চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

১৬ অক্টোবর, ২০২২ | ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

জেলা পরিষদ নির্বাচন কাল

গোপনকক্ষের ‘ভূত’ তাড়াবে ইসি

ভোটকেন্দ্রের গোপনকক্ষে ইভিএম মেশিনে ‘ভূতের’ উপস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলে আসছে। গাইবান্ধা উপ-নির্বাচনে ভোটগ্রহণ বন্ধ করার পর জেলা পরিষদ নির্বাচনে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইসি। গোপনকক্ষের ভূত তাড়াতে ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো, অনিয়ম পেলেই ভোটগ্রহণ বন্ধ ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে ইসি।

এদিকে, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার। রিটার্নিং অফিসার ও চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান পূর্বকোণকে বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। নির্বাচন কমিশন ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ভোটের কার্যক্রম মনিটরিং করা হবে।

তিনি বলেন, ভোটগ্রহণে অনিয়ম দেখলেই ভোটগ্রহণ বন্ধ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামীকাল সোমবার চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে ভোট দেবেন সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলর এবং উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বাররা।

ভোটার সংখ্যা দুই হাজার ৭৩০ জন। ভোটকেন্দ্র ১৫টি, ভোটকক্ষ ৩০টি। আজ রবিবার প্রতিটি ১৫ ওয়ার্ডের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে মক ভোটিং অনুষ্ঠিত হবে।

রিটার্নিং অফিসার কার্যালয় জানায়, নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী এটিএম পেয়ারুল ইসলাম ও নারায়ন রক্ষিত। সাধারণ সদস্য পদে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, মিরসরাই ও আনোয়ারা ওয়ার্ডে চার প্রার্থী বিনাভোটে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। সাধারণ ওয়ার্ডে ভোট হবে আর ১১ ওয়ার্ডে। এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪৪ জন প্রার্থী। আর সংরক্ষিত সদস্য পদে লড়ছেন ২২ জন।

ছোট ভোটে বড় অভিযোগ : জেলা পরিষদ নির্বাচনে সাধারণ মানুষের ভোটারাধিকার নেই। জনপ্রতিনিধিরাই ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন। ৬৮ জন প্রার্থীর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে এক প্রার্থী ছাড়া অন্যরা সরকারদলীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। কিন্তু সংসদ সদস্যদের পছন্দনীয় প্রার্থীদের নিয়ে বেকায়দায় রয়েছেন অন্য প্রার্থীরা। তাদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা। চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীর বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ করেছেন আনোয়ার কামাল নামে এক প্রার্থী।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সদস্য পদপ্রার্থী এরফানুল করিম চৌধুরীর পক্ষে ভোটারদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে বৈঠক করেছেন এমপি নদভী। বিভিন্ন সভায় ভোট চেয়েছেন তিনি। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রিটার্নিং অফিসার ও চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এমপি নদভীকে অভিযোগের ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দিয়েছেন।

এছাড়াও চট্টগ্রাম-৮ ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী মোহাম্মদ ইউনুছ প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী বোরহান উদ্দিন মো. এমরানের বিরুদ্ধে সমর্থিতদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করেছেন। চট্টগ্রাম-১৫ লোহাগাড়া ওয়ার্ডের প্রার্থী আনোয়ার কামাল প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী এরফানুল করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ করেছেন। ইউনুছ ও কামালের অভিযোগের তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানা প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার।

গতকাল শনিবার পুলিশ কমিশনারের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেছেন ৯নং ওয়ার্ডের প্রার্থী অধ্যাপক মো. রাশেদুল হাসান। তিনি দাবি করেছেন, প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ইসলাম আহমদ বিভিন্নভাবে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দিচ্ছেন। প্রচারণা চালাতে তাকে কর্ণফুলী উপজেলায় যেতে দেননি। এমনকি তার কর্মী-সমর্থকদেরও ভয়ভীতি প্রদর্শন, পোস্টার-ব্যানার ছিড়ে ফেলেছেন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর লোকজন। এর আগে রিটার্নিং অফিসারের কাছেও অভিযোগ করেছিলেন রাশেদুল হাসান। রিটার্নিং অফিসারের ব্যাখায় ইসলাম আহমদও প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী হাসানের বিরুদ্ধে ভয়ভীতির প্রদর্শনে নিরাপত্তাহীনতার কথা বলেছেন।

 

পূর্বকোণ/আর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট