চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

৬ নভেম্বর, ২০২২ | ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ

মোহাম্মদ আলী

রাজনীতিতে সংঘাতের শঙ্কা

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এখনো ঢের বাকি। এরই মধ্যে প্রস্তুতি হিসেবে বড় সমাবেশ করে শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। দেশের প্রধান দুটি দলই এখন বড় সমাবেশ করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এ নিয়ে জাতীয় নির্বাচনের এক বছর আগেই সরব হয়ে উঠেছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে তর্ক-বিতর্কে সারাদেশ উত্তাল। তবে আগামী ডিসেম্বরে ঢাকায় দুই দলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে ঘিরে দলীয় শক্তি প্রদর্শন সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে কি না তা নিয়ে শঙ্কায় দেশের সাধারণ জনগণ। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ সমাগমের মধ্যদিয়ে দেশের রাজনীতি নির্বাচনমুখী হচ্ছে, তবে সংঘর্ষের দিকে না গিয়ে দুই দলকেই সহনশীল হতে হবে। তাতে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থেকে রেহাই পাবে দেশের মানুষ।

 

গত ১২ অক্টোবর নগরীর পলোগ্রাউন্ডে সমাবেশ করে বিএনপি। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন ঊর্ধ্বগতি, পুলিশের গুলিতে ৫ নেতাকে হত্যা ও বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ১২ অক্টোবর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ১০টি গণসমাবেশ করছে দলটি। এর মধ্যে গত ১৫ অক্টোবর ময়মনসিংহ বিভাগে, ২২ অক্টোবর খুলনায়, ২৯ অক্টোবর রংপুরে এবং গতকাল ৫ নভেম্বর বরিশালে সমাবেশ করে বিএনপি। তারই ধারাবাহিকতায় আগামী ১২ নভেম্বর ফরিদপুরে, ১৯ নভেম্বর সিলেটে, ২৬ নভেম্বর কুমিল্লায়, ৩ ডিসেম্বর রাজশাহী এবং সর্বশেষ ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় সমাবেশ করবে দলটি। বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে সরব হয়ে ওঠেছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গণ।

 

বিভাগীয় এ কর্মসূচিগুলোতে নেতাকর্মীদের ব্যাপক সমাগম দেখা যাচ্ছে, যা দলটির গত কয়েক বছরের সমাবেশে দেখা যায়নি। বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ রয়েছে, সরকার সাজানো পরিববহন ধর্মঘট ও পুলিশের ধরপাকড়ের মাধ্যমে বিএনপির সমাবেশগুলোতে লোকসমাগম কমানোর চেষ্টা করছে।

 

এদিকে, বিএনপির জনসমাবেশের পাল্টা হিসেবে আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক কর্মসূচিগুলোতেও ব্যাপক লোকসমাগম হচ্ছে। আগে থেকে চলমান জেলা সম্মেলনগুলোতে শোডাউন দিচ্ছে ক্ষমতাসীনরা। আগামী জেলা সম্মেলনগুলোতে আরও বেশি লোকসমাগম করার ইঙ্গিতও মিলেছে আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যে। এমনকি ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে স্মরণকালের বৃহত্তম সমাবেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ।

 

এ প্রসঙ্গে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সালাম দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘আগামী এক বছরের মাথায় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ কারণে আওয়ামী লীগ বিগত ১৪ বছর দেশে যেসব উন্নয়ন কাজ করেছে তা জনগণের স্মৃতিকে স্মরণ করিয়ে দিতে সভা-সমাবেশ করছে। বিএনপিও সভা-সমাবেশ করে যাচ্ছে।

 

আগামী ৪ ডিসেম্বর নগরীর পলোগ্রাউন্ডে সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ। এটিকে ঘিরে আওয়ামী লীগ ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মধ্যে বিএনপি-জামায়াত জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। ১৯৯১-১৯৯৬ এবং সর্বশেষ ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় ছিল। এর আগে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় ছিলেন। কিন্তু বিএনপি দেশের জন্য উল্লেখযোগ্য কিছুই করতে পারেনি। উল্টো তাদের নেতারা দুর্নীতি করে দেশকে পিছনের দিকে নিয়ে গেছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এ জাতিকে স্বাধীনতা দিয়েছে। দেশে নজিরবিহীন উন্নয়ন দিয়েছে। মহাকাশে স্যাটেলাইট প্রেরণ করেছে। পদ্মা সেতু নির্মাণ করে দেশের ২১ জেলার মানুষকে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দিয়েছে। কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ করে এ অঞ্চলে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন যুগের সূচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

 

শুধু তাই নয়, বিগত ১৪ বছরে দেশের যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিভিন্ন ভাতা চালু, বিদ্যুৎসহ সর্বক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করেছে। বিপরীতে বিএনপি-জামায়াত ২০১৩ ও ২০১৪ সালে জাতীয় নির্বাচনে না এসে দেশে অগ্নিসন্ত্রাস করেছে। আন্দোলনের নামে নিরপরাধ মানুষ হত্যা করে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। আবারও তারা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। এটি কখনো সম্ভব হবে না। দেশের মানুষ তাদের গ্রহণ করবে না।’

 

জানতে চাইলে নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সমাবেশ করবে, এটা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু তারা বিএনপির সভা-সমাবেশ ও মিছিলে বাধা দিচ্ছে, হামলা করছে, মিথ্যা মামলা দিয়ে নেতাকর্মীদের জেলে পাঠাচ্ছে। এটি কখনো গণতান্ত্রিক আচরণ হতে পারে না। গত ১২ অক্টোবর নগরীর পলোগ্রাউন্ড ময়দানে বিএনপি মহাসমাবেশ করেছে। এতে কমপক্ষে ১০ লাখ মানুষের জমায়েত হয়েছে। একই ভেন্যুতে এটির পাল্টা সমাবেশের ডাক দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এই চ্যালেঞ্জ নেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বিএনপি সমাবেশ করেছে দলের মহাসচিবকে প্রধান অতিথি করে। কিন্তু আওয়ামী লীগ করছে তাদের সভানেত্রীকে প্রধান অতিথি করে। চ্যালেঞ্জ যদি নিতেই চায়, তাদের সাধারণ সম্পাদককে প্রধান অতিথি করে সমাবেশ করুক, তাহলে বুঝা যাবে তাদের জনপ্রিয়তা কতটুকু। তারপরও আমি বলতে চাই, ৪ ডিসেম্বর সমাবেশ করে ১০ লাখের বেশি মানুষ জমায়েত করে আওয়ামী লীগ তাদের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করুক জনগণ তাদের সাথে আছে কিনা।’

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট