চট্টগ্রাম বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

২২ অক্টোবর, ২০২২ | ১০:২০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

পিসিটি প্রস্তুত, জাহাজ ভিড়বে কবে

চলতি বছরের জুনে শেষ হয়েছে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের (পিসিটি) প্রকল্পের মেয়াদ। জুলাইয়ের মধ্যেই জাহাজ ভেড়ানোর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হলেও গত ৪ মাসেও সেখানে জাহাজ ভেড়ানো হয়নি। কারণ পিসিটি বিদেশি সংস্থার মাধ্যমে পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরই মধ্যে বিদেশি অনেক খ্যতি সম্পন্ন প্রতিষ্ঠান এ কাজে আগ্রহ প্রকাশ করলেও এখন পর্যন্ত নির্ধারণ হয়নি কোন সংস্থা পাবে পিসিটি পরিচালনার কাজ। এটি এখনো নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন।

 

এদিকে, পিসিটি প্রস্তুত হলেও জাহাজ না ভেড়ায় আগ্রহ হারাচ্ছে ব্যবসায়ী মহল। কারণ এই টার্মিনালে জাহাজ ভিড়বে বড় আকৃতির। ফলে সময় ও খরচ দুটিই সাশ্রয়ী হবে। তবে এখনো জাহাজ না ভেড়ানো প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম জানান, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে অপেক্ষা দীর্ঘ দিনের। ব্যবসায়ীদের দাবি ছিল দ্রুত এটি প্রস্তুত করে চালু করা হোক। বন্দর কর্তৃপক্ষ এর কাজ শেষ করলেও এখনো জাহাজ না ভিড়ায় আগ্রহ কমে যাচ্ছে। কারণ এখানে তিনটি জাহাজ ভিড়তে পারবে। তিনটি জাহাজের প্রচুর কনটেইনার থাকবে। এসব জাহাজ যদি একদিনও অপেক্ষায় না থেকে সরাসরি জেটিতে ভিড়ে তাহলে ব্যবসায়ীদের প্রচুর অর্থ সাশ্রয় হতো। তাই ব্যবসায়ীদের দাবি দ্রুত অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়া শেষ করে পিসিটি চালু করে দেওয়া হোক।

 

এদিকে পিসিটি পরিচালনার জন্য অপারেটর হিসেবে বেশ কিছু বিদেশি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখিয়েছে। এর মধ্যে সম্ভাব্য প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি), দুবাইয়ের ডিপি ওয়ার্ল্ড, ডেনমার্কের এপি মুলার ইত্যাদি। যে প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত কার্যাদেশ পাবে তারাই কনটেইনার ও শিপ হ্যান্ডলিং ইক্যুইপমেন্ট নিয়ে আসবে। ফলে বন্দরের সাশ্রয় হচ্ছে অন্তত ৫০০ কোটি টাকা।

 

এদিকে গত বুধবার পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) এর পণ্য উঠানামা কাজ পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকীকরণে আগ্রহ জানিয়ে সরাসরি বিনিয়োগ প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি) কম্পানি। এদিন সৌদি আরবের জেদ্দায় নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকে আরএসজিটি পরিচালনা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আমের এ. আলি রেজা এই প্রস্তাব দেন।

 

এমন এক সময়ে প্রস্তাবটি এলো যখন পিসিটি পরিচালনা কে করবে তা নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছিল। বিদেশি বন্দর অপারেটরদের মধ্যে দুবাইভিত্তিক ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’ নাকি সৌদিভিত্তিক ‘রেড সী’ পরিচালনা করবে তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সময় নিচ্ছিল সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব। আর এই কারণে নির্মিত হওয়ার পরও পিসিটিতে জাহাজ ভিড়ানো পিছিয়ে যায়।

 

এর আগে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল আরএসজিটি কম্পানির প্রধান কার্যালয় ও কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেন্স ও ফ্লোসহ কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন। তারা পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালকে আধুনিকীকরণে তাদের পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। বৈঠকের পর নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী জেদ্দা ইসলামিক পোর্টে আরএসজিটি কম্পানির কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

 

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অধীনে ৭টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পিসিটি নির্মাণ প্রকল্পে কাজ করছে। ১ হাজার ২৩০ কোটি টাকার এ প্রকল্পে ৬শ মিটার জেটিতে একসঙ্গে ১৯০ মিটার লম্বা ও সাড়ে ১০ মিটার গভীরতার ৩টি কনটেইনারবাহী জাহাজ ভিড়তে পারবে। ৩২ একর জমিতে নির্মাণাধীন এ প্রকল্পে কনটেইনার সংরক্ষণের জন্য ব্যাকআপ ইয়ার্ড করা হয়েছে প্রায় ১৬ একর জায়গায়। যেখানে সাড়ে ৪ হাজার একক কনটেইনার ধারণ করা যাবে।

 

বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত এ প্রকল্পে ১ লাখ ১২ হাজার বর্গমিটারের আরসিসি পেভমেন্ট (অভ্যন্তরীণ ইয়ার্ড ও সড়ক), ২ হাজার ১২৮ বর্গমিটার কনটেইনার ফ্রেইট স্টেশন (সিএফএস) শেড, ৬ মিটার উঁচু ১ হাজার ৭৫০ মিটার কাস্টমস বন্ডেড ওয়াল, ৫ হাজার ৫৮০ বর্গফুটের পোর্ট অফিস ভবন, ১ হাজার ২০০ বর্গমিটারের যান্ত্রিক ও মেরামত কারখানা তৈরি করা হচ্ছে।

 

পিসিটির জেটি নির্মাণের জন্য পাইলিংকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কাজটি করেছে সাইফ পাওয়ারটেকের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ই-ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। চীন থেকে অত্যাধুনিক পাইল ড্রাইভিং শিপ এনে টেস্ট পাইলিং করা হয়েছিল। মালয়েশিয়া থেকে ৩০-৩৮ মিটার দীর্ঘ দশমিক ৯ মিটার ব্যাসের ১ হাজার পাইল আনা হয়েছিল। এ প্রকল্পে চ্যালেঞ্জ ছিল নদীপাড়ের গুরুত্ব এয়ারপোর্ট সড়ক সরিয়ে ফ্লাইওভার চালু করা, রেড ক্রিসেন্ট, মেরিন ফিশারিজ, কাস্টম এফ ডিভিশন, ওমেরার স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া ইত্যাদি।

 

বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১৭ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পিসিটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। মাঝে করোনার কারণে কয়েক দফা বাড়িয়ে নির্মাণকাজ ২০২২ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট