চট্টগ্রাম বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৭ আগস্ট, ২০১৯ | ২:০২ এএম

২৩ বছর পূর্বের কমিটি নিয়ে চলছে বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগ

২৩ বছর আগে করা কমিটি দিয়ে চলছে বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যক্রম। দীর্ঘদিনের পুরোনো এ কমিটির ৫১ সদস্যের মধ্যে রাজনীতিতে সক্রিয় আছেন মাত্র ৫ থেকে ৭ জন। দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না হওয়ায় সংগঠনিক স্থবিরতা বিরাজ করছে উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে। সম্প্রতি দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির দুইটি সভায় বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের দাবি করা পুরোনো কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুই নেতার মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। শীর্ষ দুই নেতার একজনের দাবি, বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের এ কমিটির কোনো ভিত্তি নেই। তবে অন্যজন এ কমিটির ব্যানারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। এছাড়া বাঁশখালী থেকে জেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে থাকা নেতাদের মধ্যে একজন ছাড়া বাকি কেউ অংশ নেননি এ কমিটির অনুষ্ঠানে।-বাংলা নিউজ
বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে আয়োজিত শোক দিবসের আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগ কর্মীদের দাবি, শিঘ্রই যেন উপজেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি গঠন করা হয় এবং এ কমিটিতে ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে উঠে আসা কর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়। আওয়ামী লীগ সূত্রে

জানা যায়, ১৯৯৬ সালে নাপোড়া সম্মেলনের পর মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীকে সভাপতি ও খোরশেদ আলম চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করে ৫১ সদস্যের বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ‘দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের’ অভিযোগে সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক রণতোষ এবং রেহানকে বহিষ্কার করা হয়। পরে এডভোকেট সুলতানুল কবির চৌধুরী তার বাড়িতে বসে এমএ গফুরকে সাধারণ সম্পাদক, মো. এনামকে যুগ্ম সম্পাদক এবং মহিউদ্দিন খোকাকে সাংগঠনিক সম্পাদক ঘোষণা করেন। সেই থেকে তারা এসব পদবি ব্যবহার করে আসছেন। এর মধ্যে কয়েক বছর আগে যুগ্ম সম্পাদক মো. এনাম মারা যায়। এছাড়া ৫১ সদস্যের কমিটির অধিকাংশ সদস্য মারা গেছেন বলে জানা গেছে। বাঁশখালী উপজেলার ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মৌলভী নুর হোসেন বলেন, ১৯৯৬ সালে নাপোড়া সম্মেলনের পর উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এর পর থেকে আর কোনো কমিটি হয়নি। এভাবেতো আওয়ামী লীগের মতো একটা ঐতিহ্যবাহী সংগঠন চলতে পারে না। নতুন করে কমিটি গঠন করা হোক। কমিটিকে ছাত্রলীগের রাজনীতি করে আসা কর্মীদের মূল্যায়ন করা হোক। দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট মুজিবুল হক চৌধুরী বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের পর পর দুইটি সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল বাঁশখালীতে নতুন করে কমিটি দেওয়ার। সভায় এ প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু এখনও কমিটি কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিষয়টি দুঃখজনক। এতে করে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা চলে এসেছে। নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হচ্ছে না।
জেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা জানান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বাঁশখালীতে নতুন কমিটি করার পক্ষে। মফিজুর রহমান চান নতুন করে কমিটি দিয়ে সেখানে দলের দুঃসময়ের কর্মীদের পদায়ন করতে। আর এ নিয়ে দুই নেতার মধ্যে মতবিরোধ শুরু হয়েছে। জানতে চাইলে সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, ২৩ বছর আগে বাঁশখালীতে আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। আমরা জেলা আওয়ামী লীগের সভায় নতুন কমিটি গঠন করার প্রস্তাব তুলেছি। সভায় সব সদস্যরা নতুন কমিটি গঠনের পক্ষে মতামত দিয়েছেন। কিন্তু সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না ‘অদৃশ্য’ কারণে।

The Post Viewed By: 258 People

সম্পর্কিত পোস্ট