চট্টগ্রাম সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

১০ নভেম্বর, ২০২২ | ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের তরুণ বিজ্ঞানীরা আলো ছড়াচ্ছেন বিশ্বে

চট্টগ্রামে বসেই এখন আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা করছেন চট্টগ্রামের তরুণেরা। তারা স্বপ্ন দেখেন বিশ্বমানের বিজ্ঞানী হওয়ার। চট্টগ্রাম থেকে গবেষণার হাতেখড়ি এমন তরুণ বিজ্ঞানীরা এখন স্থান করে নিচ্ছেন টেক্সাস, মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, হাইডেলবার্গ, মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মত পৃথিবীবিখ্যাত গবেষণাগারে।

 

 

চট্টগ্রামের যেকোন তরুণ গবেষণাপ্রেমীর জন্য সবসময় যে গবেষণাগারের দুয়ার খোলা সেটি হল চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনমিক্স রিসার্চ গ্রুপের ল্যাব। অধ্যাপক জুনায়েদ সিদ্দিকি এই গবেষণাগার থেকে গত পাঁচ বছরে কাজ করেছেন ১২০ জনের অধিক তরুণ আর প্রশিক্ষিত হয়েছেন এক হাজারের অধিক গবেষক। এই গবেষণাগারের আফিফা হালিম নিতু এখন কাজ করছেন যুক্তরাজ্যের এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে, সোহানা মিনা আছেন সিটি ইউনিভার্সিটি হংকং এ, কাজী সৌরভ আছেন ইউনিভার্সিটি অফ অসলো তে। ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়, এশিয়ান ওমেন ইউনিভার্সিটি আর ইউএসটিসি’র দশ স্বপ্নবাজ তরুণ চট্টগ্রামে বসে এই ল্যাব থেকেই করেছেন রয়েল বেঙ্গল ছাগলের জিনোম সিকুয়েন্স। এরপর একের পর এক এই ল্যাব থেকে হয়েছে হালদা নদীর চারটি মাছের জিনোম সিকুয়েন্স, চট্টগ্রামের বেশ কিছু ঔষধি ও ভেষজ উদ্ভিদের ডিএনএ বারকডিংসহ সাড়া জাগানো সব কাজ।

 

বছর খানেকের মধ্যেই আলোচনায় আসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নেক্সট জেনারেশন সিকুয়েন্সিং, রিসার্চ এন্ড ইনভেশন ল্যাব। গত দুই বছরে এই ল্যাবের দশজন তরুণ গবেষকের ১৫ টি আন্তর্জাতিক প্রকাশনা এসেছে। এই ল্যাবের অন্যতম বিশেষত্ব এখানে কাজ করে যারা গবেষণা কে ভালোবাসেন, সিজিপিএ এখানে মুখ্য নয়। এখানে কেউ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, কারো কারো বাবা মা কেউ বেঁচে নেই, কেউ এসেছেন প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে। সুইজারল্যান্ডের ফাইন্ড ডায়াগনস্টিক এর সহায়তায় এখানে এসেছে জিনোম সিকুয়েন্সিং মেশিন। নিয়মিতভাবে এখানে শনাক্ত হচ্ছে সার্স কভ-২ এর নতুন ভেরিয়েন্ট। প্রায় ১৫ টি দেশি ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সাথে চলে এই ল্যাবের যৌথ গবেষণা।

 

এই ল্যাবের ফারহানা আক্তার কাজ করছেন ড. সেঁজুতি সাহার ও চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সাথে এন্টিবায়টিক রেসিসটান্স নিয়ে। চট্টগ্রামের রোগীদের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে করছেন ফারিদা আক্তার, স্থূলতা ও ওজনের সাথে জিনগত পরিবর্তনের সম্পর্ক নিয়ে কাজ করছেন আল শাহরিয়ার আকাশ। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে চিংড়ির ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে কাজ করছেন রুবেল আহমেদ। এই ল্যাবেই শনাক্ত হয় মহিষের দই এ ভয়ংকর সব জীবাণু। এই ল্যাবের প্রাক্তন ছাত্র সাখাওয়াত হোসেন এখন জিকা ভাইরাস নিয়ে কাজ করছেন যুক্তরাষ্ট্রে ভার্জিনিয়া টেক বিশ্ববিদ্যালয়ে, আরেকজন ছাত্র রাশেদুজ্জামান এখন আছেন জার্মানির হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে, আসমা সালাউদ্দিন আছেন আইসিডিডিআরবি’তে বিজ্ঞানী হিসেবে। ল্যাবটির প্রধান হিসেবে আছেন জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম রফিকুল ইসলাম এবং অধ্যাপক ড. আদনান মান্নান।

 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েরই আরেকদল তরুণ গবেষক কাজ করছে সমুদ্রকে বাঁচানোর জন্য, আবিষ্কার করছে সাগরের নতুন সব উদ্ভিদ ও প্রাণী। মেরিন সায়েন্স বিভাগের ড. মোহাম্মদ শরিফুজ্জামান এবং ড. শাহনেওয়াজের গবেষণাদল ছুটে চলেছে মহেশখালী, টেকনাফ, সেন্ট মার্টিন দ্বীপে। এই গবেষণাগারের ছাত্র সাইদ মোর্শেদ ইউরোপের বিখ্যাত ইরাসমাস মুন্ডুস স্কলারশিপ অর্জন করেছে সম্প্রতি।

 

তথ্যপ্রযুক্তি দিয়ে দেশকে বদলানোর স্বপ্ন দেখে চুয়েটের সরকার ডাটা ল্যাব। এই ল্যাবের এখন পর্যন্ত ৭৫ টি প্রকাশনা। তারা কাজ করে সাইবার সিকিউরিটি, মেশিন লার্নিং ও ডাটা সায়েন্স নিয়ে। দলটির নেতৃত্বে আছে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. ইকবাল এইচ সরকার। এই ল্যাবের তরুণ বিজ্ঞানী মোহাম্মদ জুবায়ের, শর্মিষ্ঠা সাহা, অদিতি ঢালি’র গবেষণাকর্ম সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে অত্যন্ত স্বনামধন্য একটি জার্নালে।

 

এমন বাস্তবতার মধ্যেই আজ ১০ নভেম্বর পালিত হচ্ছে বিশ্ব বিজ্ঞান দিবস। ২০০১ সাল থেকে ইউনোস্কো ঘোষিত এই দিনটি বিজ্ঞান দিবস হিসেবে পালন করে আসছে বিশ্বেও বিভিন্ন সংগঠন। শান্তি ও উন্নতির তরে বিজ্ঞান, এই স্লোগানকে সামনে রেখে প্রতি বছরই দিবসটি পালন করা হয়। বাংলাদেশেও বিশ্ব বিজ্ঞান দিবস উপলক্ষে নানান কর্মসূচির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি (এসপিএসবি)। এছাড়াও সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগেও পালন করা হচ্ছে দিবসটি।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট