চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর, ২০২২

১০ নভেম্বর, ২০২২ | ১২:৩৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

নতুন প্রাণীর নমুনা সংগ্রহে জটিলতা দক্ষ লোকের অভাব রক্ষণাবেক্ষণে

শিক্ষার্থী ও গবেষণার কাজে চট্টগ্রামের ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় অসাধারণ ভূমিকা রেখে চলেছে। এটি দেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে প্রাণীদের দেহাবশেষ নিয়ে এনাটমি জাদুঘর তৈরি হয়েছে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এ এনাটমি জাদুঘরটির বড় জটিলতা হচ্ছে নতুন প্রাণীর নমুনা সংগ্রহ করা। শিক্ষার্থী ও গবেষণার কাজে ব্যবহৃত এ জাদুঘরে বর্তমানে গৃহপালিত ও বন্যপ্রাণীর কঙ্কাল, দেহের মডেল, স্টাফ, চিত্র, ফরমালিন দেয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও হাড়সহ ৫ হাজার ৬৬৫টি স্যাম্পল রয়েছে। তবে নতুন প্রাণীর স্যাম্পল কালেকশন করতে পোহাতে হচ্ছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা।

 

এ বিষয়ে সিভাসু’র এনাটমি ও হিস্টোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় এনাটমি ও হিস্টোলজি বিভাগ প্রতিষ্ঠার ছয় বছরে বিভিন্ন প্রাণীর কঙ্কাল, দেহের মডেল, স্টাফ, চিত্র, ফরমালিনযুক্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও হাড়সহ ৫ হাজার ৬৬৫টি নমুনা সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে।

 

কিন্ত বর্তমানে নমুনা সংগ্রহ করার কাজটি করতে বেগ পেতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় অনেক মৃত প্রাণীর দেহাবশেষ পাওয়া সত্ত্বেও তা সংগ্রহ করতে পারছি না। কারণ আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রয়েছে। দেখা যায় কোনো প্রাণী মারা যাওয়ার পর একটা নির্দিষ্ট সময় প্রাণীটির কঙ্কালটি উত্তোলন করতে হয়। যা করা আগে খুব সহজ ছিল। কিন্তু বর্তমানে প্রাণীটির কাঙ্কালটি সংগ্রহ করতে অনুমতি নিতে বিভিন্ন সরকারি অফিস থেকে শুরু করে এমনকি মন্ত্রী পর্যায় পর্যন্ত যেতে হয়। এরপরও অনেক সময় অনুমতি পাওয়া যায় না।

 

এছাড়াও আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে নমুনা সংগ্রহ করার পরে এসবের সংরক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ। কারণ এসব কাজ অভিজ্ঞ ও দক্ষ লোকদের দিয়ে করতে হয়। যা সাধারণ মানুষ করতে পারেন না। কিন্তু আমাদের দেশে এসব কাজে দক্ষ লোক নেই বললেই চলে। আবার সংরক্ষণের জন্য যেসব মেডিসিন ব্যবহার হয় সেগুলো অনেক ব্যয়বহুল।

 

বিভিন্ন প্রাণীর সাথে এখানে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পর পৃথিবীর তৃতীয় জিরাফের কঙ্কাল রয়েছে। যা এশিয়া মহাদেশেও প্রথম জিরাফের কঙ্গাল বলে জানায় সিভাসু’র এনাটমি ও হিস্টোলজি বিভাগ কর্তৃপক্ষ। ২০২১ সালে এই জাদুঘরে জিরাফের কঙ্কালটি সংযোজন করা হয়। শুধু জিরাফের কঙ্কালই নয়, এটি দেশের প্রথম এনাটমি জাদুঘর যেখানে মানুষসহ নানা প্রাণীর কঙ্কাল, প্রাণী দেহের মডেল, স্টাফ করা প্রাণী, চিত্রসহ বিভিন্ন প্রাণীর হাড় এবং অঙ্গ-প্রত্যাঙ্গ রয়েছে। সিভাসু’র শিক্ষার্থীরা ছাড়াও বাংলদেশ এবং দেশের বাইরে থেকেও অনেকে গবেষণার কাজে এখানে আসেন।

 

যা যা আছে এনাটমি জাদুঘরে : সরেজমিনে এনাটমি জাদুঘর ঘুরে দেখা যায়, এখানে গৃহপালিত ও বন্য প্রাণীদের কঙ্কাল রয়েছে ৬০টি, প্রাণী দেহের মডেল আছে ৭৫টি, স্টাফ করা প্রাণী আছে ৩০টি আরও আছে ৩ হাজার প্রাণীর নানা রকম চিত্র। ফরমালিন দিয়ে ৫শ টির বেশি প্রাণীর বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ২ হাজার প্রাণীর হাড় আছে এখানে।

 

আবার মানুষ, গরু, ছাগল, শুকর ও খরগোশের ডিএনএ, ক্রোমোজোম, মস্তিষ্ক, চোখ, হৃৎপিণ্ড, জরায়ু, ফুসফুস, কিডনি, বক্ষসহ নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মডেলও আছে এখানে। শুধু তাই নয়, আরও দেখা যায় হনুমান, রাজহংসী, ছাগল, বিড়াল, গুইসাপ, বানরের স্টাফ করা দেহ। পশুপাখির মধ্যে আছে মোরগ, কবুতর, কাঠঠোকরা, দোয়েল, মাছরাঙা, খরগোশ, গিনিপিগ, টিকটিকি।

 

প্রফেসর ড. এ কে এম সাইফুদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার স্বার্থে এনাটমি জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। কারণ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে এসব প্রাণীদের অঙ্গ- প্রত্যঙ্গ সামনাসামনি দেখতে হয়। জাদুঘরটি যদি না থাকতো তবে শিক্ষার্থীদের বাইরে চিড়িয়াখানায় যেতে হত। আবার এসব প্রাণীদের চিড়িয়াখানায় দূর থেকে শিক্ষার্থীদের দেখা বা গবেষণা করতে সহজ হয় না। যা এখানে জাদুঘরটি হওয়ায় সুবিধা হয়েছে। এছাড়াও এখানে এমন কিছু দুষ্প্রাপ্য প্রাণীর কঙ্কাল আছে যেগুলো পড়াশোনা কিংবা গবেষণার জন্য মানুষ কাছে যেতে পারে না আবার কিংবা বনে-জঙ্গলেও এদের সহজে দেখা যায় নয়। তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ এনাটমি জাদুঘরটি। যা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য প্রয়োজন।

 

এনাটমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, যেহেতু এটি দেশের একমাত্র এনাটমি জাদুঘর, তাই ভবিষ্যতে আরও সমৃদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে। যাতে এটি সব শ্রেণীর মানুষের দেখার সুযোগ হয়। যেসব প্রাণীর কঙ্কাল নেই ভবিষ্যতে সেগুলো সংগ্রহ করা হবে। এছাড়াও আন্তর্জাতিক পরিসরে এটি সাজানোর ইচ্ছে আছে। তবে পড়াশোনার জন্য বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, গবেষণার কাজসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজে ছাড়া এখনি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য পরিদর্শনের সুযোগ নেই।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট