চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩

সর্বশেষ:

২৬ নভেম্বর, ২০২২ | ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বর্জ্যে ভরা নালা, সড়কে পানি

জলোচ্ছ্বাস ও জলাবদ্ধতা বাকলিয়াবাসীর যেন কপালের লিখন। বর্ষা নয়, শীত মৌসুমেই জলাবদ্ধতায় ডুবে থাকতে হয় তাদের। ১৭নং পশ্চিম বাকলিয়ার উজির আলী সড়ক সারা বছর জোয়ারের পানিতে ডুবে থাকায় অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয় এলাকাবাসীকে।

 

সরেজমিন দেখা যায়, পশ্চিম বাকলিয়ার উজির আলী সড়কের স্থানে স্থানে পানিতে ডুবে রয়েছে। একশ মিটার এলাকা জোয়ারের পানিতে ডুবে রয়েছে। নোংরা ও কাদাপানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। বিশেষ করে স্কুলশিক্ষার্থী ও মুসল্লিদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

 

১৭নং পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. শহীদুল আলম পূর্বকোণকে বলেন, চাঁনমিয়া মুন্সির রোড, উজির আলী বাড়ি সড়ক ও মৌসুমী আবাসিক এলাকার সড়ক ও সংস্কারের দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নয় কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পে সড়কগুলো উঁচু করা হবে। শিগগিরই কাজ শুরু করা হবে। দেখা যায়, সড়ক লাগোয়া নালাটি বর্জ্য, ময়লা-আবর্জনায় ভরে রয়েছে।

 

এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে নালা-নর্দমা দখল করে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। নালায় পলিথিন ও নানা ধরনের বর্জ্যে ভরে রয়েছে। এতে নালা-নর্দমার পানি দূষিত হয়ে পড়েছে। জোয়ারের পানিতে ফুঁসে ওঠে নালা-নর্দমার পানি। ডুবে যায় রাস্তাঘাট। জোয়ারের পানি থেকে রেহাই পেতে প্রতিটি ভবনের সামনে দু-আড়াই ফুট উচ্চতার দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে।

 

ওই এলাকার বাসিন্দা ও সাবেক শিক্ষা কর্মকর্তা আলহাজ এম নূরুল আলম বলেন, নগরীতে জলাবদ্ধতা নিরসনের মেগা প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়াও প্রধান সড়ক সংস্কার করে উঁচু করা হয়েছে। কিন্তু উজির আলী সড়ক সংস্কার না করায় এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগ-দুর্দশা পোহাতে হচ্ছে। ময়লা-আবর্জনা ও মানববর্জ্য মিশ্রিত নোংরা-কাদাপানি মাড়িয়ে মসজিদে যাতায়াত করতে হয়। আরেক ভবনমালিক প্রবাসী উজ্জ্বল দত্ত বলেন, বর্ষা ছাড়া শীতকালেও জলাবদ্ধতায় ডুবে থাকতে হয়। এলাকার প্রতিটি ভবনের নিচতলায় পানি উঠার কারণে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

 

কাউন্সিলর শহীদুল আলম বলেন, নগরীর জলাবদ্ধতা প্রকল্পের আওতায় চাক্তাই খালের সংস্কার কাজের কারণে বিভিন্ন স্থানে বাঁধ দেওয়ায় পানি উঠছে। পলিথিন, ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে ড্রেনগুলো পানি নিষ্কাশনের বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পানি চলাচলে বিঘ্নিত হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, নালা-নর্দমা পরিষ্কার করা রুটিন মাফিক কাজ। কিন্তু বাকলিয়া এলাকা নতুন নতুন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। জনবসতি বাড়ছে। সেই তুলনায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংখ্যা বাড়েনি। জনবল সংকটের কারণে একটু ব্যাঘাত ঘটছে।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট