চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর, ২০২২

৫ নভেম্বর, ২০২২ | ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

চিনি নিয়ে ছিনিমিনি

চিনির দাম দীর্ঘদিন ধরে ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। অথচ বিশ্ববাজারে চিনির দাম বাড়েনি। বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটে উৎপাদন ব্যাহত ও সরবরাহ ঘাটতির অজুহাতে দাম বাড়ানো হচ্ছে। তবে মিলার ও পরিবেশক সিন্ডিকেটের কারসাজিকে দায়ী করেছেন ব্যবসায়ীরা।

 

দেশের ভোগ্যপণ্যের অন্যতম বাজার খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানান, বস্তাপ্রতি ৫০ বা এক-দেড়শ টাকা করে বেড়েই চলেছে। মিল মালিক ও ডিলারদের বেঁধে দেওয়া দরে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ট্রেডিং ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা। চিনির বাজার অস্থির হয়ে উঠায় বেচাকেনা চার ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে। ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের দাবি, বিশ্ববাজারে চিনির দাম বাড়েনি। বরঞ্চ বিভিন্ন দেশে চিনির দাম কমে যাচ্ছে। কিন্তু উল্টোপথে হাঁটছে দেশীয় বাজারে।

 

গতকাল বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাইকারি মোকামে চিনির ডিও বেচাকেনা হচ্ছে মণপ্রতি ৩৭শ টাকা দরে। তাও আবার সপ্তাহখানেক পরে মিল থেকে সরবরাহ দেওয়া হবে। এসব ডিও নিয়ে মিল থেকে সরবরাহ নিতে শ্রমিক ও পরিবহন খরচ পড়বে আরও প্রায় ১০ হাজার টাকা। সবমিলে গতকাল পাইকারি মোকামে ১০৫ টাকা দরে ডিও বিক্রি হয়েছে। এর প্রভাব পড়বে খুচরা বাজারে। অতচ এক সপ্তাহ আগে তা বিক্রি হয়েছিল ৩৩৫০ টাকা দরে। সপ্তাহের ব্যবধানে মণপ্রতি ৩৫০ টাকা দাম বেড়েছে।

ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, বিশ্ববাজারে চিনির দাম বাড়েনি। দেশেও পর্যাপ্ত চিনি মজুত রয়েছে। তারপরও সরবরাহ সংকট দেখিয়ে চিনির দাম বাড়ানো হচ্ছে।

 

চিনির দাম বাড়ানোর জন্য দেশের বেসরকারি চিনি উৎপাদনকারী পাঁচ শিল্প গ্রুপ ও পরিবেশকদের দূষছেন ট্রেডিং এবং পাইকারি ব্যবসায়ীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে খাতুনগঞ্জের একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, ‘বছরখানেক আগেও অনেকের হাতে ব্যবসা বিস্তৃতি ছিল। ডিলার ছাড়াও ট্রেডিং ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা সরাসরি মিল বা কোম্পানি থেকে চিনি কিনে বাজারে বিক্রি করতেন। এখন চট্টগ্রামের চিনি একক ডিলারকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। এতে ডিলার যে দর বেঁধে দেয়, সেই দরে চিনি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। এরফলে চিনির বাজারের ঊর্ধ্বমুখী থেকে রোধ করা যাচ্ছে না।

 

গতকাল বৃহস্পতিবার খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, ষোলশহর ২নম্বর গেট কর্ণফুলী কমপ্লেক্স, জিইসি মোড় গোলপাহাড়, বহদ্দারহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় খোলা চিনি বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ১১০ টাকা দরে। গতকাল পাইকারি বাজারে দাম বাড়ানোর কারণে খুচরা বাজারে দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন ভোক্তারা।

 

ট্রেডিং ব্যবসায়ী আমান উল্লাহ পূর্বকোণকে বলেন, ‘ডলার সংকট, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ও এলসি খোলার উদ্যোগ না নিলে সংকট আরও বাড়তে পারে। এর প্রভাবে বাজার দর আরও বাড়তে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মিল গেট থেকে সরবরাহ নেওয়ার সময় কয়েকদিন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এজন্য প্রতিদিন দুই হাজার টাকা করে অতিরিক্ত গুণতে হয়।

 

পাইকারি ব্যবসায়ী আমান উল্লাহ বলেন, মানুষ এখন চিনি কেনা সাশ্রয়ী হয়েছেন। প্রয়োজনের বেশি কিনছেন না। এতে বেচাকেনা এক-চতুর্থাংশে নেমে এসেছে। ২ নম্বর গেট কর্ণফুলী কমপ্লেক্সে এক ক্রেতা জানান, দুই সপ্তাহ আগে খোলা চিনি কিনেছি ৯০ টাকা কেজিতে। এখন বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ১০৫-১১০ টাকা দরে।

 

ব্যবসায়ীরা জানান, গ্যাসের অভাব ও লোডশেডিংয়ের কারণে বাজারে চিনির সংকট দেখা দিয়েছে। খুচরা ও পাইকারি বাজারে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় দাম বাড়ছে।

বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশনের হিসাব বলছে, দেশে বছরে চিনির চাহিদা ১৮ থেকে ২০ লাখ মেট্রিক টন। তার প্রায় পুরোটায় বিদেশ থেকে আমদানি করে পরিশোধন করা হয়। ডলারের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে চিনির দাম বেড়েই চলেছে। তবে বর্তমানে বাজারে সরবরাহ ঘাটতির কারণে সংকট আরও প্রকট হয়েছে।

 

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ঢাকায় মিল মালিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘চিনির যে মজুত আছে, তা দিয়ে আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। গ্যাসের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হলেও অচিরেই সেই সমস্যা কেটে যাবে।’

 

পূর্বকোণ/আর

 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট