চট্টগ্রাম সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

২২ নভেম্বর, ২০২২ | ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ

ইফতেখারুল ইসলাম

পরামর্শক নিয়োগ ডিসেম্বরে

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) আড়াই হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদনের পর পরামর্শক নিয়োগ করতেই বছর পার হয়ে গেল। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পরামর্শক নিয়োগ প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ে, সপ্তাহখানেকের মধ্যেই পরামর্শক প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত করা হবে। ডিসেম্বর মাস থেকেই পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করবে।

 

চসিকের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম পূর্বকোণকে জানান, প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের নির্দেশনা আছে। ওই পরামর্শক প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ডিজাইন, কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য সুপারভাইজ করবে। একটি দক্ষ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের জন্য দরপত্র আহবান করা হয়েছিল। বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান তাতে অংশগ্রহণ করে।

 

অন্তত ৫টি প্রতিষ্ঠান টেকনিক্যালি দক্ষ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। আগামী সপ্তাহে অর্থনৈতিক দিক পর্যালোচনা সম্পন্ন করে একটি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেয়া হবে। ডিসেম্বর থেকেই পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করবে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগে ধীরগতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। সেখান থেকে কারিগরিভাবে দক্ষ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বাছাই করা সময়সাপেক্ষ কাজ। তবে কাজটি প্রায় সম্পন্ন হতে চলেছে।

 

তিনি জানান, চসিকের ইতিহাসে এটিই প্রথম প্রকল্প যার কাজের মান নিশ্চিত এবং সঠিক ডিজাইন করার জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। তবে ইতোমধ্যে কিছু সড়ক সংস্কার কাজের দরপত্র আহবান করা হয়েছে। সেসব সড়কের কাজের মানও পর্যবেক্ষন করবে নিয়োগকৃত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান।

 

ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রধান প্রকৌশলী জানান, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোর ফুটওভারব্রিজ শুরুর দিকেই নির্মাণ করা হবে। ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের স্থান নির্ধারণ সার্ভে কাজ অনেক আগেই সম্পন্ন হয়েছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এখন একেকটি ফুটওভার ব্রিজের ডিজাইন করে দেবে। এরপর ঠিকাদার নিয়োগ করে তা নির্মাণ করা হবে।

 

নগরীর যেসব এলাকায় চসিক ফুটওভার ব্রিজ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে তা হল, জিইসি মোড়ে ২টি, মুরাদপুর মোড়ে ১টি, ষোলশহর ২নং গেইটে ২টি, বহদ্দারহাট জংশনে ২টি, কাপ্তাই রাস্তার মাথার মোড়ে ১টি, অক্সিজেন জংশনে ২টি, টেকনিকেল মোড়ে ১টি, লালখান বাজার মোড়ে ১টি, টাইগারপাস মোড়ে ২টি, দেওয়ানহাট মোড়ে ১টি, আগ্রাবাদ চৌমুহনী মোড়ে ১টি, বাদামতলী মোড়ে ১টি, বারিক বিল্ডিং মোড়ে ১টি, নিমতলা মোড়ে ১টি, অলংকার মোড়ে ২টি, একে খান মোড়ে ১টি, সাগরিকা মোড়ে ১টি, নয়াবাজার মোড়ে ১টি, সল্টগোলা ক্রসিং এ ১টি, সিমেন্ট ক্রসিং এ ১টি, কেইপিজেডে ১টি, কাঠগড় মোড়ে ১টি, রুবি গেইটে ১টি, কুলগাঁও স্কুলের সামনে ১টি, সিটি গেইটে ২টি, মনসুরাবাদে ১টি, এক্সেস রোডের মুখে ১টি, নাসিরাবাদ সরকারি মহিলা কলেজের মোড়ে ১টি, সরাইপাড়া স্কুলের মোড়ে ১টি আকবরশাহ মোড়ে ১টি এবং সানোয়ারা স্কুলের সামনে ১টি।

 

উল্লেখ্য, গত ৪ জানুয়ারি একনেকে চসিকের ২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়। এ প্রকল্পের অধীনে ৭৬৯ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন, ৩৮টি ফুট ওভারব্রিজ, ১টি ওভারপাস, ১৪টি ব্রিজ, ২২টি কালভার্ট, ১০টি গোলচত্বর নির্মাণ করা হবে। ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। এ প্রকল্পে চসিককে ‘ম্যাচিং ফান্ড’ জোগান দিতে হচ্ছে না।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট