চট্টগ্রাম রবিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২২

১৬ নভেম্বর, ২০২২ | ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ

সারোয়ার আহমদ

খালি হচ্ছে সেই অকশন গোলা

চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তরে ৫ একর জায়গা দখল করে থাকা জরাজীর্ণ পুরাতন অকশন গোলাটি অবশেষে খালি হচ্ছে। এই গোলায় থাকা ৩০/৩৫ বছরের পুরোনো নষ্ট ও পচে গলে যাওয়া পণ্য ধ্বংস করার কাজ শুরু হবে আজ থেকে। চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ মোট ৮৭৮ লটে প্রায় ৪২১ টন পণ্য ধ্বংস করবে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে সার, পচা মাংস, বিভিন্ন ধরণের নষ্ট কাপড় ইত্যাদি। এসব পণ্য ৩০/৩৫ বছর ধরে এই গোলায় পড়ে থাকতে থাকতে প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

 

কাস্টমস সূত্র জানায়, আজ বুধবার থেকে হালিশহরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ডাম্পিং স্টেশনের ময়লার স্তুপে অকশন গোলার ওইসব পচা পণ্য ফেলা হবে। এজন্য পর্যাপ্ত কাভর্ড ভ্যানের যোগান নিশ্চিত করা হয়েছে। এসব কাভার্ড ভ্যানে পচা পণ্যগুলো তুলে সিলসহ লক করে দিয়ে কাস্টমস আনসার দিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে ডাম্পিং স্টেশনে। সেখানে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন, পুলিশ, বিজিবি, পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধির উপস্থিতিতে পণ্যগুলো ধ্বংস করা হবে।

 

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের নিলাম শাখার ডেপুটি কমিশনার অনুপম চাকমা পূর্বকোণকে বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর মূখ্যসচিব বন্দরের অভ্যন্তরে জায়গা দখল করে থাকা অকশন গোলাটি খালি করার ব্যাপারে জোর দিয়েছেন। এটি খালি করতে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষও দীর্ঘদিন কাজ করে আসছে। ইতিমধ্যে পুরাতন অকশন গোলাটি খালি করতে সেখানে থাকা ১১০টি ভঙ্গুর ও ধ্বংসযোগ্য গাড়ি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন সেখানে পচে গেল যাওয়া ৮৭৮ লট পণ্য আছে।

 

এগুলো আমরা এক সপ্তাহের মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছি। অকশন গোলা খালি করার লক্ষ্যে কস্টমস কর্তৃপক্ষ গত বছরের সেপ্টেম্বরে সেখানে থাকা পণ্যগুলোর পুনরায় ইনভেন্ট্রি করে। সর্বশেষ গত ২৪ মে কাস্টমস হাউসের তৎকালীন নিলাম শাখার ডেপুটি কমিশনার আলী রেজা হায়দার এক গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে। বিজ্ঞপ্তিতে পুরাতন অকশন গোলায় থাকা পণ্যের দাবিদার কিংবা নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতারা ৩০ দিনের মধ্যে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেন। অন্যথায় ওইসব পণ্যের দাবিদার নেই ধরে নিয়ে পণ্যগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। পণ্যগুলো শনাক্ত করতে তালিকাও প্রকাশ করা হয় সে সময়।

 

এর আগে, অকশন গোলাটি খালি করতে চট্টগ্রাম কাস্টমস থেকে গত বছরের ১১ অক্টোবর আরো একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। এতে বলা হয়- পুরাতন অকশন গোলায় রক্ষিত বিভিন্ন পণ্যের নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সকল লটের ইনভেন্ট্রি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পুরাতন অকশন গোলায় দীর্ঘদিনের বিভিন্ন মালামাল ও গাড়ি রয়েছে।

 

ইতোপূর্বে কোনো নিলামে কোনো বিডার অংশগ্রহণ করে থাকলে অথবা সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়ে থাকলে এবং সংশ্লিষ্ট লট/গাড়ির বিপরীতে কোনো আমদানিকারকের মামলা ও অন্য কোন আদেশ থাকলে উপযুক্ত প্রমাণসহ সাত দিনের মধ্যে কাস্টমসের নিলাম শাখাকে অবহিত করতে হবে। অন্যথায় ওই সব মালামালে কোন দাবিদার নেই মর্মে বিবেচনা করে পণ্যের লটগুলো আইনানুগভাবে নিষ্পত্তি করবে কাস্টমস। বার বার এমন ঘোষণা দিয়ে পণ্যগুলোর দাবিদার নেই নিশ্চিত করে পণ্যগুলো এবার ধ্বংস করছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

 

এদিকে বন্দরের পরিকল্পনা আছে অকশন গোলাটি সরিয়ে সেখানে কনটেইনার ইয়ার্ড নির্মাণ করা হবে। এজন্য বন্দর স্টেডিয়ামের বিপরীতে বন্দরের নিজস্ব জায়গায় ও নিজস্ব অর্থায়নে ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সমপরিমাণ জায়গায় নতুন অকশন শেড নির্মাণ করে দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ২০১৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর তৎকালীন নৌ-মন্ত্রী শাহজাহান খান নতুন অকশন শেডটি উদ্বোধন করার পর বন্দর কর্তৃপক্ষ সেটি চট্টগ্রাম কাস্টমসকে বুঝিয়ে দিলেও গত ৭ বছরেও পুরাতন অকশন গোলাটি বন্দর কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিতে পারেনি চট্টগ্রাম কাস্টমস।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট