চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

২৮ অক্টোবর, ২০২২ | ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ

সারোয়ার আহমদ

চট্টগ্রাম-পানগাঁও রুটে সচল হচ্ছে অচল তিন জাহাজ

প্রায় চার বছর পর চট্টগ্রাম-পানগাঁও রুটে চলাচলকারী তিন জাহাজ ফের সচল হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে কেনা এ জাহাজগুলো মাঝখানে নিলামে বিক্রি করে দেওয়ার চিন্তা করলেও পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে বন্দর। জাহাজগুলোকে ‘বিয়ার বোর্ড চার্টার্ড’ চুক্তিতে ভাড়ায় পরিচালনার জন্য দেওয়া হয়েছে সি গ্লোরি শিপিং এজেন্সিস লিমিটেডকে। নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি বন্দরের ওই তিনটি জাহাজ পরিচালনার দায়িত্ব পায়।

 

চুক্তি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি নিজ খরচে জাহাজ তিনটির সংস্কার কাজ করে লোকবল নিয়োগ দিয়ে তারাই চট্টগ্রাম-পানগাঁও রুটে পরিচালনা করবে। বিনিময়ে চট্টগ্রাম বন্দর প্রতিটি জাহাজের জন্য মাসিক সাড়ে ৭ লাখ টাকা হিসেবে বছরে তিনটি জাহাজরে জন্য ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা পাবে।

 

পানগাঁও এক্সপ্রেস, পানগাঁও সাকসেস ও পানগাঁও ভিশন নামের জাহাজ তিনটির সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানা যায়, পানগাঁও এক্সপ্রেস জাহাজটি ইতোমধ্যে নতুন রূপে চট্টগ্রাম-পানগাঁওয়ে চলাচল শুরু করেছে।

 

এরমধ্যে একটি সফল যাত্রাও শেষ করেছে। অন্যদিকে পানগাঁও সাকসেস জাহাজটির সংস্কার শেষ করে প্রথম ট্রায়ার রানের জন্য বহির্নোঙ্গরে মাদার ভ্যাসেল থেকে পাথর বোঝাই করছে। জাহাজটিকে কয়েকদিনের মধ্যে চট্টগ্রাম-পানগাঁও রুটে চলাচলের জন্য অনুমোদন দিবে বন্দর। এছাড়া পানগাঁওয়ে ভিশন নামের জাহাজটি কালুরঘাটে ডেল্টা শিপ ইয়ার্ডে সংস্কারের কাজ চলছে। আগামী সপ্তাহে সেটি পুরোপুরি চলাচলের উপযোগী হয়ে যাবে বলে জানান সি গ্লোরি শিপিং এজেন্সিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির উদ্দিন জুয়েল।

 

বর্তমানে চট্টগ্রাম-পানগাঁও রুটে বন্দরে বার্থিং শিডিউল অনুযায়ী ১৯টি জাহাজ চলাচল করে। এরমধ্যে পানগাঁও এক্সপ্রেসসহ মোট ৯টি জাহাজই এজেন্ট হিসেবে পরিচালনা করে সি গ্লোরি শিপিং এজেন্সিস। এর সাথে আরো দুটি যুক্ত হবে সহসাই। তাদের এই রুটের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী বন্দরের তিনটি জাহাজও সফলতার সাথে পরিচালনা করে বন্দরও লাভবান হবে বলে প্রত্যাশা করেন জহির উদ্দিন জুয়েল।

 

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নৌপথে নারায়ণগঞ্জের পানগাঁওয়ে পণ্য পরিবহনের জন্য ২০১১ সালে পানগাঁও কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরের নিজস্ব তহবিল থেকে ১৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় টার্মিনালটি। টার্মিনালের নির্মাণকাজ শুরুর সময় ৩২টি কোম্পানি ওই রুটে কনটেইনার পরিবহনের জন্য জাহাজ চালানোর অনুমোদন নেয়। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো কোম্পানিই ওই রুটে জাহাজ নামাতে পারেনি। তখন বন্দরের উদ্যোগে ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি জাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০১৩ সালের অক্টোবরে মালয়েশিয়ার ফেয়ার সি শিপিং থেকে কেনা ‘পানগাঁও এক্সপ্রেস’ ও ‘পানগাঁও সাকসেস’ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে। ২০১৪ সালের শুরুতে এসে পৌঁছে ‘পানগাঁও ভিশন’। প্রতিটি জাহাজের কনটেইনার পরিবহন ক্ষমতা ১২০ থেকে ১৪০ একক।

 

যাত্রা শুরুর পর ওই রুটে পণ্য পরিবহনে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আশানুরূপ সাড়া মিলছিল না। এতে অধিকাংশ সময়ই জাহাজ তিনটি বেকার বসে ছিল। একপর্যায়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ ভাড়া কমিয়ে অর্ধেক করে দেয় এরপরও সুফল মিলেনি। কিন্তু তিনটি জাহাজের মাসিক পরিচালন খরচ ঠিকই বহন করতে হচ্ছিল বন্দর কর্তৃপক্ষকে। ২০১৫ সালের ২ অক্টোবর জাহাজপ্রতি মাসিক ১৪ লাখ টাকায় সামিট গ্রুপকে তিনটি জাহাজই পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

 

কিন্তু ২০১৮ সালের এপ্রিলে অলাভজনক আখ্যা দিয়ে মাত্র ২ বছর ১০ মাসের মাথায় সামিট গ্রুপ জাহাজগুলো বন্দর কর্তৃক্ষকে ফেরত দেয়। বিপরীতে চুক্তি অনুযায়ী সব টাকা পরিশোধ না করে মাত্র এক কোটি টাকা পরিশোধ করে জাহাজ ফেরত দেয়। এরপর থেকে জাহাজগুলো কর্ণফুলী নদীতে নোঙর অবস্থায় পড়ে ছিল।

 

এরই মাঝে জাহাজ তিনটি নিলামে বিক্রির চিন্তা করা হলেও সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে বিয়ার বোর্ড চার্টার্ড চুক্তিতে ভাড়ায় দেওয়া হলো জাহাজগুলো।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট