চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর, ২০২২

১৬ অক্টোবর, ২০২২ | ১১:০১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের ৬০ শতাংশ ডেঙ্গু রোগী আক্রান্ত গত ১৫ দিনে

দিন যতই যাচ্ছে চট্টগ্রামে বাড়ছে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। গেল মাসেও দিনে রোগী পাওয়া যেত গড়ে ১০ জন। কিন্তু সে সংখ্যা চলতি মাসে এসে প্রায় পাঁচগুণে দাঁড়িয়েছে। তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি বছরে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের প্রায় ৬০ শতাংশ রোগীই শনাক্ত হয়েছে চলতি অক্টোবর মাসে।

এমন পরিস্থিতিতে একপ্রকার উদ্বিগ্ন খোদ স্বাস্থ্য বিভাগও। যদিও ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকায় সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করেছেন জেলা সিভিল সার্জন।

এদিকে, গেল একদিনে চট্টগ্রামে নতুন করে আরও ৮৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। যা চলতি বছরের মধ্যে একদিনে শনাক্ত হওয়া রোগীর মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যা এটি। এ নিয়ে মোট ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৪৫ জনে। যাদের মধ্যে ৮৫৬ জন রোগীই শনাক্ত হয় চলতি মাসের গেল ১৫ দিনে। শিশুদের মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত বাড়ছে। এরমধ্যে গত ১৩ অক্টোবর চমেক হাসপাতালে নুসরাত নামে ৯ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হঠাৎ করে ডেঙ্গু রোগীর এমন প্রকোপ বৃদ্ধিতে উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে সাধারণ মানুষকে এ নিয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১৫৭ জন। এছাড়া আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১২ জন। বাকিরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে বর্ষা মৌসূম হওয়ায় সামনের দিনগুলোতে রোগীর সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা চিকিৎসকদের।

চিকিৎসকরা বলছেন, বর্ষাকাল এলেই ডেঙ্গু রোগের জীবাণুবাহী এডিস মশার উৎপাত বাড়ে। এ সময় এই মশার দংশনে আক্রান্ত হয়ে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়। তাই এ বিষয়ে এখন থেকেই বেশি সচেতন হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

চমেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আবদুর রব মাসুম বলেন, গেল মাসেও কিছুটা সহনীয় ছিল, কিন্তু চলতি মাসেই এখন প্রতিদিন রোগী পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় জমে থাকা পানিতে এডিসের লার্ভা জন্মাচ্ছে। এ জন্য ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ডেঙ্গু। তবে এ রোগ থেকে বাঁচতে হলে অবশ্যই আমাদের সচেতন হতে হবে। মনে রাখতে হবে এখন ডেঙ্গুর প্রকোপের সময়। তাই বৃষ্টি হলেও বাসা-বাড়িসহ চারপাশের আঙ্গিনা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট