চট্টগ্রাম সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

২০ নভেম্বর, ২০২২ | ১২:২৭ অপরাহ্ণ

রায়হান উদ্দিন, চবি

দিয়াজকে খুনের রহস্য কী?

কি কারণে দিয়াজকে খুন হতে হলো? কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সাবেক ছাত্রলীগের নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরী চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য উন্মোচন না হওয়ায় জনেমনে এমন প্রশ্ন আজও ঘুরপাক খাচ্ছে।

যদিও পরিবার এবং দিয়াজের অনুসারী ছাত্রলীগ কর্মীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নির্মাণ কাজের দরপত্র কোন্দলের সূত্র ধরেই পরিকল্পিতভাবে দিয়াজকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের আজ ছয় বছর পূর্ণ হলেও হত্যার আসল রহস্য উন্মোচন করতে পারেননি মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা। তিন তদন্ত কর্মকর্তার হাত বদলেই আটকে গেছে হত্যার রহস্য।

দিয়াজের পরিবারের অভিযোগ, ছয় বছরেও তদন্তে নেই কোনো অগ্রগতি। তদন্ত কর্মকর্তাও আন্তরিক নয়। বারবার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন, মামলার আলামত নষ্টসহ নানা কারণে বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তারা।

মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে দিয়াজের বড় বোন জুবাঈদা ছরওয়ার চৌধুরী নিপা বলেন, ‘সিআইডিতে বারবার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন ছাড়া মামলার আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। উনারা তদন্তও করছেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আসামিরা সবাই প্রভাবশালী। তারা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে। সিআইডি আনঅফিশিয়ালি আমাদেরকে বলছে মামলাটি পিবিআই’র কাছে হস্তান্তরের আবেদন করতে। তারা তদন্তে আন্তরিক না।’

জানা গেছে, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রায় পাঁচ বছর ধরে মামলাটির তদন্ত করছে। এরমধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা বদল হয়েছে তিন বার।

বর্তমানে মামলার তদন্ত করছেন সিআইডি চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আবদুস সালাম মিয়া। তিনি বলেন, ‘মামলার তদন্ত চলছে। তদন্তের অগ্রগতি আছে। আরও সময় লাগবে।’

২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে নিজ বাসা থেকে দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে হাটহাজারী থানা পুলিশ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র দিয়াজ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ছিলেন। একইসঙ্গে ছিলেন চবি ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক। তিনি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

শুরু থেকেই দিয়াজের পরিবার ও চবি ছাত্রলীগের একাংশ দাবি করে আসছিলেন, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। লাশ উদ্ধারের পরদিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে প্রথম ময়না তদন্ত হয়। প্রতিবেদনে তাকে হত্যার আলামত মেলেনি বলে উল্লেখ করা হয়। ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখান করে দিয়াজের পরিবার।

দিয়াজের মা জাহেদা আমিন চৌধুরী ২০১৬ সালের ২৪ নভেম্বর ১০ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আসামিরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন, চবি ছাত্রলীগের সে সময়ের সভাপতি আলমগীর টিপু, ছাত্রলীগ নেতা আবুল মনসুর জামশেদ, তাদের অনুসারী রাশেদুল আলম জিশান, আবু তোরাব পরশ, মনসুর আলম, আবদুল মালেক, মিজানুর রহমান, আরিফুল হক অপু ও মোহাম্মদ আরমান। অভিযুক্ত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

জাহেদা আমিনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত দিয়াজের লাশ কবর থেকে তুলে পুনরায় ময়না তদন্তের আদেশ দেন। ২০১৬ সালের ১০ ডিসেম্বর লাশ তুলে দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগ। ২০১৭ সালের ৩০ জুলাই দ্বিতীয় দফা ময়না তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, দিয়াজের শরীরে আঘাতজনিত জখমের মাধ্যমে হত্যার আলামত আছে। আদালতের নির্দেশে হাটহাজারী থানায় হত্যা মামলা রেকর্ড হয়। ওই সময়কার ওসি বেলাল উদ্দিন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর নিজেই তদন্ত শুরু করেন। পরে মামলার ভার যায় সিআইডির কাছে। সিআইডির প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান তদন্ত শুরুর পর বদলি হন। এরপর থেকে আরও দু’জন কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে। এতকিছুর পরও তদন্তে নেই অগ্রগতি।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ছাত্র রাজনীতির করালগ্রাসে গত ১১ বছরে প্রাণ গেছে ৮ শিক্ষার্থীর। এসব হত্যাকাণ্ডের পর হলে হলে অভিযান, গ্রেপ্তার, মামলা এবং একাধিক তদন্ত কমিটি হলেও বিচার হয়নি একটিরও।

 

পূর্বকোণ/এএস

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট