চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর, ২০২২

১৪ অক্টোবর, ২০২২ | ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ

মরিয়ম জাহান মুন্নী

‘খাদ্যে ভেজালকারীদের কঠোর সাজা দিতে হবে’

চলতি বছর (জুলাই-সেপ্টেম্বর) জেলা বিএসটিআই খাদ্যে ভেজাল মেশানোর দায়ে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করে। আর এই ছয়টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পাঁচটি হচ্ছে ঘি এবং একটি ভেজিটেবল ঘি’র। লাইসেন্স বাতিল প্রসঙ্গে গত মঙ্গলবার বিএসটিআই একটি লিখিত বিজ্ঞপ্তি পাঠায়। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্য না কেনার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু লাইসেন্স বাতিলের পরও নগরীসহ চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এসব প্রতিষ্ঠানের পণ্য এখনো বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।

জেলা বিএসটিআই অফিসের তথ্যমতে লাইসেন্স বাতিলকৃত ছয়টি প্রতিষ্ঠান হলো পশ্চিম গোমদণ্ডী বোয়ালখালী এইচ এস ফুড প্রোডাক্টস চরখিদিরপুর। পণ্যের ব্রান্ডের নাম সোনালী স্পেশাল। বাকলিয়া এম আর কনজ্যুমার প্রোডাক্টস, ব্র্যান্ডের নাম পাকোয়ান ঘি। হামজারবাগে মেসার্স যমুনা কেমিক্যাল ওয়ার্কস’ এর ব্র্যান্ড এ-৭ স্পেশাল, বায়েজিদে মেসার্স কল্পনা কমোডিটিস কোম্পানি ও কালুরঘাট এপি-১, গোল্ড ও হোমল্যান্ড ব্র্যান্ড এবং কালুরঘাট মেসার্স বিএসপি ফুড প্রোডাক্টস (প্রা.) লি. এর ব্র্যান্ডের নাম মনোরমা। এছাড়াও কালুরঘাট এলাকার ভেজিটেবল ঘি যথাযথ প্রক্রিয়ায় উৎপাদন না করায় মেসার্স বিএসপি ফুড প্রোডাক্টস (প্রা.) লিমিটেডের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

বিএসটিআই’র বিভাগীয় পরিচালক প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম বলেন, পণ্যে ভেজাল মেশানোসহ নানা রকম অসঙ্গতি পাওয়ায় চলতি বছর ছয়টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। আগামীতে এসব পণ্য মাঠে পাওয়া গেলে আমরা আইনি ব্যবস্থা নিবো। যা আদালতের মাধ্যমে বিচারাধীন থাকবে এবং অপরাধের উপর ভিত্তি করে আদালতই শাস্তি নির্ধারণ করবেন।

বিএসটিআই অফিসের তথ্য মতে, গত বছরে (জুলাই-জুন) জেলায় বিএসটিআই অফিস দুইটি লবণ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। আবার ৫৭টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স প্রত্যাখান করা হয়েছে। তবে পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পণ্যের মান উন্নয়ন করায় নতুন করে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছেন।

সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তথ্য মতে, এক বছরে (জুলাই-জুন) জেলায় বিএসটিআই ৭৬টি ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এসময় এসব প্রতিষ্ঠানকে খাবারে ভেজাল মেশানো, নোংরা পরিবেশে খাবার পরিবেশন, পঁচাবাসী খাবার পরিবেশন, নকল ঘি, হলুদ, মরিচ ও মসলার গুঁড়ায় ভেজাল মেশানোর দায়ে ১৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মামলা দায়ের করা হয়েছে ৬৯টি এবং বছরে মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে ৬৬টি।

কনজুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সভাপতি এস এম নাজের হোসের বলেন, এখন বাজারে অহরহ ভেজাল খাবার ও অনুমোদনহীন পণ্য রয়েছে। ভোক্তারা যেমন দামে ঠকছে তেমনি মানেও ঠকছে। বছরে যে অভিযান হচ্ছে এটি প্রয়োজনর তুলনায় অনেক কম। একই সাথে আইনের প্রয়োগও কম। অনেকে ভুয়া লোগো ব্যবহার করে ব্যবসা করছে। অভিযান বাড়িয়ে এদের ধরতে হবে। খাদ্যে ভেজালকারীদের কঠোর সাজা দিতে হবে।

পরিচালক প্রকৌশলী মো. নুরুল ইমলাম বলেন, আমরা জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ভেজালের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করি। চলতি মাসে চারটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এক লাখের বেশি টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে অভিযান চলবে।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট