চট্টগ্রাম রবিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২২

২০ অক্টোবর, ২০২২ | ১২:০১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

পাঁচ বছর পর পরিবারে ফিরেছে সাথী আক্তার

পাঁচ বছর পর পরিবারের কাছে ফিরেছে সাথী আক্তার। ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে চট্টগ্রামের লালদীঘির পাড়ে জব্বারের বলিখেলার মেলায় পথ হারিয়ে রাস্তার এক পাশে বসে কান্না করছিল। এমন সময় কয়েকজন পথচারী সাথীকে নিয়ে তুলে দেয় পুলিশের হাতে। সেই থেকে আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাথীর স্থান হয় এ অভিভাবকহীন কন্যা শিশুদের রাজ্য উপলব্ধিতে। তখন মাত্র ৫-৬ বছর বয়স ছিল তার। পরবর্তীতে উপলব্ধির পরিচালক শেখ ইজাবুর রহমান তাকে নগরীর কৃষ্ণকুমারী স্কুলে ভর্তি করে।

 

বর্তমানে সে কৃষ্ণকুমারী স্কুলের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। উপলব্ধির পরিচালক শেখ ইজাবুর রহমান বলেন, আমাদের এখানে যে মেয়েগুলো আছে তাদের অনেকেরই পরিবারের খোঁজ আমরা পেয়েছি। এদের মধ্যে অনেকে তার পরিবারের কাছে ফিরেও যায়। তেমনি সাথীর পরিবারের খোঁজ পাই। তার মা ও খালা আসে। যদিও সাথীর বাবা মারা গেছে আগেই। মায়ের অন্য জায়গায় বিয়ে হয়ে যায়।

 

বেশ কিছু দিন আগে সাথী তার মায়ের কাছে বেড়াতে যায়। এখন সাথী তার পরিবারের সাথে থাকতে চাইছে। কিন্তু তার পরিবারের অবস্থা খুব একটা ভালো না। আবার যেহেতু তার মায়ের বিয়ে হয়েছে অন্য জায়গায় তাই অনেকটা অনিশ্চিত জীবনে পড়ে যাবে। এসব ভেবে তাকে আমরা এখানে রেখে দিতে চাইলাম। কিন্তু সে মাকে দেখে অনেকটা আবেগী হয়ে গেছে।

 

তাই আমরাও তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো জোর না করে সকল আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছি গতকাল বুধবার বিকেল পাঁচটায়। তবে ভবিষ্যতে যদি সে মনে করে আবার এখানে ফিরবে তার জন্য আমাদের দরজা খোলা রয়েছে। সাথীর সাথে কথা বললে সে জানা যায়, মায়ের কাছেই ফিরতে চায় সে। পড়াশোনাও করবে।

 

গতকাল বিকেল পাঁচটায় কোতোয়ালী থানায় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাথীকে তার খালা আইনুরের হাতে তুলে দেয়া হয়। সাথীর গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলার বালুচরা গ্রামে। সাথীর মা নাহানুর (টুনি) বলেন, মেয়েকে পাঁচ বছর আগে একজনের বাসায় কাজে দিয়েছিলাম। সেখান থেকে সে হারিয়ে যায়। এখন মেয়ের খোঁজ পেয়েছি। এখন আমার মেয়ে আমার কাছে থাকবে সেও আসতে চাইছে।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট