চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর, ২০২২

২৬ অক্টোবর, ২০২২ | ১২:০৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব সংবাদদাতা, কক্সবাজার

কক্সবাজার সৈকতের ৩ কিলোমিটার লণ্ডভণ্ড

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। বালিয়াড়ি ভাঙনের পাশাপাশি ভেঙে তছনছ হয়েছে রাস্তাঘাট। সৈকত সৌন্দর্য হারিয়ে পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে। ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং পরবর্তী সৈকত দেখতে ভিড় করছেন পর্যটকরা। তবে সাগর উত্তাল থাকায় এখনও নিষেধ রয়েছে সমুদ্রস্নান। আর ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের আঘাতে ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

গতকাল (মঙ্গলবার) ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং দুর্বল হয়ে পড়লেও উত্তাপ কমেনি সাগরের। জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ২ থেকে ৩ ফুট উচ্চতায় প্রবাহিত হয়। উত্তাল ঢেউ আঘাত হানছে বালিয়াড়ি ও তীররক্ষার জিও ব্যাগে।

সৈকতের ব্যবসায়ী মফিজ মিয়া বলেন, সিত্রাং ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে ৩ কিলোমিটার সৈকতে। তলিয়ে গেছে জিও ব্যাগ। রাস্তাঘাট ভেঙে তছনছ। একই সঙ্গে ময়লায় সয়লাব সাগরপাড়। সৈকতের শৈবাল থেকে কলাতলী পর্যন্ত ব্যাপক ভাঙন হয়েছে বালিয়াড়ির। সৈকতের দরিয়ানগর এলাকায় বেশ কিছু ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। ভেসে গেছে অনেক ঘরের আসবাবপত্র। সিত্রাং পরবর্তী সাগর দেখতে ভিড় করছেন পর্যটকরা। বালিয়াড়ি কিংবা জিও ব্যাগে উঠে দেখছেন উত্তাল সাগর, তুলছেন ছবি। তবে ভয়ে কেউ নামছেন না সমুদ্রস্নানে। সিরাত আরা নামে একজন পর্যটক বলেন, ‘সাগর উত্তাল। এ কারণে সাগরে নামতে ভয় লাগছে। তাই দূর থেকে দেখে ছবি তুলছি।’

আরেক পর্যটক শফিউল আলম বলেন, ‘ সোমবার রাতে জোয়ারের পানির ভয়ে সাগর না দেখে হোটেলের রুমে চলে গিয়েছিলাম। কিন্তু মঙ্গলবার (গতকাল) সকালে সৈকতপাড়ে এসে দেখি সবকিছু তছনছ অবস্থা। সৈকতের পুরো সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে গেছে। বালিয়াড়িতে ময়লা আবর্জনায় ভরা।’

 

সি সেফ লাইফ গার্ডের ইনচার্জ মোহাম্মদ সিরু বলেন, সাগর উত্তাল হওয়ায় এখনও পর্যটকদের নামার অনুমতি নেই। তাদের সমুদ্রস্নানে নামতে দেওয়া হচ্ছে না। মাইকিং করে অনুরোধ করা হচ্ছে নির্দেশ মেনে চলার জন্য।
প্রশাসনের তৎপরতার কারণে এখানে বড় কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু সুফিয়ান।

তিনি বলেন, এটা প্রশাসনের সফলতা। তবে কুতুবদিয়া, মহেশখালী ও সেন্টমার্টিনে বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখন ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণের কাজ চলছে। দ্রুত ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কাজ শুরু করা হবে। কক্সবাজারের ৫৭৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে ওঠা এক লাখ মানুষ ফিরে গেছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট