চট্টগ্রাম সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

১৬ অক্টোবর, ২০২২ | ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ

রায়হান উদ্দিন

প্রাক্তন-নবীনে মিলন উচ্ছ্বাস

বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠান। নির্ধারিত সময়ের ঘণ্টাখানেক আগেই হাজির সবাই। এত বছর পর বন্ধুদের সঙ্গে দেখা! একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরে আবেগভরা কণ্ঠে জানতে চাইছেন ‘বন্ধু কেমন আছিস?’ কয়েকজন তো আবেগে বন্ধুদের ধরে রীতিমতো কেঁদেই ফেললেন! এমনি আবেগঘন দৃশ্যের দেখা মিলেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ৫০ বছরপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবে’। শুক্রবার থেকে দুইদিনব্যাপী এই উৎসবের আয়োজন করে বিভাগটি। প্রথম দিন শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম এম এ আজিজ স্টেডিয়াম থেকে বর্তমান-প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ব্যানার-ফেস্টুন, প্লেকার্ড, ভুভুজেলা ও রং বেরঙের সাজে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়।

সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় নবীন প্রবীণের হৈ হুল্লোড়। বয়স যেন বাধা মানে না। ১১ বছরের বালক থেকে ৬০ বছরের নারীও কিশোরীর মতো নেচে গেয়ে চলছেন। র‌্যালিতে অংশ নেওয়া সবাইকে তখন মনে হয়েছে তরুণ তরুণী! এদিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন শিক্ষা-উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। উৎসবের দ্বিতীয়দিনের কর্মসূচি গতকাল (শনিবার) অনুষ্ঠিত হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে।

এদিন উৎসবে আসা বিভাগটির সাবেকদের অনেকেই এখন দেশে ও বিদেশে প্রতিষ্ঠিত। পুরোনো সব বন্ধু আর সহপাঠীকে পরস্পর জড়িয়ে ধরে আত্মহারা হয়ে যান, হাতে হাত ধরে কুশল বিনিময় করেন। অনেকে আবার পুরোনো সহপাঠীদের পেয়ে সেলফি তুলতে ব্যস্ত। কেউ কেউ অনুষদের আঙিনায় হেঁটে হেঁটে পুরোনো স্মৃতি খুঁজতে থাকেন, যেখানে বসে সহপাঠীদের নিয়ে আড্ডা দেওয়ার সব স্মৃতিচারণ করেন। হাজারো নবীন-প্রবীণের প্রাণোচ্ছল অংশগ্রহণে সবুজ প্রকৃতি আর সকাল যেন আরও চঞ্চল হয়ে ওঠে। মুখর হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ।

সবার মাঝে আনন্দের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে। প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা কালের সাক্ষী হিসেবে ও নিজের ক্যাম্পাস দেখানোর জন্য নিয়ে এসেছেন ছেলে-মেয়েকে। আবার কেউ নিয়ে এসেছেন নাতি-নাতনিদের। তেমনি একজন বিভাগটির মাস্টার্স প্রথম ব্যাচের ছাত্র কাজি আহমদ নবী। তিনি স্ত্রী, সন্তান আর দুই নাতিকে নিয়ে যোগ দিয়েছেন এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে পূর্বকোণকে বলেন, ‘সবার আগমনে মনে হচ্ছে যেন ৫০ বছর আগের সময়ে ফিরে এসেছি সেই ক্লাসরুমে, বান্ধবী ও শিক্ষকদের মাঝে। এই মিলনমেলায় এসে অনেক ভালো লাগছে, যা মুখের ভাষায় ব্যক্ত করা যাবে না।’

স্মৃতিকাতর ৭৪ বছর বয়সী কাজি আহমদ বলেন, ‘আমাদের সব বন্ধুরা তো আর আসেননি। অনেকেই মারা গেছেন। অনেকেই চলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন।’ অফিসের ব্যস্ততা ফেলে ক্যাম্পাসে এসেছেন ২৫ তম ব্যাচের সুলতানা আক্তার লিপি। তিনি জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেডের ফাইন্যান্স বিভাগের জুনিয়র অফিসার। তিনি বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল সব বন্ধুরা আবারো মিলিত হব। অবশেষে তা সম্ভব হয়েছে। এই অনুভূতি সত্যিই বলে বুঝানোর মতো নয়।’

২৭ তম ব্যাচের ছাত্র মোহাম্মদ ফয়সাল অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘জীবনের সোনালী বছরগুলো এখানে কাটিয়েছি। সুবর্ণ জয়ন্তীর মাধ্যমে সিনিয়র ও জুনিয়র ভাইদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারছি এটাই ভালো লাগছে।’ উৎসবের দ্বিতীয় দিন আলোচনা সভায় ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ও সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবের আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. হেলাল উদ্দিন নিজামীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার।

এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াশিকা আয়েশা খান (এমপি), কম্পট্রোলার এন্ড অডিট জেনারেল অব বাংলাদেশ মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, সরকারের সচিব মুহাম্মদ মোহসিন চৌধুরী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক বেনু কুমার দে। এদিন বিকেল ৪টা থেকে নগরীর জি.ই.সি কনভেনশন হলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পর্ব, ব্যান্ড দল শিরোনামহীন ও তীরন্দাজের পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট