাগবে।

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট