চট্টগ্রাম সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৮ আগস্ট, ২০১৯ | ১:৪৭ এএম

নিজস্ব প্রতিবেদক

ময়লা ঘেঁটে জোটে রুটি

২ নম্বর জালালাবাদ ওয়ার্ড

দশ বছরের ছোট্ট শিশু ‘আয়ান’। নিছক মনের শখে সিটি কর্পোরেশনের ময়লা-আবর্জনার ডাম্পিং স্টেশনে ঘুরে বেড়ায়। ডাম্পিং এ তার বাবা আবর্জনা ঘেঁটে বিক্রয়যোগ্য সামগ্রী সংগ্রহে কাজ করে। সে সুবাদে ডাম্পিং ট্রাক আসতে দেখলেই দৌঁড়ে উঠে যায় ট্রাকে। রোগ বালাই কিংবা দুর্ঘটনার ভ্রুক্ষেপ করে না। দুরন্তপনায় যা হবার ওইদিন তাই হলো। চলন্ত ট্রাকে উঠার সময় পড়ে গেলো শিশুটি। আবর্জনা-নিঃসৃত দুর্গন্ধযুক্ত কাদা-পানিতে একাকার আয়ানের সারা শরীর। প্রচ- ব্যথায় কাতর শিশুর চিৎকার শুনে দৌঁড়ে গিয়ে কোলে তুলে নিলেন বাবা। বুকে জড়িয়ে ধরেন পরম মমতায়। কিছুক্ষণ পর দুজনই বেমালুম ভুলে গেলো সব। আবারো বাবা ছেলে মিলে ময়লা-আবর্জনা ঘেঁটে খুঁজছে বিক্রয়যোগ্য পণ্য। দিনশেষে যা বিক্রয় করে জোটে-রুটি।

এমন দৃশ্য প্রতিদিনই দেখা যায় আরেফিন নগরের ময়লা-আবর্জনার ডাম্পিং স্টেশনে। শুধু ওই শিশু কিংবা তার বাবাই নয়। এমন বহু মানুষ আছেন। যারা চসিক এর ময়লা-আবর্জনা ঘেঁটে বিক্রয়যোগ্য পণ্য সামগ্রী সংগ্রহ করে। যা পাওয়া যায় তা দিয়েই ‘সুখেই’ চলে তাদের নিত্যদিনের সংসার। আলাপকালে এক যুবক বলেন, ময়লা ঘেঁটে যা পাওয়া যায় তাতে সংসার চলে। তাদের সন্তুষ্টির পাশাপাশি অভিযোগও আছে। বললেন ময়লা ঘেঁটে পাওয়া সামগ্রী নির্দিষ্ট জায়গায় বিক্রয় করতে বাধ্য করা হয়। দিতে হয় মাসোহারাও। তাদের দাবি মানা না হলে ডাম্পিং-এ ঢুকতে দেয়া হয় না। তবে বিশেষ অভিজ্ঞতাও রয়েছে ময়লা ঘাঁটাওয়ালাদের ঝুলিতে। বললেন, রেঁস্তোরার ক্রোকারিস, ছিঁড়া টাকা, গহনার অংশ আর ভাংগা মোবাইল সেট পাওয়া যায় হরহামেশাই। কিন্তু অনেক সময় টাকার বান্ডিল, দামী ফোন সেট, স্বর্ণের অলংকার টাকাভর্তি মানিব্যাগও পাওয়া যায়। তখন মনে হয়, বেকার বসে না থেকে ময়লা ঘেঁটেও জীবিকা নির্বাহ করা যায়।

আরেফিন নগরের ময়লা-আবর্জনার ডাম্পিং এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পাহাড়ের খাজে খাজে ময়লা-আবর্জনা ফেলতে ফেলতে এখন পাহাড় দেখা যায় না। পাহাড়ের শীর্ষদেশ ভেদ করে দেখা যায় ময়লা-আবর্জনার স্তুপ। ওই উঁচু স্তুপের উপর এস্কেভেটর চালাচ্ছেন এক চালক। আবর্জনা নিঃসৃত পানি গড়িয়ে পড়ছে এলাকাজুড়ে। আশপাশের বনজঙ্গল, গাছ-গাছালি পুড়ে লাল হয়ে যাচ্ছে। আবর্জনার ডাম্পিং এ আলাপকালে এসব টোকাই বলে, শুষ্কমৌসুমে ময়লার স্তুপ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় চসিক পরিচ্ছন্ন কর্মীরা। এসময় পুরো এলাকা কালো ধোয়ায় অন্ধকার হয়ে যায়। শ^াসরোগীদের কষ্ট বেড়ে যায়। এমন দমবন্ধ পরিবেশের মাঝেই ময়লা-আবর্জনার স্তুপে বিক্রয়যোগ্য পণ্য খুঁজছে একদল টোকাই। মৃদুহেসে এক টোকাইর উত্তর আমাদের কোন রোগ হয় না। শ^াস কষ্টও নাই। ময়লার স্তুপেই আমাদের আহার-নিদ্রা। সংসারও চলে আবর্জনা কুড়িয়ে।

The Post Viewed By: 110 People

সম্পর্কিত পোস্ট