চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩

সর্বশেষ:

২৬ নভেম্বর, ২০২২ | ১১:২৩ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

শিশু আয়াতকে ৬ টুকরা করে হত্যা, এখনো হদিস মিলেনি মরদেহের

চট্টগ্রামে হত্যার শিকার পাঁচ বছরের শিশু আলীনা ইসলাম আয়াতের মরদেহ উদ্ধার হয়নি এখনো। তাকে ছয় টুকরা করে খুনের দাবি করা হলেও সেগুলোর কোনো হদিস মেলেনি। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার আবীর আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শনিবার (২৬ নভেম্বর) চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাদ্দাম হোসেনের আদালত শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন মামলার তদন্ত দলের সদস্য পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক ইলিয়াস খান। পূর্বকোণকে তিনি বলেন, শিশুটিকে নিখোঁজের দিনই হত্যার পর ছয় টুকরা করে বস্তায় ভরার কথা জানিয়েছে আবীর। পরে টুকরাগুলো তিনটি প্যাকেটে মুড়িয়ে সাগর ও নালার দুটি জায়গায় ছড়িয়ে দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে এ তথ্য দিলে তাকে নিয়ে দফায় দফায় অভিযান চালানো হয়। এতে হত্যায় ব্যবহৃত কিছু উপকরণ পাওয়া গেলেও লাশের হদিস মেলেনি। লাশ উদ্ধার করতে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। তাই আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

 

গত শুক্রবার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জানায়, শিশুটিকে নিখোঁজের দিনই হত্যা করেছে তাদের ভবনের ভাড়াটিয়া আজহারুল ইসলামের ছেলে (১৯)। এক বাসায় শ্বাসরোধ করে শিশুটিকে হত্যা করে আবীর। সেই লাশ প্যাকেটে মুড়িয়ে আরেক বাসায় নিয়ে কেটে করে ছয় টুকরো। এরপর সাগর আর খালে ছড়িয়ে দেয়। ভাটার টানে চলে যায় আয়াতের মাংসপিণ্ড ভর্তি প্যাকেটগুলো। বৃহস্পতিবার রাতে আবীরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পর শিশুটিকে হত্যার এমন লোমহর্ষক তথ্য পায় পিবিআই। শুক্রবার তাকেসহ নিয়ে নগরের ইপিজেড থানার আকমল আলী রোড ও সাগরপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটি ও শিশুটির পায়ের স্যান্ডেলসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের ধারণা, লাশের টুকরোগুলো সাগরে ভেসে গেছে।

 

পিবিআই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মুক্তিপণ আদায়ের জন্য শিশুটিকে অপহরণ করেছিল। কোথাও লুকিয়ে রাখতে না পেরে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে লাশ টুকরো তিনটি প্যাকেটে মুড়িয়ে সাগর ও নালার দুইটি জায়গায় ছড়িয়ে দিয়েছে। ভারতীয় টিভি শো ক্রাইম পেট্রোল ও সিআইডি দেখে হত্যাকাণ্ড ও আলামত লুকিয়ে ফেলার এমন নৃশংস ও ভয়ঙ্কর কৌশল রপ্ত করেছে আসামি আবীর।

শিশু আয়াত নগরীর ইপিজেড থানার দক্ষিণ হালিশহর বন্দরটিলা নয়ারহাট ওয়াজ মুন্সীর নতুন বাড়ির সোহেল রানার মেয়ে। সে স্থানীয় তালীমূল কোরআন নূরানী মাদ্রাসার ছাত্রী ছিল। গত ১৫ নভেম্বর বিকেলে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি সে। এ ঘটনায় জিডি হলে আবীরকে গ্রেপ্তারের পর হত্যার তথ্য উঠে আসে।

 

পূর্বকোণ/মামুন/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট