চট্টগ্রাম রবিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২২

২১ অক্টোবর, ২০২২ | ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বেড়েছে ব্রয়লার মুরগি, চিনি আর পেঁয়াজের দাম। চড়া শীতের সবজিও।

বাজারে স্বস্তি নেই কিছুতেই

মনির হোসেন নগরীর একটি স্বনামধন্য পোশাক কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করছেন। করোনার আগে তার একার আয়ে স্ত্রী, দুই সন্তান ও মাকে নিয়ে ভালোই চলতো সংসার। কিন্তু এখন আর তাঁর আয়ে চলে না সংসার খরচ। তাইতো উর্ধ্বমুখী দ্রব্যমূল্যের সাথে পাল্লা দিতে না পেরে স্ত্রী মাসুদা বেগমকেও পোশাক কারখানায় চাকরি করতে বলেন। তবে দু’জনের আয়েও সংসার চালানো দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের।

 

চকবাজার এলাকার বাসিন্দা আতিক হাসান চাকরি করেন একটি কনস্ট্রাকশন কোম্পানিতে। মোটামুটি ভালোই বেতন পান তিনি। তবুও যেন তাঁর একার আয়ে এখন চলে না সংসার। তাই সংসার চালাতে স্বামীকে সহযোগিতা করতে স্ত্রী আসমা আক্তার নিজেই ঘরে আরবি পড়াতে শুরু করেছেন। শুধু মনির কিংবা আতিকই নয়, এখন এক জনের আয়ে সংসার না চলায় পরিবারের অন্য সদস্যরাও খুঁজে নিচ্ছেন আয়ের বিকল্প পথ। তাইতো দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহমিনা বাবাকে সাহায্য করতে অনলাইনে শুরু করেছেন হাতে তৈরি পণ্যের ব্যবসা। আবার তার মা সাহেদা বেগম ঘরে বসেই নকশী কাঁথা সেলাইয়ের কাজ করছেন। সবারই চেষ্টা কিছুটা বাড়তি আয় আর সংসারে সংযোগিতা করা।

 

করোনা পরবর্তী এবং ইউক্রেন রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ চলায় সম্প্রতি দেশে ভোগ্যপণ্যের দাম এতোটাই বেড়ে গেছে যে শুধু নিম্ন, মধ্যম শ্রেণীর মানুষই নয়, হিমশিম খাচ্ছেন উচ্চবিত্ত শ্রেণীর মানুষও। কোনো রকমে খেয়ে-পরে জীবন বাঁচানোর এ যুদ্ধে এখন সামিল হয়েছেন ঘরের স্ত্রী, স্কুলপড়ুয়া সন্তান কিংবা পরিবারের অন্য সদস্যরাও। এমনই কিছু তথ্য পাওয়া যায় নগরীতে পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করা বাসিন্দাদের কাছ থেকে।

 

এদিকে, গতকাল নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, চার দিন আগে নতুন করে আবারো বেড়েছে পেঁয়াজ, চিনিগুঁড়া চাল এবং মুরগির দাম। পেঁয়াজ প্রতিকেজি ৪০ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫৫ টাকা। ভোজ্যতেলের দাম কেজিতে ১৪ টাকা কমানো হয়েছে ১৬ দিন আগে। কিন্তু এতো দিন পরেও বাজারে কমেনি তেলের দাম। বাজারে এখনো প্রতি লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকা এবং পলি বিক্রি হচ্ছে ১৮৮ টাকায়।

 

এছাড়াও, খোলা পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ টাকায়। প্রতি কেজি খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ৯৫ টাকায় এবং প্যাকেটজাত চিনি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহেই দাম বেড়েছে। বাজার ঘুরে আরও দেখা যায়, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে বাজার ভেদে ১৭০-১৮৫ টাকায়।

 

এছাড়া সোনালী মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৯০-৩১০ টাকায় ও লেয়ার বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়। প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫-১৫৫ টাকায়। এদিকে, অপরিবর্তিত রয়েছে মাছ ও সবজির বাজার। এ বাজারে প্রতি কেজি তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে ২০০-২৪০ টাকায়, রুই ৩০০-৩৫০ টাকায় কাতাল ২৫০-৩৫০ টাকায়, চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৫৫০-৮০০ টাকা দামে। এ ছাড়া চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সামুদ্রিক অন্যান্য মাছগুলোও।

 

চকবাজারের সবজি বাজার ঘুরে দেখা যায়, শীতকালীন সবজিতে ভরপুর বাজার। তবে এসব তাজা সবজি বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। বাজারে নতুন শিম বিক্রি ১০০ টাকায়, ফুল কপি ১০০ টাকায়, বাঁধা কপি ৪০-৫০ টাকা, মূলা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়, বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায় এবং বরবটি ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট