চট্টগ্রাম শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

১৪ অক্টোবর, ২০২২ | ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ

ইমরান বিন ছবুর

করোনায় বন্ধ হয়ে গেছে ৩ হাজার কেজি স্কুল

করোনা মহামারীর গত দু’বছরে চট্টগ্রাম বিভাগে বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় তিন হাজার কিন্ডারগার্টেন (কেজি) স্কুল। যেসব স্কুল বন্ধ হয়েছে তা আর চালু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এ সময় পেশা বদলে শিক্ষকতা ছেড়েছেন প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষক।
পেশা বদলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বিভিন্ন পেশায় যোগ দেয়া এসব শিক্ষক। শিক্ষার্থী কমে যাওয়া, স্কুল মালিকরা তাদের খরচ মেটাতে না পেরে স্কুল বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানা যায়। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরো বেশকিছু কেজি স্কুল বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনার আগেও চট্টগ্রাম বিভাগে ১০ হাজারের বেশি কেজি স্কুল ছিল। যেখানে সম্পৃক্ত ছিলেন প্রায় ১ লাখ শিক্ষক। করোনার দু’বছরে চট্টগ্রাম বিভাগে প্রায় তিন হাজারের মত স্কুল বন্ধ হয়েছে। পেশা বদলেছেন প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষক। তাদের কেউ শহর ছেড়েছেন, কেউ বা অন্য পেশায় যোগ দিয়েছেন। এছাড়া, চট্টগ্রাম নগরী ও উপজেলার ২ হাজার কেজি স্কুল থেকে প্রায় ৩শ স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরো অসংখ্য স্কুল বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট কবিরুল ইসলাম বলেন, ১৯ নং দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ডে প্রায় ১৮ থেকে ২০টি কেজি স্কুল ছিল। করোনার দু’বছরে ৪টির মত স্কুল বন্ধ হয়ে যায়। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আরো দুই থেকে তিনটি স্কুল বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছি। শিক্ষার্থী কমে যাওয়ায়, স্কুল মালিকরা তাদের খরচ মেটাতে না পেরে স্কুল বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

 

বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন স্কুল এন্ড কলেজ ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান এম ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, করোনার সময় আমরা সরকারের এমপি, মন্ত্রী, সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও জেলা প্রশাসকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। আর্থিক সহযোগিতা, সহজ শর্তে ঋণ, স্কুল খুলে দিয়ে ভর্তি করানোর সুযোগসহ নানা বিকল্প চেয়েছি। কিন্তু কারো কাছ থেকে কোন সুযোগ পাইনি। ফলে স্কুল মালিকরা কেজি স্কুল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন, আর শিক্ষকরা পেশা বদলাতে বাধ্য হয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, আমাদের তথ্য মতে, চট্টগ্রাম নগরী ও উপজেলা মিলে ৩শ এর বেশি স্কুল বন্ধ হয়েছে। যেসব স্কুল বন্ধ হয়েছে তা পুনরায় চালু হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই।

বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান মো. দিদারুল ইসলাম বলেন, দেশে করোনা মহামারী শুরু হওয়ার পর সকল ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে ধীরে ধীরে আমাদের শিক্ষার্থী স্কুল ছেড়ে চলে যেতে থাকে। এসময় শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ে। অনেক কেজি স্কুল মালিক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতন বা ফি না পাওয়ায় স্কুলের ভাড়া ও শিক্ষকদের বেতন পরিশোধ করতে না পেরে স্কুল ছেড়ে দেন।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট