চট্টগ্রাম সোমবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

২১ অক্টোবর, ২০২২ | ৪:০২ অপরাহ্ণ

বান্দরবান সংবাদদাতা

‘মাসে ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে কেএনএফের ক্যাম্পে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ’

বান্দরবান ও রাঙামাটির পাহাড়ি এলাকায় হিজরতের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে নিখোঁজ তরুণদের জঙ্গি প্রশিক্ষণ দেওয়ার খবরে অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। এ সময় সাত জঙ্গি ও কেএনএফের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা জানিয়েছে, মাসে তিন লাখ টাকা ও খাবারের বিনিময়ে কেএনএফের সঙ্গে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার চুক্তি হয়েছিল।

শুক্রবার (২১ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় বান্দরবান জেলা প‌রিষ‌দ মিলনায়ত‌নে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মি‌ডিয়া উইংয়ের প‌রিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

 

এতে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দ মারুফ আহমেদ মানিক (৩১), ছাতক উপজেলার রুফু মিয়া (২৬), পিরোজপুরের স্বরুপকাঠি উপজেলার ইমরান হোসেন সাওন (৩১), ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার কাউসার শিশির (৪৬), সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার জাহাঙ্গীর আহম্মেদ জনু (২৭), গোলাপগঞ্জ উপজেলার আবু বক্কর সিদ্দিক বাপ্পি (২৩), বরিশালের ইব্রাহিম আলী (১৯), বান্দরবানের রোয়াংছড়ি ‍উপজেলার জৌথান বম (১৯), স্টিফেন বম (১৯) ও মাল সম বম (২০)।

উদ্ধার অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে- ৯টি এসবিবিএল বন্দুক, ৫০ রাউন্ড এসবিবিএল বন্দুকের গুলি, ৬২টি কারতুজ কেইজ, ছয়টি বোমা, একটি দেশীয় তৈরি পিস্তল, লিফলেট, জিহাদি বই, পোশাক ও বিভিন্ন সরঞ্জাম।

 

র‌্যাব জানায়, জঙ্গিবাদে জড়িয়ে নতুন করে কথিত হিজরতের নামে ঘরছাড়া তরুণরা জামাতুল আনসারের হয়ে পাহাড়ি এলাকার আস্তানায় আশ্রয় নেয়। সেখানে তাদের ভারী অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। পার্বত্য অঞ্চলের প্রশিক্ষণ শিবিরে মোট প্রশিক্ষণার্থী অর্ধশতাধিক। আনিসুর রহমান মাহমুদের নেতৃত্বে ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’ নামের উগ্রবাদী সংগঠনে ছয় জন শূরা সদস্য রয়েছে। যারা দাওয়াতি, সামরিক, অর্থ, মিডিয়া ও উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছে।

তারা আরও জানায়,শূরা সদস্য আবদুল্লাহ মাইমুন দাওয়াতি শাখার প্রধান, মাসকুর রহমান সামরিক শাখার প্রধান মারুফ আহমেদ সামরিক শাখার দ্বিতীয় ব্যক্তি, মোশারফ হোসেন অর্থ ও গণমাধ্যম শাখার প্রধান, শামীম মাহফুজ প্রধান উপদেষ্টা ও প্রশিক্ষণের সার্বিক তত্ত্বাবধায়ক এবং ভোলার শায়েখ আলেম বিভাগের প্রধান হিসেবে সংগঠনটিতে দায়িত্ব পালন করছে।

 

খন্দকার আল মঈন বলেন, তারা অস্ত্র চালনাসহ সশস্ত্র সংগ্রামের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গোপনে পরিচালনার জন্য বান্দরবান ও রাঙামাটির দুর্গম এলাকাকে বেছে নেয়। এজন্য তারা স্থানীয় একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সহায়তা গ্রহণ করে। তারা পার্বত্য অঞ্চলের একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন হতে তাদের খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি অর্থের বিনিময়ে সংগ্রহ করতো। তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের সদস্যদের সাথে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যোগাযোগ করে। অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের গ্রেপ্তার তিনজন সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা কেএনএফের সামরিক শাখা কেএনএ’র সদস্য।

এ সময় একটি জঙ্গি আস্তানা ধ্বংস করা হয়েছে। তবে সেখানে তাদের আরও বেশ কয়েকটি আস্তানা থাকতে পারে বিধায় যৌথ বাহিনীর এ অভিযান থাকবে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

জানা যায়, কেএনফের প্রতিষ্ঠাতা নাথাং বমের সঙ্গে ২০২১ সালে ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’র আমিরের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরে পার্বত্য অঞ্চলের কেএনএফের ছত্রচ্ছায়ায় জামাতুল আনসারের সদস্যদের ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রতি মাসে তিন লাখ টাকা এবং কেএনএফের সব সদস্যের খাবার খরচ বহন করা হতো। উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বেচ্ছায় হিজরতের নামে সম্প্রতি বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হওয়া ১৯ জেলার ৫৫ তরুণের তালিকা প্রকাশ করে র‍্যাব। তাদের মধ্যে ৩৮ জনের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা প্রকাশ করা হয়েছে।

 

পূর্বকোণ/মিনার/এএস/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট