চট্টগ্রাম সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৮ আগস্ট, ২০১৯ | ২:১১ এএম

পূর্বকোণ প্রতিনিধি, রাঙামাটি অফিস

রাঙামাটিতে সেমিনারে পার্বত্যমন্ত্রী বীর বাহাদুর

মানুষের জীবন বাঁচাতে কেউ বাধা দিলে ছাড় দেয়া হবে না

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শান্তি চুক্তি হয়েছে। সে সময় সব অস্ত্র সরকারের নিকট জমা হয়েছে। এরপর আর পাহাড়ে কোনো ধরনের অস্ত্র থাকার কথা নয়। পাহাড়ে রাজনীতির নামে যেসব অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলো অবৈধ। অবৈধ অস্ত্র দিয়ে পাহাড়ে হত্যা, অপহরণসহ বিপুল চাঁদাবাজি হচ্ছে। সরকার পাহাড়ে জানমাল রক্ষায় যা করা দরকার তাই করবে। তিনি রাজনীতির নামে এসব অস্ত্র বহনকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এসব চাাঁদাবাজি কার জন্য? আপনারা রাজনীতি করেন না। ব্যক্তি স্বার্থনীতিতে জড়িত। এটা অন্যায়। অন্যায়কারী কেউ টিকতে পারবেন না।

তিনি বলেন, বন ধ্বংসের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে পানির উৎস শুকিয়ে গেছে। এসব পানির উৎস রক্ষায় নদ-নদী পাহাড়ি ছড়া, ঝর্ণা সংরক্ষণ দরকার। এজন্য বনায়নের বিকল্প নেই। কিন্তু বনায়ন করতে গেলে বাধা দিতে যায় আঞ্চলিক দলগুলো। পানির অপর নাম জীবন। তাই মানুষের জীবন বাঁচাতে কেউ বাধা দিলে ছাড় দেয়া হবে না। পাহাড়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতার প্রশ্নে বীর বাহাদুর বলেন, এখানে যারা এনজিও করেন- তাদের কেউ জবাবদিহি করতে না চাইলে তারা সোজা গাট্টি (তল্পিতল্লা) বেঁধে চলে যেতে পারেন। গতকাল শনিবার রাঙামাটিতে আয়োজিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে টেকসইপানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক দিনব্যাপী সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সেমিনারে গেস্ট অব অনারের বক্তব্যে রাঙামাটির সাংসদ ও সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বনায়ন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছিল। কিন্তু পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ ও জনসংহতি সমিতির বিরোধিতার কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। সরকার রাঙামাটিতে মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় করতে গেলে, তাতেও বাধা দিয়েছিল তারা। এখানে যেকোন উন্নয়ন কর্মকা-ে প্রধান প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে অবৈধ অস্ত্র। আর তাদের টার্গেট বিএনপি, জামায়াত নয় আওয়ামী লীগ। অবৈধ অস্ত্র দিয়ে তিন পার্বত্য জেলায় আমাদের অনেক নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড আয়োজিত এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বোর্ড চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা এনডিসি। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি। এতে গেস্ট অব অনার ছিলেন, রাঙামাটির সাংসদ ও সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম, রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, রাঙামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ, পুলিশ সুপার মো. আলমগীর কবির প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) শাহীনুল ইসলাম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. সঞ্জীব কুমার ভুচার ও মো. শহীদুল ইসলাম।

The Post Viewed By: 39 People

সম্পর্কিত পোস্ট