চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর, ২০২২

১১ নভেম্বর, ২০২২ | ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ

ইমরান বিন ছবুর

দেড় কিলোমিটার সড়কের ১২টি পয়েন্টে জলাবদ্ধতা

নগরীর সিইপিজেড থেকে সিমেন্ট ক্রসিং সড়ক। প্রায় দেড় কিলোমিটারের কিছুটা বেশি এই সড়কে গত ১ বছর ধরে জলাবদ্ধতার সমস্যা ভুগছেন এলাকাবাসী। তাদের যেন ভোগান্তির শেষ নেই। ড্রেন থেকে খালে পানি যাওয়ার ১২টি পয়েন্টই বন্ধ। ফলে বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি ড্রেন থেকে খালে যেতে না পেরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া, এই সড়কে সব সময় পানি জমে থাকার ফলে বারবার কার্পেটিং করার পরও সড়ক নষ্ট হচ্ছে।

 

অন্যদিকে, এই সমস্যা সমাধানের জন্য গত এক বছর ধরে সিটি কর্পোরেশন এবং জলাবদ্ধতা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক বরাবর একাধিক চিঠি দিয়েও কোন সুরহা হয়নি অভিযোগ ‘লালখান বাজার হতে শাহ আমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’র প্রকল্প পরিচালকের।

 

সম্প্রতি সিটি কর্পোরেশনকে দেয়া সিডিএ’র একটি সিটিতে উল্লেখ করা হয়, ‘চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘চট্টগ্রাম শহরের লালখান বাজার হতে শাহ আমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সল্টগোলা ক্রসিং হতে সিমেন্ট ক্রসিং পর্যন্ত অংশে রাস্তার দুই পাশে নতুনভাবে ড্রেইন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। নির্মাণাধীন ড্রেইনের পানি সমূহ সেকেন্ডারি ড্রেন বা টার্শিয়ারি ড্রেনের মাধ্যমে খালে গিয়ে পড়ে।

 

চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, ‘সিমেন্ট ক্রসিং থেকে সল্টগোলা পর্যন্ত রাস্তার পাশে নির্মাণাধীন ড্রেনের সাথে সেকেন্ডারি ড্রেন বা টার্শিয়ারি ড্রেন সমূহ ময়লা আবর্জনাপূর্ণ ও সংকীর্ণ প্রশস্ততার কারণে রাস্তা সংলগ্ন ড্রেনের পানি খালে না গিয়ে জোয়ারের সময় রাস্তার হাঁটু পরিমাণ পানি জমে চট্টগ্রাম বন্দরের ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে রাস্তার কার্পেটিং ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের নিয়োজিত ঠিকাদার কর্তৃক তিনবার কার্পেটিং করে বর্ণিত অংশে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামত করা হয়েছে।’

 

গত সোমবার সিমেন্ট ক্রসিং থেকে সল্টগোলা সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়, এই সড়কের বিভিন্ন ড্রেন ময়লা-আবর্জনায় পূর্ণ। কোন ড্রেন দিয়ে পানি চলাচল করছে না। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সিটি কর্পোরেশনের লোকজন নিয়মিত ড্রেন পরিস্কার না করার ফলে ময়লা-আবর্জনায় ড্রেন পূর্ণ থাকে। সামান্য বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ড্রেন পূর্ণ হয়ে মানুষের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে পানি প্রবেশের ফলে ভোগান্তি পোহাতে হয়।

 

সিমেন্ট ক্রসিং থেকে সল্টগোলা সড়কের বক্স আলী রোডে দেখা যায়, এই এলাকায় চলাচলের একমাত্র সড়কটিও অবর্জনায় ভরপুর। ড্রেনের ময়লা পানি সড়কে উপচে পড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি শেষ নেই। এমনকি সড়কে রিকশা পর্যন্ত চলাচলের অনুপযোগী। দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি চায় এলাকার বাসিন্দারা।

 

জানতে চাইলে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, এই সড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট বাঁধ থাকার ফলে ড্রেনের পানি চলাচল করতে পারছে না। ফলে সামান্য বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি মানুষের বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রবেশ করছে। এছাড়া, এসব পানি সড়কে জমে থাকার ফলে বারবার সড়কের কার্পেটিং নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই পর্যন্ত তিনবার কার্পেটিং করা হয়েছে।

 

তিনি আরো বলেন, এই দেড় কিলোমিটার সড়ক থেকে পানি চলাচলের জন্য ১২টি পয়েন্ট রয়েছে। সবগুলো পয়েন্ট বন্ধ। ফলে পানি চলাচল করতে পারছে না। এসব ড্রেন পরিষ্কার রাখার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি দিয়েছি। তবে এখনো সন্তোষজনক উত্তর পাইনি।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট