চট্টগ্রাম বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৭ আগস্ট, ২০১৯ | ২:০৩ এএম

নিজস্ব প্রতিবেদক

টানা ছুটি কাটিয়ে ফিরছেন কর্মজীবীরা প্রাণ ফিরছে নগরীতে

আপনজনদের সাথে ঈদুল আজহা ও জাতীয় শোকদিবসসহ টানা নয়দিনের ছুটি কাটিয়ে আবার কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবীরা। শুধু চাকরিজীবীরাই নয়, আজ থেকে খোলা বিভিন্ন বিদ্যালয় ও কলেজ। তাই শুক্রবার বাড়তি ভাড়া দিয়ে ও সিট না পেয়ে গাড়ির ছাদে বসে শহরে ফিরছেন নানা পেশা-শ্রেণির মানুষ। গতকাল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল ট্রেন ও নগরীর সবগুলো বাস স্টেশনে। প্রতিটি বাস ও ট্রেনের সবগুলো আসনেই ছিল যাত্রী। আবার ফেরার পথে সিট না পেয়ে অনেকেই উঠে বসেন গাড়ি ও ট্রেনের ছাদে। কারণ আজ (শনিবার) অনেককেই যোগ দিতে হবে কর্মস্থলে। রেলস্টেশনের কর্মকর্তারা জানান, শুক্রবার ও শনিবার দু’দিনই যাত্রীদের চাপ থাকবে। অনেকে পথে ভোগান্তির ভয়ে শুক্রবারই চলে এসেছেন। আসার পথে রাস্তায় দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে কি না জানতে চাইলে বাসের যাত্রীরা বলেন, অন্যান্যবারের মত এবার আসতে সেইভাবে দুর্ভোগ পোহাতে হয়নি। কারণ শনিবার আরো একদিন বন্ধ থাকায় শুক্রবারে চাপ একটু কমই ছিলো। তবে ঈদের সময় যাত্রীদের কাছ থেকে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি ভাড়া নিচ্ছে গাড়ির চালকরা। এরপরেও স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করে খুশি তারা। এদিকে ট্রনের যাত্রীর চাপে কিছু ট্রেনের শিডিউল ওলট-পালট হতে দেখা যায়। ফেনী থেকে আসা জয়নাল বলেন, এক’শ থেকে ১২০ টাকার ভাড়া এখন দুই’শ থেকে

আড়াইশ টাকা করে রাখছে। আবার শহরের ভিতরের সিএনজি ট্যাক্সি ভাড়াও অনেক বেশি নিচ্ছে। চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীদের ভিড়। ট্রেনে করে দূর-দূরান্তের লোকজন শহরে ফিরছে। এছাড়া উত্তর চট্টগ্রামের রাউজান, হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও দুই পার্বত্য জেলার বাসস্টেশন অক্সিজেন, দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাত উপজেলাসহ পর্যটননগরী কক্সবাজারের বাসস্টেশনে নগরমুখী মানুষের ভিড় ছিল শুক্রবার সকাল থেকে সারাদিন। ভিড় এড়াতে গতকাল থেকেই ফিরতে শুরু করেছেন অনেকে। এতে ধীরে ধীরে নগরী আবার স্বাভাবিক প্রাণচাঞ্চল্য।
কক্সবাজার থেকে আসা শহরমুখী লোকজন জানায়, ঈদের ছুটিতে বাড়িতে যাওয়া-আসায় পরিবহনে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। নির্দিষ্ট ভাড়ার কয়েকগুণ বাড়তি ভাড়া নেয় তারা। আবার গাড়িরও সংকট দেখা দেয়। তাই বেশি ভাড়া দিয়ে আসতে হয় আমাদের। এখানে অনেকেই বাসে সিট না পেয়ে গাড়ির ছাদে করে আসতে দেখা যায়।
গতকাল দুপুর ১টার দিকে নগরীর এ.কে.খান মোড়ে দেখা যায় বাড়ি ফেরত মানুষের ভিড়। ফাহমিদা বেগম ও তার স্বামী মাসুদ আনোয়ারের সাথে কথা হলে তারা বলেন, আমরা দু’জনে দুটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করি। আমার স্ত্রী ফাহমিদার আরো দু’দিন বন্ধ থাকলেও আমার অফিস ও শিশুদের বিদ্যালয় খুলছে।
তাই আজ থেকেই চাকরিতে যোগ দিতে হবে। শিশুদের স্কুলে যেতে হবে, সামনে তাদের পরীক্ষাও। তাই আজই চলে এসেছি। এখন ভিড় কম আছে।
পোশাক শ্রমিক নাজনিন আক্তার বলেন, সাতদিন বন্ধ দিয়েছে কারখানা। শনিবার (আজ) থেকেই কাজে যোগ দিবো, তাই চলে এসেছি।

The Post Viewed By: 93 People

সম্পর্কিত পোস্ট