চট্টগ্রাম শনিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

৯ নভেম্বর, ২০২২ | ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

আইন না মেনেই লিজ দেওয়া হয়েছে নদীর জায়গা

হাইকোর্টের রায় রয়েছে, সিএস খতিয়ান ধরেই নদীর সীমানা নির্ধারণ করতে হবে। যদি নদীতে চর জেগে ওঠে তা পাবলিক ট্রাস্ট সম্পত্তি (জনগণের সম্পত্তি) হিসেবে গণ্য করা হবে। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন হচ্ছে আইনগত অভিভাবক। দৈনিক পূর্বকোণের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী। গতকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এ সাক্ষাৎকার দেন তিনি।

 

কমিশনের চেয়ারম্যান মনজুর আহমেদ বলেন, নদীতে জেগে ওঠা জায়গা লিজ দেওয়া যাবে না। বিক্রি করা যাবে না। কোনো ধরনের বড় অবকাঠামো নির্মাণ করা যাবে না। শ্রেণি পরিবর্তন করে জমি নষ্ট করা যাবে না। তবে কোন সংস্থা চাইলে জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে শিশুপার্ক, ওয়ার্কওয়ে করা যাবে।

 

তিনি বলেন, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে আমাদের চেয়ারম্যান নদী পরিদর্শন করেছেন। লিজ দেওয়া জায়গার লিজ বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু কাজ হয়নি। তাই আমরা ডিসিকে তাগিদপত্র দিয়েছি। কারণ ডিসি হচ্ছেন এই জায়গার ম্যানেজার। পোর্টকে আমরা চিনি না। পোর্টকে চিঠি দেইনি। কারণ পোর্ট তো জমি লিজ দেওয়ার কথা না। সরকারের জমি পোর্ট লিজ দেবে কীভাবে। সব লিজ কেন বাতিল করা হয়নি তা জানতে চাওয়া হবে। চাক্তাই-রাজাখালীর খালের মোহনায় মৎস্য অবতরণকেন্দ্র ও বরফকল এবং ওপারে ড্রাইডকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নদীর জায়গা ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে বলে প্রমাণ পেয়েছেন বলে জানান নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মনজুর আহমেদ।

 

তিনি বলেন, এখানে লিজ দিয়ে সীমানা দেওয়া হয়েছে। শ্রেণি পরিবর্তন করে অবকাঠানো নির্মাণ করা হয়েছে। এসব জমির মালিক হচ্ছে জনগণ। জনগণের পক্ষে ডিসি তত্ত্বাবধান করবেন। লিজ দিতে পারবেন না। তবে পতিত কৃষি জমি হলে একসনা-দুসনা লিজ দিতে পারবেন। সরেজমিন দেখেছি, ফিশারিঘাট এলাকায় মাছ বাজার ও বস্তি ছাপিয়ে রাস্তা পর্যন্ত নদীর জায়গা। এখানে কোনো লোকের কোন স্থাপনা করার বৈধতা নেই। সেলামি নিয়ে দখল স্বত্ব দেওয়া হয়েছে। অবৈধভাবে নদী ভরাট করা হয়েছে।

 

২০১৬ সালে হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী কেন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়নি- এ বিষয়ে তিনি বলেন, ২০১০ সালে হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশের সভাপতি আইনজীবী মনজিল মোরসেদ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে হাইকোর্টে রিট মামলা করেছেন। এর চার বছর পর দুই হাজার ২১৮৭টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়। ২০১৬ সালে তা উচ্ছেদের রায় দেন হাইকোর্ট। কিন্তু কোনো এক প্রকৌশলী মামলার কারণে জেলা প্রশাসক উচ্ছেদ অভিযান চালাতে পারেননি। মামলা খারিজ হয়ে যাওয়ার পর ২০১৯ সালে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেন। ২-৩শ স্থাপনা উচ্ছেদ করার পর অভিযান আর করা হয়নি। আমরা বহুবার তাগিদপত্র দিয়েছি। তারপরও উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়নি। এবার দৃশ্যমান কোন কিছু করতে চাই।

 

মনজুর আহমেদ বলেন, কারণ নদীর অভিভাবক হচ্ছে জাতীয় নদী কমিশন। আমার হাতে নদীর নির্বাহী ক্ষমতা। ডিসি ছাড়া এ জমি লিজ দেওয়ার ক্ষমতা কারো নেই। কিন্তু পোর্ট এসে ঝামেলা পাকিয়েছে। লিজ দেওয়ার পর নদীর জায়গায় বালু ফেলে ভরাট করে মার্কেট নির্মাণ করা হয়। যা সম্পূর্ণ বেআইনি। এ বিষয়ে দুদকে মামলা হয়। কারণ এখানে আর্থিক বা লেনদেনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। লিজ দিয়ে টাকা অদায় করা হয়েছে। সরকার কী ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে। ব্যবসা করতে নেমেছে। আমি সারাদিন ঘুরে ঘুরে এসব দেখেছি। সব জায়গায় নদী ভরাট ও দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। তার প্রমাণ পেয়েছি। নদী আইনের প্রথম শর্ত হচ্ছে নদীর জমি ভরাট ও অবকাঠামো নির্মাণ করা যাবে না।

 

নদী কমিশনের চেয়ারম্যান মনজুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, বন্দর আইনে জোয়ারের পানির সর্বোচ্চ উচ্চতা পর্যন্ত বন্দরের জমি ধরা হয়। সেই হিসাবে ৫০ মিটার পর্যন্ত বন্দরের অধিকার রয়েছে। এর বাইরের জায়গা হচ্ছে ডিসির অধীনে। তবে বন্দর চেয়ারম্যান শুধু বন্দর পরিচালনা সংশ্লিষ্ট উপকরণ রাখার অনুমতি দিতে পারবেন। কিন্তু নদীর তীর দখল করে অনেক ভারী প্রতিষ্ঠানসহ নানা ধরনের স্থাপনা রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বড় বড় জেটি রয়েছে। বড় জেটি নির্মাণের অনুমতি দিতে পারেন না। জেটি নির্মাণে কোনো আইন মানা হয়নি।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট