চট্টগ্রাম বুধবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

১০ অক্টোবর, ২০২২ | ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ

টেকনাফ সংবাদদাতা

টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমারের গোলাগুলি, আতঙ্ক

মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষ গুলি ও মর্টারের বিকট শব্দে কেঁপে উঠছে টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্ত। এতে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে জনমনে।

রবিবার (৯ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টার পর থেকে শুরু হয় গোলাগুলি। বিকট শব্দে সীমান্ত উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডসহ আশপাশের এলাকা কেঁপে উঠে। বজ্রপাতের মতো বিকট গোলার শব্দে গভীর রাতে অনেকেরই ঘুম ভেঙে যায় বলে সীমান্ত এলাকায় বসবাসরতরা জানিয়েছেন। থেমে থেমে এই প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দ রবিবার রাত ২টা থেকে আজ সোমবার সকাল ৭টা পর্যন্ত চলে।

টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের পূর্বে মিয়ানমারের তোতারদিয়া, নাইসাদং, বালুখালী, মলইরজাগা, কুয়ারবিল, কুয়ানচিবং, নাকপুরা, কুমীরখালী, শীলখালী, বলিবাজার ইত্যাদি এলাকা। সেখানে মিয়ানমার বাহিনীর বড় ধরণের ঘাঁটি আছে তোতারদিয়া, কুমিরখালী ও নাইসাদং, বলিবাজারে। সীমান্তে সারারাত থেমে থেমে গুলি ও মর্টার শেলের আওয়াজে কেঁপে উঠে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উলুবনিয়া, খারাইঙ্গাঘুনা, বালুখালীসহ টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং সীমান্তের জনপদ। মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী ও আরকান আর্মির মধ্যে চলমান সংঘর্ষের অংশ হিসাবে এটি রাতের ভয়াবহ হামলা বলে সীমান্তবাসীর ধারণা।

সীমান্তের বিভিন্ন সুত্রে সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, মিয়ানমারের নাইসাদং ও কুমিরখালী দুইটি ঘাঁটিতে মিয়ানমারের জান্তা ও বিদ্রোহী গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ঘ হয়েছে। এখান থেকে মিয়ানমারের কুমিরখালী বিজিপির ঘাঁটিতে অগ্নির কুণ্ডলী দেখা গেছে। তবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

হোয়াইক্যং ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা চৌধুরী লালু জানান, মিয়ানমারের ভিতরে গুলি ও বোমা বিস্ফোরণের বিকট আওয়াজে সর্বত্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রচণ্ড শব্দে ঘুমের শিশুরাও জেগে উঠে।

হোয়াইক্যং ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাজী জালাল আহমদ বলেন, ‘ভারী অস্ত্রের বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে উঠে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘর্ষে ছোড়া গোলাবারুদ টেকনাফের অংশে পড়েছে কিনা এবং হতাহতের তাৎক্ষণিক কোন খবর পাওয়া যায়নি। আতঙ্কে মানুষ এলাকা ছাড়ার প্রস্ততি নিচ্ছে।’

পূর্বকোণ/পিআর/এসি

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট