চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩

সর্বশেষ:

২৮ নভেম্বর, ২০২২ | ১২:৩৩ অপরাহ্ণ

ইফতেখারুল ইসলাম

৬ মাসে ৩০% পোল্ট্রি খামার বন্ধ

পোল্ট্রি খাদ্যের দাম বৃদ্ধিতে প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রামের পোল্ট্রি খাতে। গত ৬ মাসে পোল্ট্রি ফিডের দাম বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) প্রায় ১৩০০ টাকা বেড়ে ৩৪০০ টাকা হয়েছে। করোনার আগে পোল্ট্রি ফার্মের প্রতিটি একদিনের বাচ্চা মুরগির দাম ছিল ২০-২৫ টাকা। যা পরবর্তীতে ৫০ টাকায় গিয়ে ঠেকে। তবে গত সপ্তাহখানেক ধরে কমতে শুরু করেছে। গত শনিবার একদিন বয়সী বাচ্চার পাইকারি দাম ছিল প্রতিটি ২৬ টাকা।

বৃহত্তর চট্টগ্রাম পোল্ট্রি এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক লিটন চৌধুরী পূর্বকোণকে বলেন, মুরগির একদিন বয়সী বাচ্চার দাম গত এক সপ্তাহ ধরে কমতে শুরু করেছে। তবে এতে খামারিদের কোন লাভ হবে না। কারণ গত ৬ মাস ধরে ক্ষুদ্র খামারিরা নিশ্চিহ্ন হয়েছেন।

 

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৬ মাস আগে যে ফিডের দাম ২১০০ থেকে ২২০০ টাকা ছিল। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অজুহাতে তা এখন ৩৪০০ টাকা থেকে ৩৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমদানিকারকরা প্রতিমাসে ফিডের দাম বাড়িয়েছে। একারণে চট্টগ্রাম জেলার অন্তত ৩০ শতাংশ খামারি পুঁজি হারিয়ে খামার বন্ধ করে দিয়েছে। বর্তমানে প্রতিকেজি ফিডের দাম প্রায় ৭০ টাকা। একটি মুরগি বড় হতে প্রায় দুই কেজি ফিড খায়। তার সাথে বাচ্চার দাম ৩০ টাকা, ওষুধ এবং আনুষাঙ্গিক ব্যয় ৩০ টাকা যোগ করলে ২০০ টাকার উপরে খরচ হয়।

এর মধ্যে অন্তত ৫ শতাংশ মুরগি মারা যেতে পারে। বাচ্চা মরলে খরচ আরো বাড়বে। এসব খরচ করে ওই মুরগির ওজন আসবে সর্বোচ্চ ১৫০০ গ্রাম। এখন মুরগির পাইকারি দর কেজি ১২০ টাকা। ওই মুরগি বিক্রি করে খামারি পাবেন ১৮০ টাকা। যেকারণে ক্ষুদ্র খামারিরা টিকতে পারছেন না।

তিনি বলেন, দাম বৃদ্ধি ছাড়াও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণেও ক্ষুদ্র খামারিদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। জেনারেটর কেনার সামর্থ্য সব খামারির নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, উৎপাদন খরচ বাড়লেও মুরগির দাম বাড়ানো যাচ্ছে না। মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারছেন না। দাম বাড়ালে মানুষ মুরগি খাবে না। তখন আরো বেশি খামার বন্ধ হবে।

 

এবিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. দেলোয়ার হোসেন পূর্বকোণকে বলেন, পোল্ট্রি খাদ্যের মূল উপাদান গম এবং ভুট্টা আসে মূলত রাশিয়া এবং ইউক্রেন থেকে। যুদ্ধের কারণে পোল্ট্রি খাদ্যের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। যার কারণে দাম বেড়ে গেছে। এই খাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ছোট খামারিরা। ছোট খামারিদের এমনিতেই খরচ বেশি পড়ে। কারণ তাদেরকে অল্প অল্প করে কিনতে হয়। এক্ষেত্রে বড় খামারিরা কিছুটা সুবিধা পায়। একসাথে বেশি কিনে কিংবা আমদানি করে বলে খরচ তুলনামূলক কম পড়ে। তাই ছোট খামারিরা টিকতে পারছে না। গত ৬ মাসে অন্তত ৩০ শতাংশ ছোট খামার বন্ধ হয়ে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। যেকারণে ডিম ও মুরগির দামও বেড়ে গেছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সারা দেশে মোট ১ লাখ ৯৫ হাজার পোল্ট্রি খামার রয়েছে। এরমধ্যে ৮৬ হাজার ৯২৭টি নিবন্ধিত। এই খাত থেকে বছরে ২ হাজার ৩৩৫ দশমিক ৩৫ কোটি ডিম এবং ৩৮ লাখ ৪৪ হাজার মেট্রিক টন মুরগির মাংস উৎপাদিত হয়। দেশের চাহিদার শতভাগ পূরণ হয় এখান থেকেই।

 

পূর্বকোণ/এএস

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট