চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর, ২০২২

৩০ অক্টোবর, ২০২২ | ১:০৬ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ট্রানজিট পণ্যবাহী জাহাজ ১০ দিনেও ছেড়ে যেতে পারেনি

ভারতীয় ট্রানজিটের আট টনের চা পাতার চালানটি গত ১৯ অক্টোবর জাহাজে তুলে দেওয়া হয়েছিল। পরদিন ২০ অক্টোবর কলকাতার উদ্দেশ্যে যাত্রার কথা থাকলেও গতকাল ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ১০ দিনেও জাহাজটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেতে পারেনি।

গতকাল শনিবার জাহাজটির অবস্থান ছিল কর্ণফুলী নদীর নতুন ব্রিজ অংশে। এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর মেঘালয়ের ডাউকি থেকে লরিতে করে সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দরে মাসুল পরিশোধ শেষে আট টনের মতো চা-পাতার চালানটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে। পরে কাস্টমসের নিরাপত্তা পাহারায় সড়কপথে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। এরপর ট্রান্স সামুদেরা জাহাজের অপেক্ষায় বন্দরে পড়ে ছিল চালানটি।

সব মিলিয়ে গত দেড় মাস সময় ধরে চট্টগ্রামে পড়ে আছে চা পাতার চালানটি। এতে ট্রানজিটের মাধ্যমে ভারতীয় পণ্য পরিবহনে সে দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পরে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

এই চালানটি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কলকাতার শ্যামাপ্রাসাদ মূখার্জি বন্দরে পৌঁছালেই শেষ হবে চারটি ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার পরীক্ষামূলক ট্রানজিট পণ্য পরিবহন। আর এই চালানটিই হবে ভারতের মেঘালয় থেকে চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে কলকাতায় যাওয়া এই প্রথম পণ্য পরিবহন।

এখনো পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা থেকে কোনো পণ্য উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্যে (সেভেন সিস্টার) পাঠাতে গেলে সড়কপথে দীর্ঘ এবং জটিল পথ পাড়ি দিতে হয়। এতে কলকাতা থেকে আসাম বা ত্রিপুরা থেকে কলকাতায় পণ্য পরিবহন করতে গেলে প্রচুর সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছিল। এই সমস্যা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে দ্রুত-নির্বিঘ্নে পণ্য পরিবহন নিশ্চিত করতেই বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে ট্রানজিট পণ্য পরিবহনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দুটি ও মোংলা বন্দর দিয়ে দুটি ট্রানজিট চালানের পরীক্ষামূলক চলাচল শেষ হচ্ছে। এখন ট্রানজিটের রুট, ব্যয়, ত্রুটি দূর করে বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশ বসে আনুষ্ঠানিকভাবে পণ্য পরিবহন শুরুর সিদ্ধান্ত নেবে।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পণ্য সরবরাহ করতে দুদেশের মধ্যে ২০১৮ সালের অক্টোবরে একটি চুক্তি হয়। এরপর প্রথমবারের মতো ট্রায়াল রান (পরীক্ষামূলক চলাচল) হয়েছিল ২০২০ সালের জুলাইয়ে। তখন কলকাতা বন্দর থেকে পণ্যবাহী জাহাজ ‘এমভি সেঁজুতি’ চারটি কন্টেইনার নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। এর মধ্যে দুটি কনটেইনারে ছিল টিএমটি স্টিল বার, যা পরে স্থলপথে ভারতের ত্রিপুরায় যায়। বাকি দুই কনটেইনারে ছিল ডাল যা ভারতের আসামে নেওয়া হয়েছিল।

 

পূর্বকোণ/এএস

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট