চট্টগ্রাম সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

২২ নভেম্বর, ২০২২ | ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ

মোস্তফা মোহাম্মদ এমরান

নিরাপত্তা ঝুঁকিতে কোর্টহিল

চট্টগ্রামের আদলতে নগর ও জেলা মিলে ৪০০ পুলিশের স্থলে মোতায়েন থাকে ১৭০ থেকে ১৯০ জন। যা প্রয়োজনের চেয়ে অর্ধেকেরও কম। সম্প্রতি ঢাকা জেলা আদালতে পুলিশের চোখে স্প্রে ছিঁটিয়ে দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় চট্টগ্রাম আদালতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মহানগর আদালতে ২০০ পুলিশ সদস্যের প্রয়োজন থাকলেও সেখানে মোতায়েন থাকে ৬০ থেকে ৭০ জন।

 

অপরদিকে, জেলার আদালতে ২০০ জনের স্থলে ১৩০ জনের বেশি থাকে না বলে সংশ্লিষ্টসূত্রগুলো জানিয়েছেন। তবে গতকাল রবিবার মহানগর আদালতগুলোর জন্য বাড়তি ১৬ জন পুলিশ মোতায়েন করা হয় বলে পুলিশের মহানগর (প্রসিকিউশন) সূত্র পূর্বকোণকে নিশ্চিত করে।

 

সারাদেশের মত চট্টগ্রামে কোর্টহিল আদালত এলাকায়ও ২০০৫ ও ২০০৬ সালে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা সংগঠিত হয়েছিল। চট্টগ্রামে সেসব জঙ্গি হামলা ও হামলার চেষ্টার ঘটনায় ৫৫ মামলা এখনও চলমান রয়েছে বলে আদালতসূত্রে জানা গেছে। এসব মামলায় জামিনে থাকা আসামি ও হাজতে থাকা আসামিদের কোর্টহিলের আদালতে হাজির করা হয়। কারাগারে থাকা জেএমবির চট্টগ্রাম বিভাগের সাবেক কমান্ডার জাবেদ ইকবালসহ ৪৫ জন জঙ্গিকে বিভিন্ন মামলায় হাজির করা হয় ধার্য তারিখে। এছাড়া চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীসহ শতাধিক হাজতি আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে হাজিরা দিতে আসেন প্রতিদিন গড়ে ১১০ থেকে ১২০ জন আসামি দুর্ধর্ষসহ।

 

এছাড়া বিভিন্ন থানায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামির সংখ্যাও এদের সাথে যোগ হয়। আদলতে হাজির করার জন্য এদের রাখা হয় নগর (মেট্রোপলিটন) হাজতখানা ও জেলা হাজতখানায়। আদালত ভবনের নীচতলায় এই দুটি হাজতের অবস্থান। হাজতখানা থেকে মামলা সংশ্লিষ্ট আদালতে আসআমিদের হাজিরা শেষে আদালতের কার্যক্রমশেষে এদের আবারও কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে কয়েকজন আসামির পাহারায় থাকে এক থেকে দুইজন পুলিশ। যা প্রয়োজনের চেয়ে অপ্রতুল। অপরদিকে, ২০০৫ সালের পর বেশ কয়েকবছর চট্টগ্রাম কোর্টহিলে প্রবেশের প্রধান ফটকে তল্লাশি চৌকি থাকলেও প্রায় এক দশক থেকে প্রধান ফটকে কোন নিরাপত্তা চৌকি বা তল্লাশি চৌকি নেই।

জানা গেছে, কোর্টহিলে ৭৬টি আদালত ছাড়াও রয়েছে জনগুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দপ্তর। জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তর রয়েছে এখনে। এছাড়া রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স রয়েছে। জেলা আইনজীবী সমিতি অফিস ও সমিতির ৫টি চেম্বার ভবন রয়েছে। ফলে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ নানা প্রয়োজনে নিত্য আসা যাওয়া করে কোর্টহিল এলাকায়।

 

নিরাপত্তা চৌকি না থাকায় যে কেউ অবাধে ঢুকে পড়তে পারে এ জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকায়। প্রধান ফটক ছাড়াও আইনজীবী সমিতির মসজিদের উত্তর পাশে রয়েছে একটি প্রবেশ পথ। আরেকটা প্রবেশপথ রয়েছে নারী ও শিশু ভবনের উত্তর পাশে (এনেক্স আদালত ভবন)। এ দুটি পথে জহুর হকার মার্কেট থেকে অনায়াসে যে কেউ প্রবেশ করতে পারে। নিরাপত্তা জোরদার না হওয়ায় এসব পথে পলাতক জঙ্গিরা অনায়াসে ঢুকে পড়ে নাশকতা চালানোর আশঙ্কা প্রকাশ করছেন আইনজীবীসহ নানামহল।

 

তবে পুলিশ বলছে, পুলিশের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম হলেও আদালত এলাকার নিরাপত্তায় কোনরকম ত্রুটি নেই। মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) কামরুল হাসান পূর্বকোণকে বলেন, জনবল স্বল্পতার কারণে একজন পুলিশ কনস্টেবল দিয়ে আসামিদের একটি এজলাসে পাঠানো হয়। আদালতে পুলিশ বাড়ানোর জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। যেখানে দরকার আরও দুই থেকে তিনজন।

 

গতকাল সোমবার মহানগর আদালতের জন্য ১৬ জন বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঢাকার ঘটনার পুনরাবৃত্তিরোধে চট্টগ্রামের আদালত এলাকার পুলিশ এলার্ট রয়েছে। এব্যাপারে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন আইনজীবী সমিতির ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা রয়েছে কোর্টহিল ও আশেপাশের এলাকায়। যা সংশ্লিষ্টদের নজরদারিতে রয়েছে।

 

জেলা কোর্ট পরিদর্শক জাকের হোসাইন মাহমুদও পূর্বকোণের প্রায় একই কথা জানিয়েছেন। জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এএইচএম জিয়া উদ্দিন পূর্বকোণকে বলেন, ঢাকায় জঙ্গি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। চট্টগ্রামের কোর্টহিলে নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য ইতিমধ্যে আমরা সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করেছি।

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট